পৃথিবীর দিন ২৪ ঘণ্টার বদলে ২৫ ঘণ্টা হতে পারে! বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমছে। এই পরিবর্তন এতটাই ধীরগতির যে মানুষের জীবনে এর কোনও বাস্তব প্রভাব পড়ে না। ঘড়ি থেমে যাবে না, ক্যালেন্ডারও বদলাতে হবে না। পরিবর্তনটা এত সূক্ষ্ম যে বিশেষ যন্ত্রপাতি ছাড়া বোঝাই যায় না। গল্পটা দিনের নাটকীয় বদলের নয়, বরং খুব ধীর, প্রজন্ম পেরোনো সামান্য পরিবর্তনের। দৈনন্দিন জীবনে ২৪ ঘণ্টার দিন হিসেবেই সময় ধরি। সকালে ঘুম থেকে ওঠা, স্কুল, অফিস, ঘরের কাজ থেকে রাতের ঘুম, সবই এই চক্রে বাঁধা। কিন্তু বিজ্ঞানের হিসেবে ‘দিন’ একাধিকভাবে মাপা যায়। পৃথিবীর নিজ অক্ষের বিপরীতে ঘুরে সূর্যের সামনে একই অবস্থায় ফিরে আসতে যে সময় লাগে, তাকে বলে সৌর দিন ২৪ ঘণ্টার কাছাকাছি। কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে আরেক ধরনের দিনও আছে- ‘সাইডেরিয়াল দিন’। এটি দূরবর্তী নক্ষত্রকে ভিত্তি করে মাপা হয় এবং এটি সৌর দিনের তুলনায় একটু ছোট। কারণ পৃথিবী একই সঙ্গে নিজের অক্ষে ঘোরার পাশাপাশি সূর্যকে ঘিরেও ঘুরছে। সৌর দিনের দৈর্ঘ্যও স্থির নয়- মাইক্রো সেকেন্ড স্তরে এটি লম্বা বা ছোট হতে থাকে। দীর্ঘ সময়ের ধারা বলছে, পৃথিবীর দিন আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। চাঁদ পৃথিবীর মহাসাগরে জোয়ার-ভাটার টান তৈরি করে। এই জোয়ারে তৈরি হওয়া জলের ঢেউ পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রেখে চলে না। সমুদ্রতলের ঘর্ষণে সামান্য শক্তি নষ্ট হয়, আর এই শক্তি ক্ষয়ের জন্যই পৃথিবীর ঘোরা খুব ধীরে ধীরে কমছে। ক্ষয়ে যাওয়া শক্তি হারিয়ে যায় না, চাঁদের দিকে সরে যায়। ফলে চাঁদ প্রতি বছর একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তনও প্রভাব ফেলছে ঘূর্ণনে। নাসার গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১২০ বছরে বরফ গলন, ভূগর্ভস্থ জল কমে যাওয়া, সমুদ্রস্তর বৃদ্ধি- এসবের কারণে পৃথিবীর ভর-বণ্টন বদলাচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ সামান্য সরে যায়, যাকে বলে ‘পোলার মোশন’। এই পরিবর্তনও দিনের দৈর্ঘ্য খুব অল্প হলেও বাড়ায়। ২০০০ সাল থেকে বরফ গলার গতি বাড়ায় এই প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই হার অনুযায়ী ২৫ ঘণ্টার দিনে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছর অর্থাৎ ২০ কোটি বছর। যদিও বা মানুষের জীবনে বা সভ্যতার সময়সীমায় এই পরিবর্তনের কোনও বাস্তব গুরুত্ব নেই।





