অভিনব ভাবে নতুন ইংরেজি বছরকে স্বাগত জানালেন বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মা। সমাজমাধ্যমে নিজেদের বর্ষবরণের ছবি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন বিরুষ্কা। দু’জনের মুখেই রং দিয়ে আঁকা ছবি। সমাজমাধ্যমে একসঙ্গে হাসিমুখে ছবি দিয়েছেন বিরুষ্কা। কোহলির মুখের বাঁ দিকের অংশে স্পাইডার ম্যানের মুখ আঁকা। অনুষ্কার মুখের বাঁ দিকে আঁকা প্রজাপতি। পোস্টে অনুষ্কার সম্পর্কে কোহলি লিখেছেন, ‘‘আমার জীবনের আলোকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৬ সালে পা রাখছি।’’ জানিয়েছেন, খুশিমনে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাচ্ছেন। সমাজমাধ্যমে কোহলির পোস্ট ভাইরাল হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। কয়েক দিন আগেও দিল্লির হয়ে বিজয় হজারে ট্রফি খেলছিলেন কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে ভাল ফর্মে ছিলেন। দু’টি শতরানও করেছেন। সামনে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়। তাই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে খেলার মধ্যে থাকতেই ১৪ বছর পর দিল্লির হয়ে বিজয় হজারে ট্রফির ম্যাচ খেলেন। একটি ম্যাচে শতরান করেন। আর একটি ম্যাচে করেন অর্ধশতরান। যদিও বছরের শেষ দিন ওড়িশার বিরুদ্ধে খেলেননি ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ভারত-নিউ জ়িল্যান্ড তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ।
আরও একটি নতুন বছর। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে উদ্যাপন ও শুভেচ্ছা জানানো চললেও এক প্রকার ব্রাত্য থাকল ঐতিহ্যবাহী গ্রিটিংস কার্ড। ডিজিট্যাল যুগে শুভেচ্ছা জানানোর প্রধান মাধ্যম হিসাবে ভরসা মোবাইল ও ইন্টারনেট-ই। দেড় থেকে দুই দশক আগেও ইংরেজি নববর্ষ এলেই দোকান সাজত গ্রিটিংস কার্ডের পসরায়। শহরের ফুটপাথ থেকে দোকান সব জায়গাতেই সাজানো থাকত বাহারি কার্ডের পসরা। ছোট থেকে বড় তা কিনতে ভিড় জমাত দোকানে। মিকি মাউস, ডোনাল্ড ডাক, মোগলি, টম অ্যান্ড জেরি বা পরবর্তী সময়ে বেন টেন, মোটু পাতলুর মতো জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রের রঙিন ছবিতে সাজানো কার্ড ছিল বিশেষ আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে এসেছে সেই সব রঙিন দিন। এক সময় ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বর্ধমান শহরের আনাচেকানাচে ফুটপাতে বসত গ্রিটিংস কার্ডের দোকান। বিক্রিবাটাও ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন অবশ্য সবই ‘ইতিহাস’। এই প্রসঙ্গে কার্জনগেট সংলগ্ন বিসি রোডের ফুটপাতের ব্যবসায়ী সোমনাথ রায় বলেন, ‘‘এখন আর কার্ড বিক্রি হয় না বললেই চলে। নামমাত্র কয়েকটি কার্ড এ বারেও এনেছিলাম কিন্তু কেনার লোক নেই।” একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন বর্ধমান শহরের বীরহাটার একটি খাতা-পেন্সিল দোকানের মালিক তারক চন্দ্র। তাঁর কথায়, ‘‘এখন আর শুভেচ্ছা জানাতে কার্ড লাগে না। মোবাইলেই সব হয়ে যায়। তাই কার্ডের কদর নেই।” এক সময়ে ইংরেজি কার্ডকে পাল্লা দিত বাংলা গ্রিটিংস কার্ড। ভালবাসা থেকে বিশেষ দিনেও ভরসা ছিল কাগজের কার্ড। বর্তমানে ই-কার্ডের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। স্মার্টফোনে হোয়াটসঅ্যাপ, বিভিন্ন মেসেঞ্জার অ্যাপ-সহ বিভিন্ন ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে মুহূর্তের মধ্যেই পৌঁছে যাচ্ছে শুভেচ্ছা বার্তা। শুধু বড়দিন বা নতুন বছর নয় অন্যান্য উৎসবেও ই-কার্ডেই শুভেচ্ছা আদান-প্রদান হচ্ছে। আগামী দিনে আদৌ গ্রিটিংস কার্ডের ব্যবহার থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।





