কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি, রাজনৈতিক বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ নয়। সেই সব ইভেন্টগুলোয় অনেকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন, তাঁরা হ্যান্ডশেক করতে চান, জড়িয়ে ধরতে চান, সেলফি তুলতে চান, এগুলোর কোনও প্রয়োজন নেই। বলেন ভারতীয় ফুটবলের আইকন বাইটুং ভুটিয়া। লিওনেল মেসির ইভেন্ট ঘিরে কলকাতায় যে অব্যবস্থার ছবি ফুটে উঠেছে। যুবভারতীতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ বাইচুং ভুটিয়া। কলকাতা ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ক্ষোভ উগড়ে দেন ম্যানেজমেন্ট ও প্রশাসনের ওপর। তিনি বলেন, ”প্রত্যেক খেলোয়াড়কে সম্মান দিতে হবে। অনেক কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা মনে হয় কোনও স্পোর্টস ইভেন্ট হলে, তাকেই গুরুত্ব দিতে হবে। কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি, রাজনৈতিক বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ নয়। সেই সব ইভেন্টগুলোয় অনেকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন, তাঁরা হ্যান্ডশেক করতে চান, জড়িয়ে ধরতে চান, সেলফি তুলতে চান, এগুলোর কোনও প্রয়োজন নেই। আমাকেও এখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু আমি নিজেই জানিয়েছিলাম যে আমি দিল্লিতে মেসির সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমার থেকেও বেশি আমার বাচ্চারা মেসির বিরাট বড় ভক্ত। আমার ছেলে মেসিকে আদর্শ মনে করেই ফুটবল খেলছে। ওর জন্য়ই বিশেষত মেসির সঙ্গে দেখা করা। দিল্লিতে আমার ছেলে পড়াশুনো করে, তার জন্যই ওখানে গিয়েছিলাম। আমি নিশ্চিত এই ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারব। আগামীতে যদি মেসি বা ওঁর মত কোনও বড়মাপের ফুটবলার ভারতে আসেন, তাহলে যেন ম্য়ানেজমেন্ট একটু কড়াভাবে সবকিছু সামলাতে পারে।”
যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা, মেসির সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের নামের তালিকা তৈরি করেছে সিট। তালিকা ধরে নোটিস পাঠিয়ে শুরু হবে জিজ্ঞাসাবাদ, খবর সিট সূত্রে। অনলাইনে টিকিট বিক্রি সংস্থার ৩ কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিট। টিকিট বিক্রি সংস্থার সিইও, ম্যানেজার ও ডিরেক্টরকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে দিল্লি থেকে কলকাতায় আসেন আধিকারিকরা। সংস্থার সঙ্গে কার যোগাযোগ, কীভাবে ডিল, জানতে চান সিটের তদন্তকারীরা। বড় সংখ্যায় টিকিট কারা কিনেছিল, তালিকা চাওয়া হয়েছে সংস্থার কাছ থেকে। শতদ্রু দত্তকে টানা জেরা করে নতুন তথ্য পেয়েছেন সিটের তদন্তকারীরা। মেসি কাণ্ডের তদন্তকারীদের শতদ্রু বলেছেন, ‘পিঠে হাত দেওয়া, জড়িয়ে ধরা একেবারেই পছন্দ করেননি মেসি। বিদেশ থেকে আসা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন তিনি।’ বারবার ঘোষণা করেও কোনও লাভ হয়নি, জেরায় জানিয়েছেন শতদ্রু, খবর সূত্রের। সল্ট লেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসি-দর্শনের জন্য হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে মাঠে এসেছিলেন প্রচুর দর্শক। কিন্তু মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় বেনজির বিশৃঙ্খলা। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রথম থেকে মেসির গায়ে আঠার মতো সেঁটে ছিলেন। মেসির কোমর ধরে ছবি তোলেন অরূপ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়-পরিজন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পরিচিতির অনেককেই মেসির সঙ্গে ছবি তুলিয়ে দিয়েছিলেন অরূপ। প্রবল সমালোচনার ঝড়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অরূপ। শতদ্রুপ এবার জেরায় জানালেন যে, মেসিকে যেভাবে জড়িয়ে ধরা হয়েছিল, তা একেবারেই পছন্দ করেননি বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি।
এদিকে মন্ত্রী সুজিত বসুর মুখে অন্য কথা। মেসির কলকাতা সফর কলঙ্কিত দুই মন্ত্রীর হ্যাংলামির কারণে! হায়াত রিজেন্সি অধ্যায়ে সুজিত রাজ? তেমনই যুবভারতী অধ্যায় জুড়ে রাজ্যের অপর মন্ত্রী অরূপের তাণ্ডব।
মেসির কলকাতা সফরের হায়াত রিজেন্সি অধ্যায়ে যেমন সুজিত ছিলেন, তেমনই যুবভারতী অধ্যায় জুড়ে ছিলেন রাজ্যের অপর মন্ত্রী অরূপ। যুবভারতীকাণ্ড ঘিরে বিতর্কের আবহে ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়েছেন অরূপ। যদিও অন্য দফতরের দায়িত্ব থাকায় রাজ্যের মন্ত্রিসভায় তিনি এখনও রয়েছেন। যুবভারতীতে তাঁকে দেখা না-গেলেও ওই দিনের তাণ্ডব নিয়ে রবিবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সুজিতকে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দমকলমন্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখনই কিছু বলব না। কারণ সরকার একটি অনুসন্ধান কমিটি করেছে। অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট বার হোক। কোথায় ভুল, কোথায় ঠিক হয়েছে তা অনুসন্ধানের রিপোর্ট বলবে। এই বাংলায় অনেক বড় বড় জিনিস হয়েছে, হবে। আমাদের সরকারের আমলেও অনেক বড় বড় ইভেন্ট হয়েছে। মেসির সফরে স্টেডিয়ামে যে প্রবলেম হয়েছে, সেটা নিয়ে তো দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী কমিটি করে দিয়েছেন। ওই নিয়ে কিছু বলব না।” শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে লিয়োনেল মেসির মূর্তি নিয়ে এ বার মুখ খুললেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মন্ত্রীর দাবি, ওই মূর্তিটি ভাল লেগেছিল ফুটবল তারকার। মেসি নিজে ওই মূর্তির প্রশংসা করেছেন বলে দাবি সুজিতের। মেসির কলকাতা সফরের পর আট দিন অতিক্রান্ত। রবিবার মেসি-মূর্তি নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি যুবভারতীকাণ্ড নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হল মন্ত্রী সুজিতকে। মেসির কলকাতা সফরের দ্বিতীয় অধ্যায় ছিল যুবভারতীকাণ্ড। তার আগে বাইপাসের ধারে হায়াত রিজেন্সি হোটেলে ছিল ফুটবলতারকার কলকাতা সফরের প্রথম অধ্যায়। মন্ত্রী সুজিতকে যুবভারতীতে দেখা না গেলেও, হোটেলের ‘দখল’ ছিল তাঁরই হাতে। সেখান থেকেই নিজের ক্লাব শ্রীভূমির সামনে মেসির ৭০ ফুটের মূর্তি উন্মোচন করান তিনি। বস্তুত, মেসির সফরকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই এই মূর্তিটি তৈরি করানো হয়েছিল। আর্জেন্টিনীয় ফুটবলতারকার ওই মূর্তির মুখের গড়ন ঘিরে নেটমাধ্যমে সমালোচনা হয় বিস্তর। এ বার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন সুজিত। মূর্তি ঘিরে সাম্প্রতিক সমালোচনা। ফুটবলতারকার সফরের হায়াত রিজেন্সি অধ্যায়ে সর্বক্ষণ জুড়ে থাকা দমকলমন্ত্রী সুজিত জবাবে বলেন, “স্ট্যাচুটা ওঁর (মেসির) ভাল লেগেছে। উনি প্রশংসা করেছেন। (স্ট্যাচু নিয়ে) প্রশ্ন কেউ করেননি। দুই-একজন নিন্দুকে সব সময়েই (প্রশ্ন) করেন। কিন্তু মেসি নিজে ওটার প্রশংসা করে এক-দুই নম্বরে ওই ছবিটা রেখেছেন।” মেসি ভারত সফরশেষে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন নিজের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলে। ওই ভিডিয়োয় একেবারে শুরুতেই রয়েছে শ্রীভূমির সামনে ওই ৭০ ফুটের মূর্তির দৃশ্য। আর্জেন্টিনীয় ফুটবলতারকা এক-দুই নম্বরে ছবিটি রেখেছেন বলে সুজিত ওই ভিডিয়োর কথাই বলতে চেয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।




