Wednesday, July 1, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভারত!‌ ‘দীপুর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই’! বিবৃতি নয়াদিল্লির

ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে খুন। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যু। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রবিবার বাংলাদেশ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। পড়শি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিয়েও ঢাকাকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল ভারত। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। সরকারি ভবন, সংবাদপত্রের দফতরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের উপর নৃশংস অত্যাচারের খবরও প্রকাশ্যে আসছে। ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দীপুর হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানাল ভারত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে নিবিড় ভাবে নজর রেখেছে ভারত। সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আধিকারিকেরা যোগাযোগ রাখছেন। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, তা তাঁদের জানানো হয়েছে। দীপুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ভারত সেই আবেদন জানিয়েছে।’’ ময়মনসিংহের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে শনিবার এক দল যুবক বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। কয়েকটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে তা নিয়ে ভুয়ো এবং অতিরঞ্জিত খবর প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে রণধীর বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের একাংশের মধ্যে আমরা ভুয়ো প্রচার দেখতে পাচ্ছি। সত্যিটা হল, শনিবার নয়াদিল্লির বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে ২০-২৫ জন যুবক জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা ময়মনসিংহে দীপুর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং স্লোগান দেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানান। দূতাবাসে জোর করে প্রবেশের কোনও চেষ্টা করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের কিছু ক্ষণের মধ্যেই সরিয়ে দেয়। এর ফুটেজ প্রকাশ্যেই রয়েছে।’’ ভারতের মাটিতে অবস্থিত যে কোনও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নয়াদিল্লি বদ্ধপরিকর, জানিয়েছেন রণধীর। ময়মনসিংহে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ২৭ বছরের দীপু। কাজ করতেন একটি পোশাকের কারখানায়। বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অশান্তির বলি হন দীপু। অভিযোগ, উন্মত্ত জনতার হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তার পর প্রকাশ্যেই তাতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে দীপুকে খুনের ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বিবৃতি দিয়ে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। পৃথক বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের পুলিশও। এই হত্যাকাণ্ডের পর সে দেশের সংখ্যালঘুরা আতঙ্কিত। ভারত তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করে।

রবিবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করা হল চট্টগ্রামের ভারতের ভিসা আবেদন কেন্দ্র আইভ্যাক বা ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার। রবিবার আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারি না করা পর্যন্ত এই পরিষেবা চট্টগ্রামে বন্ধ থাকবে। দফতর যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে, তা-ও জানানো হয়েছে ওয়েবসাইটে। গত সপ্তাহে ঢাকার দফতর বেলা ২টোর সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার আইভ্যাকের তরফে তাদের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনে এএইচসিআই সম্প্রতি যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে, তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারি না করা পর্যন্ত এই পরিষেবা বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরে সেইমতো ভিসা আবেদন কেন্দ্র আবার খোলার কথা ঘোষণা করা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পরিস্থিতি। ওই রাতে বিভিন্ন এলাকায় ভারতের উপদূতাবাস ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করে গণ অধিকার পরিষদ। ‘বিডিনিউজ ২৪’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সে সময় কয়েক জন চট্টগ্রামের খুলসীতে ভারতীয় উপ হাইকমিশনের সমানে অবস্থান বিক্ষোভ করেন। অভিযোগ, সেখানে বসেই আওয়ামী লীগ এবং ভারত-বিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়। ভারতীয় উপ-হাইকমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। উত্তেজনা ছড়ায় সিলেটেও। তার পরেই রবিবার চট্টগ্রামের ভিসা কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে আইভ্যাক। বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ ভারতে চিকিৎসা করাতে আসেন। ভিসা পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়তে পারেন। বাংলাদেশে বেড়েছে অপরাধ! ধরপাকড়, অভিযানে কি আইনশৃঙ্খলা ফিরবে? বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। গত বুধবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার যমুনায় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বেলা ২টোর সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন বাংলাদেশের গণআন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি কর্মসূচির ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাই কমিশন’ কর্মসূচি ছিল। তবে পরের দিন, বৃহস্পতিবার আবার সেই পরিষেবা চালু করা হয়। গত বুধবার বাংলাদেশের দুই শহর রাজশাহী এবং খুলনায় ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরের দিন থেকেই তা খুলে যায়। গণ অধিকার পরিষদ ভারতীয় উপদূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করার পর থেকেই সতর্ক বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন। ওই সব অঞ্চলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল থেকে সিলেটের ভারতীয় উপদূতাবাসের পাশাপাশি সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবন এবং শোভনীঘাট এলাকার ভিসা আবেদন কেন্দ্রেও বসানো হয়েছে কড়া প্রহরা। এই আবহে রবিবার ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করল আইভ্যাক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles