‘‘বিহারে জঙ্গলরাজ উপড়ে দিয়েছে বিজেপি। ২০ বছর পরেও বিজেপিকে আগের থেকে বেশি সিট দিয়েছে। এখন পশ্চিমবঙ্গেও মহাজঙ্গলরাজ চলছে। এর থেকে মুক্তি দরকার। এখানকার পশ্চিমবঙ্গ, এখানকার বাচ্চারাও বলছে। সব গ্রাম, শহর, পাড়া বলছে, বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই। মোদী আপনাদের জন্য আরও অনেক কিছু করতে চায়। নিজেকে সমর্পিত করে কাজ করতে চায়। টাকা, যোজনা, ইচ্ছা কিছুরই কমতি নেই। কিন্তু এখানে এমন সরকার, যারা সারা ক্ষণ কমিশন চায়। এখনও পশ্চিমবঙ্গে বিকাশের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আটকে। বিজেপিকে একটা সুযোগ দিন। ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়তে দিন, দেখুন কত দ্রুত উন্নয়ন হয়। গো ব্যাক অনুপ্রবেশকারী বলা উচিত। কিন্তু গো ব্যাক মোদী বলে ওরা। অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ওরা কিছু বলে না। চুপ করে থাকে। যে অনুপ্রবেশকারীরা বাংলা কব্জা করবে বলে স্থির করেছে, তাদেরই পছন্দ তৃণমূলের। এটাই তৃণমূলের আসল চেহারা। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে বাংলায় এসআইআরের বিরোধ করছে। ত্রিপুরা দেখুন। সেখানে কমিউনিস্ট, বামপন্থীরা ৩০ বছর বরবাদ করেছিল। ত্রিপুরাবাসী আমাদের সুযোগ দিয়েছে। আমরা উন্নয়ন করেছি। বাংলাতেও হয়েছে লাল ঝন্ডাধারীদের থেকে মুক্তি। আশা ছিল, ভাল কিছু হবে। তৃণমূল বামপন্থীদের খারাপ গুণ, খারাপ লোকেদের গ্রহণ করে নিয়েছে। তাই আরও খারাপ হয়েছে। বাংলার এমন সরকার দরকার, যারা দ্রুত গতিতে উন্নয়ন করবে। যখন ওখানে নিজে যাব, আরও কথা বলব। আজ আবহাওয়া বাদ সেধেছে। আমি ওই নেতাদের মতো নই, যাঁরা আবহাওয়াতেও রাজনীতির রং চড়িয়ে দেন। আমি বার বার আসব। আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করতে, আপনাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে আসব।নিজের দুঃখ প্রকাশ করতে চাই বাংলার মানুষের কাছে। মন থেকে বলছি, আপনাদের কথা ভেবে বলছি, তৃণমূল মোদীর বিরোধ করতে চাইলে, করুক। হাজার বার করুক। বিজেপির বিরোধ করতে চাইলে করুক। বার বার করুক। কিন্তু বুঝতে পারি না, রাজ্যের উন্নয়ন কেন আটাকানো হচ্ছে? মোদীর বিরোধ করুন, কিন্তু বাংলার মানুষকে নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না। তাঁর স্বপ্ন ভেঙে দেবেন না। এ রাজ্যের মানুষকে দুঃখ দিয়ে পাপ করবেন না।কিছু দিন আগে জিএসটি বাঁচানোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। দেশবাসী যাতে সঠিক দামে জিনিস কিনতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করেছে বিজেপি সরকার। দুর্গাপুজোর সময়ে রাজ্যবাসী খুব কেনাকাটা করেছেন। রাজ্যে দু’টি বড় সড়ক প্রকল্প হয়েছে। তাতে কলকাতা এবং শিলিগুড়ির সংযোগ বেড়েছে। দেশ এখন বিকাশ চায়। গত মাসে বিকাশের জন্যই বিহারে এনডিএ সরকার জনাদেশ পেয়ে জয়ী হয়েছে। তার পরে বলেছিলাম, গঙ্গাজি বিহার থেকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছোয়। গঙ্গা বাংলাতেও বিজেপির জয়ের রাস্তা তৈরি করেছে।বাংলা ভাষা ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বন্দে মাতরম সে রকমই। তার সার্ধ শতবর্ষের উৎসব গোটা দেশে পালন করা হচ্ছে। সম্প্রতি সংসদে বন্দে মাতরমের গৌরবগান হয়েছে। এই বাংলাতেই জন্মেছেন মহান ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যখন দেশ পরাধীন, তখন ঋষি বঙ্কিমবাবু বন্দে মাতরমের মাধ্যমে স্বাধীনতার মন্ত্র দিয়েছিলেন। নতুন চেতনা তৈরি করেছিলেন। এখন বিকশিত ভারতের প্রেরণা বন্দে মাতরম। সে জন্য বিজেপি সরকার নতুন নীতি নিচ্ছে।’’
নদিয়ায় নতুন সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত করবেন বলে জানিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘‘ জয় নিতাই, বড়রা প্রণাম নেবেন। সকলকে শুভেচ্ছা। ক্ষমাপ্রার্থী, আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে আপনাদের কাছে পৌঁছোতে পারিনি। কুয়াশার কারণে সেখানে কপ্টার নামার পরিস্থিতি ছিল না। তাই টেলিফোনে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। এখানকার মানুষ অনেক দিন বঞ্চিত ছিলেন। এই সড়ক তৈরি হওয়ায় নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মানুষজনের লাভ হবে। কলকাতা থেকে শিলিগুড়িতে পৌঁছোতে আগের থেকে দু’ঘণ্টা কম সময় লাগবে। এতে অর্থনীতির উন্নয়ন হবে। নদিয়া সেই ভূমি, যেখানে প্রেম, করুণা, ভক্তির রূপ হিসাবে চৈতন্যদেবের জন্ম হয়েছে। নদিয়ার গ্রামে গ্রামে কীর্তনের সুর উঠত, ঐক্যের সুর বাজত।’’ এর পরে বাংলায় তিনি বলেন, ‘‘হরিনাম দিয়ে জগৎ মাতালে আমার একলা নিতাই। সমাজকল্যাণের এই নৌকাকে মতুয়ারা আগে নিয়ে গিয়েছেন। হরিচাঁদ ঠাকুর কর্মের মর্ম বুঝিয়েছেন। গুরুচাঁদ ঠাকুর কলম ধরিয়েছেন। বড়মা মাতৃত্ব বর্ষণ করেছেন। সকলকে প্রণাম।’’




