টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতা ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২১ ডিসেম্বর। টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে-র একাধিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল কলকাতায়। টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতা ম্যারাথনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ভারতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া, টলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় এবং পর পর ২ বছর রুপো জয়ী অলিম্পিয়ান কেনি বেডনারেক। কলকাতায় কেনি বেডনারেক। জি ডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশন স্কুলে টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতা ম্যারাথন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পদকজয়ী অলিম্পিয়ান। সেই স্কুলে বাচ্চাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটান। তাদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথোপকথন। ২০২০ অলিম্পিক গেমসে ২০০ মিটারে দৌড়ে যে রুপোর পদক জিতেছিলেন সেই পদকটি তিনি নিজের সঙ্গেই নিয়ে এসেছিলেন। ১৪ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১৯ সালে, ইন্ডিয়ান হিলসের প্রতিনিধিত্ব করার সময়, তিনি ২০০ মিটারে ১৯.৪৯ সেকেন্ড সময় শেষ করেছিলেন। তাঁর সাফল্য আসে টোকিও ২০২০ অলিম্পিক্স গেমসে, যেখানে তিনি ২০০ মিটারে রুপোর পদক জিতেছিলেন। ২০২২ বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে, তিনি এই কৃতিত্বটির পুনরাবৃত্তি করেন এবং ২০০ মিটারে আরও একটি রুপোর পদক অর্জন করেন। কেনি ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে ২০০ মিটার দৌড়েও রুপোর পদক অর্জন করেন। কেনি বেডনারেক অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের জানান “আমি দ্বিতীয়বার ভারতে এসছি। আমি খুব খুশি এখানে এসে। ম্যারাথনের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেও আমি খুব আনন্দিত। আমি বলব সবাই অংশগ্রহণ করুন এই ম্যারাথনে। আমি জানি নীরজ চোপড়া অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। এটা দেশের জন্য গর্ব। যখন জ্যাভেলিন থ্রো হয় তখন আমি ট্র্যাকেই ছিলাম। জানতাম না জ্যাভেলিনটা কোথায় গিয়ে পড়বে। আমি চেষ্টা করব অলিম্পিকে এবার আমার মেডেলের রং বদলানোর। ২ বার রুপো পদক জয়ী হয়েছি এবার চেষ্টা করব সোনার পদক জিততে। কলকাতায় এসে ভারতীয় অ্যাথলিটেক্সের উন্নয়নের দিশা বাতলে দিলেন কেডি বেডনারেক। টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে শহরে পা রেখেছেন ২০২১ ও ২০২৪ অলিম্পিক্সের রুপোজয়ী স্প্রিন্টার। শনিবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মার্কিন দৌড়বিদ এও জানিয়ে দিলেন, প্রয়োজনে ভারতীয় অ্যাথলিটদের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিতে বা মেন্টরের ভূমিকা গ্রহণে প্রস্তুত৷

সক্রিয় হিসেবে বিশ্ব অ্যাথলিটেক্সের এত বড় কোনও নাম এর আগে টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড 25কে কলকাতার দূত হয়ে আসেননি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ছক ভাঙলেন বেডনারেক। অলিম্পিক্সে পোডিয়াম শীর্ষে ফিনিশ না-করতে পারলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এসেছে তাঁর ঝুলিতে। কলকাতায় পা রেখে আগামী অলিম্পিক্সেও পদকের রং বদলানোর ইচ্ছে প্রকাশ করে বছর সাতাশের স্প্রিন্টার বলেন, “এবার চেষ্টা করব সোনার পদক জেতার। খেলাধুলো নিয়ে ভারতের প্যাশন সন্দেহাতীত। তা সে অ্যাথলেটিক্স হোক, ফুটবল হোক, ক্রিকেট হোক কিংবা দূরপাল্লার দৌড়। খেলাধুলোয় এদেশের মানুষের ভালোবাসা সত্যিকারের। খেলাধুলো কীভাবে মানুষকে একত্রিত করে এই ইভেন্টই তার প্রমাণ। দ্রুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের পুরনো জায়গায় ফিরে আসছে৷ আসন্ন অলিম্পিক্সেই হয়তো সেই দাপট দেখা যাবে৷ মানসিক স্থিতি সাফল্যের জন্য ভীষণ জরুরি৷ হতে পারে তুমি ভীষণ প্রতিভাবান এবং শারীরিকভাবে দারুণ সক্ষম৷ কিন্তু দৌড়ের দিন যদি মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকাটাই আসল৷ দৌড়ে ৯০ শতাংশই হচ্ছে মানসিক স্থিতি৷ পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা, বিশ্বাস এবং রিকভারি সর্বোচ্চ স্তরে টানা সাফল্যের নেপথ্য কারণ বলে মনে করেন বেডনারেক। এটা নিছক দৌড় নয়, এটা উদযাপন৷ পেশাদার-অপেশাদার এবং প্রথমবার যাঁরা দৌড়চ্ছে সকলকে একসঙ্গে একই রাস্তায় দৌড়তে দেখার বিষয়টা বেশ আকর্ষণীয়। আমি সত্যিই রবিবার এই অভিজ্ঞতা নিতে এবং রানারদের উৎসাহিত করতে মুখিয়ে রয়েছি”।




