নাটক চলছে! পুরোটাই তৃণমূলের নাটক। “যুবভারতীর নিন্দনীয় বিশৃঙ্খলের ঘটনায় সম্পূর্ণ তৃণমূল দল যুক্ত। শুধু একজন ক্রীড়ামন্ত্রীকে পদত্যাগ করিয়ে সাজানো নাটক চলছে।”বললেন শমীক ভট্টাচার্য্য। যুবভারতীতে মেসির ইভেন্টে যে চরম বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তারই জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি মোটেও বিশৃঙ্খলার দায় নিজের ঘাড়ে নেননি, তবে চিঠিতে জানিয়েছেন, যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চাইছেন। যুবভারতীতে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা নিয়ে শমীক পুলিশ ও রাজ্যের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে? আয়োজকদের, যারা টিকিট কিনে স্টেডিয়ামে গেছিল তাঁদের গ্রেফতার করেছে। যুবভারতীকাণ্ডে ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে ক্রীড়া দফতর নিজের হাতে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছেন মানে তাঁরা যোগ্য, তাঁরা সরকারি চাকরি করেন, উচ্চশিক্ষিত ছেলেরা, বিচারবিভাগীয় হেফাজতে আছেন তাঁরা। কিন্তু যারা প্রাতিষ্ঠানিক লুট করল তারা কোথায়?’ মূলত নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন অরূপ। তবে এই গোটা বিষয়টি নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না।’ বুধবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সাম্প্রতিককালে তৃণমূল কংগ্রেসসর্বশেষ যে নাটক উপস্থাপিত করেছে সেটি লিওলেন মেসি। আমাদের ক্রীড়ামন্ত্রী আবেগতাড়িত বাংলায় একটি পদত্যাগপত্র দিয়ে দিয়েছেন।’ তাঁর দাবি, তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছেন, সেটা যদি ঢেকেও ফেলতে পারেন, শাক ঢাকতে পারবেন না।” যুবভারতীতে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা নিয়ে শমীক পুলিশ ও রাজ্যের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে বলেন, “কাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে? আয়োজকদের, যারা টিকিট কিনে স্টেডিয়ামে গেছিল তাঁদের গ্রেফতার করেছে। ডিজিকে তো পরিচালনা করে সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরা মেসিকে ঘিরে রেখে দিয়েছিল, কোনও পুলিশের ক্ষমতা ছিল, সেখানে যাওয়ার!”

যুবভারতী স্টেডিয়ামের বিশৃঙ্খলার ঘটনায় শোকজের জবাব দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, ক্রীড়া দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহা। সূত্রের খবর, বিধাননগর পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমারও জবাব দিয়েছেন। তিন পদস্থ কর্তাকে শোকজ করেছিল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিহি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটির কাছে নিজেদের লিখিত বয়ান জমা দিয়েছেন রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের তিন শীর্ষ কর্তা। সূত্রের খবর, শোকজের জবাবে ক্রীড়া সচিব রাজেশ কুমার সিনহা লিখেছেন, মেসির অনুষ্ঠানে নিয়ে যেমন পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে মূল অনুষ্ঠানের মিল ছিল না। যেমন হওয়ার কথা ছিল তেমনটা হয়নি। পরিবর্তন করা হয়েছে উদ্যোক্তা সংস্থার তরফে। যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার জন্য সরাসরি আয়োজক শতদ্রু দত্তর গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন ক্রীড়া সচিব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এও জানা যাচ্ছে যে শোকজের জবাবে ক্রীড়া সচিব নাকি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ওই অনুষ্ঠানের সর্বোপরি ব্যবস্থাপনা এবং আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব ক্রীড়া দফতরের ছিল না। শোকজের জবাব ডিজি রাজীব কুমার কী লিখেছেন তা স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে রাজীব কুমার উত্তর দেননি। প্রতিক্রিয়া মেলেনি বিধাননগরের সিপি মুকেশ কুমারেরও। যুবভারতীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। কিন্তু মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যেই নিরাপত্তাজনিত কারণে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের ভিড়ে দর্শকরা মেসিকে ঠিকমতো দেখতেই পাননি। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় বহু দর্শককে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পরই আয়োজক শতদ্রুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। মঙ্গলবার তিন কর্তাকে শোকজও করে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। তিন কর্তা শোকজের জবাব দিলেন। এখন দেখার, তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করে।




