প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত বাংলার। ৬ পয়েন্ট ঘরে তুলতে হলে শেষ দিন দায়িত্ব নিতে হবে সামি, শাহবাজ়দেরই। গুজরাতকে জয়ের জন্য ৩২০-৩২৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে ইনিংস ছেড়ে দিতে পারে বাংলা। মঙ্গলবার বাকি দায়িত্বটা বোলারদের। ইডেনে খেলা দেখতে এসেছেন জাতীয় নির্বাচক আরপি সিংহ। সামি তাঁর মাধ্যমে দৃঢ় বার্তা দিতে পারেন আগরকরকে। আকাশদীপ, ঈশান পোড়েল, সুরজেরা ভালো বল করতে পারলে ত্রিপুরার বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারবেন ঈশ্বরণেরা। ইনিংস ডিক্লেয়ার করা নিয়ে গড়িমসি! ইডেনে বাংলার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন? প্রথম ইনিংসে বাংলার তোলা ২৭৯ রানের জবাবে মাত্র ১৬৭ রানে গুটিয়ে যায় গুজরাতের প্রথম ইনিংস। ১১২ রানের লিড নেয় বাংলা। ২৮২ রানের পুঁজি। বোলিং বিভাগে মহম্মদ সামি, আকাশ দীপ। দুজনেই ভারতীয় দলে খেলা তারকা পেসার। সঙ্গে ঈশান পোড়েল, সূরয সিন্ধু জয়সওয়াল। বাঁহাতি স্পিনার শাহবাজ আমেদ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেন। গুজরাতের বিরুদ্ধে আরও লিড চায় বাংলা শিবির! ম্যাচের বাকি আর মাত্র একদিন। রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ সি-তে সার্ভিসেস ১৩ পয়েন্ট ও হরিয়ানা ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার প্রথম দুই জায়গা দখলে। গুজরাতকে সরাসরি হারিয়ে ৬ পয়েন্ট পেলে বাংলা নক আউটে ওঠার দৌড়ে সমানে সমানে টক্কর দেওয়ার জায়গায় থাকবে। গুজরাতকে অল আউট করা যাবে কি না, ধন্দে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা। গুজরাতের বিরুদ্ধে নিজেরাই আরও ব্যাটিং করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বাংলা! বাংলা দলের রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন। প্রথম ইনিংসে বাংলার তোলা ২৭৯ রানের জবাবে মাত্র ১৬৭ রানে গুটিয়ে যায় গুজরাতের প্রথম ইনিংস। ১১২ রানের লিড নেয় বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসে সোমবার তৃতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ১৭০/৬। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রান করা সুদীপ ঘরামির কথায় ‘আমরা ৩২০ রান মতো লিড নিতে চাই। তারপর ৬ পয়েন্টের চেষ্টা করব।’ কেন সোমবারই ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করা হল না? বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বললেন, ‘উইকেট থেকে বোলাররা দারুণ কোনও সাহায্য পাচ্ছে না। ওদের দশ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং রয়েছে। তিন পয়েন্ট আগে নিশ্চিত করতে চাই। কোনও ঝুঁকি নিতে চাই না।’ ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা যোদ্ধা সুলভ ভাবমূর্তি থেকে আখেন কোচ হিসাবে সাবধানী? প্রথম ইনিংসে গুজরাতের অধিনায়ক মনন হিংরাজিয়ার ৮০ রান ছাড়া যেখানে গুজরাতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার করেছিলেন ১৯ রান, সেই দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে এত উৎকণ্ঠা! ৬ পয়েন্ট হবে কি না, নিশ্চয়তা নেই। রক্ষণাত্মক বাংলা তিন পয়েন্ট আগে নিশ্চিত করতে চাইছে। প্রথম ইনিংসে ২৭৯ রান করায় ১১২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলা। সুদীপ কুমার ঘরামি (৫৪) এবং ঈশ্বরণের (২৫) প্রথম উইকেটের জুটিতে ওঠে ৫৫ রান। নতুন বলের পালিশ তাঁরা তুলে দিলেও বাংলার অধিকাংশ ব্যাটার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না। কাজ়ি সইফি (১), অভিষেক পোড়েল (১), সুমন্ত গুপ্তেরা (১১) দাঁড়াতে পারলেন না। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে রান পেলেন না শাহবাজ (২০)। অভিজ্ঞ অনুষ্টুপ (অপরাজিত ৪৪)।
এদিকে, দল বদলে ফর্মে পৃথ্বী শ। গত বছর পর্যন্ত খেলতেন মুম্বইয়ের হয়ে। চলতি মরসুমের আগে মুম্বই ছেড়ে মহারাষ্ট্রে যোগ দিয়েছেন পৃথ্বী। নতুন দলের হয়ে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে দ্বিশতরান করেছেন তিনি। রঞ্জির ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম দ্বিশতরান করেছেন পৃথ্বী। চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে মাত্র ১৪১ বলে দ্বিশতরান করেছেন এই ওপেনিং ব্যাটার। চণ্ডীগড়়ের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮ রান করেছিলেন পৃথ্বী। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকে হাত খুলতে শুরু করেন তিনি। প্রতি ওভারে বড় শট মারছিলেন। ৬২ বলে করেন শতরান। ২০০ করতে নেন ১৪১ বল। শেষ পর্যন্ত ১৫৬ বলে ২২২ রানে আউট হন পৃথ্বী। ইনিংসে ২৯টি চার ও পাঁচটি ছক্কা মারেন। ত্রিশতরানের সুযোগ ছিল পৃথ্বীর। কিন্তু চালিয়ে খেলতে গিয়ে আউট হয়ে ফেরেন। রঞ্জিতে দ্রুততম দ্বিশতরানের রেকর্ড রয়েছে রবি শাস্ত্রীর। ১৯৮৫ সালে বরোদার বিরুদ্ধে ওয়াংখেড়েতে ১২৩ বলে ২০০ রান করেছিলেন তিনি। শাস্ত্রীর রেকর্ড ভাঙতে পারেননি পৃথ্বী। তবে তিনিও নজির গড়েছেন। রঞ্জিতে প্লেট ও এলিট গ্রুপ মিলিয়ে দ্রুততম শতরান অবশ্য করেছেন তন্ময় আগরওয়াল। গত বছর হায়দরাবাদের হয়ে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ১১৯ বলে ২০০ করেছিলেন তিনি। তবে রঞ্জির এলিট লিগের উপরেই নির্ভর করে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে। তাই প্লেট লিগে করা তন্ময়ের রেকর্ড এ ক্ষেত্রে ধরা হচ্ছে না। আগের ম্যাচে কেরলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৫ রান করেছিলেন পৃথ্বী। তবে দু’টি ম্যাচেই প্রথম ইনিংসে রান পাননি তিনি। গত ম্যাচে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। দু’টি ম্যাচেই দ্বিতীয় ইনিংসে রান পেয়েছেন ওপেনিং ব্যাটার। ভারতের হয়ে অভিষেক টেস্টেই শতরান করেছিলেন পৃথ্বী। কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসাবে ভারতের হয়ে টেস্ট অভিষেকে শতরান রয়েছে তাঁর। কিন্তু পৃথ্বীর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ওজন বেড়ে যায় তাঁর। বিশৃঙ্খল জীবনের প্রভাব তাঁর কেরিয়ারেও পড়ে। বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন পৃথ্বী। মুম্বইয়ের রঞ্জি দলেও অনিয়মিত হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে আবার খেলায় ফেরার চেষ্টা করছেন। ওজন কমিয়েছেন পৃথ্বী। পরিশ্রম করছেন। দল বদলেছেন। আবার ভারতীয় ক্রিকেটে ফেরার চেষ্টা করছেন পৃথ্বী। রঞ্জির মতো বড় প্রতিযোগিতায় শুরুটা ভাল হয়েছে ডানহাতি ওপেনারের।





