ফিট কি না জানানো আমার কাজ নয়, ওঁদের জানতে হবে! না জেনেই বাদ দেওয়া হয়েছে আমাকে। আগরকরকে তুলোধনা সামির। চোট কোন জায়গায় আছে, সেরেছে কি না, সেটা জানানো তাঁর কাজ নয়। মনে করিয়ে দিয়েছেন, যদি চোট না-ই সারে, তা হলে তিনি রঞ্জি খেলছেন কী করে? রঞ্জি ট্রফি খেলার জন্য কলকাতায় পা রেখেই বিস্ফোরক মহম্মদ সামি। ভারতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার জন্য অজিত আগরকরের নির্বাচক কমিটিকে আক্রমণ করলেন বাংলার জোরে বোলার। বুধবার থেকে রঞ্জি অভিযান শুরু করছে বাংলা। তার আগে ক্ষুব্ধ সামি বলেন, ‘‘ভারতীয় দল বা নির্বাচকেরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আমার ফিটনেসের কথা জানতে চাননি। আমি তো আর যেচে ফিটনেস নিয়ে ওঁদের বলতে যাব না। এটা আমার কাজ নয়। ওঁদের জানতে হবে। যদি আমি চার দিনের রঞ্জির ম্যাচ খেলতে পারি, তা হলে ৫০ ওভারের ম্যাচ কেন খেলতে পারব না? যদি আমি ফিট না থাকতাম, তা হলে এনসিএ-তে থাকতাম, রঞ্জির দলে থাকতাম না। আমি কতটা ফিট সেটা রঞ্জিতেই সকলে দেখতে পাবে। কাউকে জবাব দেওয়ার নেই। এত বছর ভারতের হয়ে খেলেছি। প্রতিটা ম্যাচে নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছি। আশা করেছিলাম, আমার সঙ্গে নির্বাচকেরা কথা বলবেন। কিন্তু কেউ কিছু জানতে চাননি। আমার ফিটনেস না জেনেই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’’ নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান আগরকর বলেছিলেন, ‘‘সামিকে নিয়ে বিসিসিআইয়ের কাছে কোনও তথ্য নেই। ও দলীপ ট্রফিতে খেলেছে। কিন্তু গত দু’-তিন বছরে খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। মনে হয় বাংলার হয়ে একটা আর দলীপের একটা ম্যাচ খেলেছে। আমাদের জানতে হবে ও কতটা ফিট। তার জন্য সবার আগে ওকে ক্রিকেট খেলতে হবে।” ইংল্যান্ড সফরের দলে জায়গা হয়নি সামির। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ় এবং আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের দলেও নেই। না খেলার যে অভিযোগ প্রসঙ্গে সামি বলেন, “ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে তবে তো খেলব। ম্যাচ না থাকলে অনুশীলন করছি। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া আমার হাতে নেই। সুযোগ পেলেই ম্যাচ খেলি।’’
২২৪ দিন পর আবার ভারতের জার্সিতে দেখা যাবে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে। আগামী রবিবার থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক দিনের সিরিজ় শুরু ভারতের। সেখানে খেলবেন দুই ক্রিকেটার। সেই সিরিজ়ের আগে রোহিত, কোহলিকে খোঁচা মারলেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। পাশাপাশি ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে রোহিত, কোহলিকে খেলানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রেখে দিলেন গম্ভীর। গম্ভীর বলেন, “ওরা দুর্দান্ত ক্রিকেটার। ওদের অভিজ্ঞতা অনেক। রোহিত, কোহলি ফেরায় দলের শক্তি বেড়েছে। আশা করছি, অস্ট্রেলিয়ায় ওরা ভাল খেলবে। পাশাপাশি গোটা দলও সেখানে ভাল খেলবে।” চলতি বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে দেশের জার্সিতে খেলেননি তাঁরা। মাঝে আইপিএলে খেলেছেন বটে, কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখা যায়নি দু’জনকে। সেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়েই দু’জনকে খোঁচা মেরেছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “দেশের হয়ে খেলার আগে এই দলের অনেকেই ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলছে। আরও অনেকে আছে যারা অনূর্ধ্ব-১৯, বিজয় হজারে, রঞ্জির মতো ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে। ওদের নিয়ে আমি খুব খুশি। আমি মনে করি, পেশাদার ক্রিকেটার হিসাবে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা উচিত। শুধু এনসিএ (বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি)-তে গিয়ে পড়ে থাকলেন হবে না। খেলতে হবে। নইলে দলে সুযোগ পাওয়া কঠিন।” বস্তুত, রোহিত ও কোহলি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেননি। মাঝে এনসিএ-তে গিয়ে ১০ কেজি ওজর ঝরিয়েছেন রোহিত। সেখানে অনুশীলন করেছেন। কোহলিও লন্ডনে আলাদা করে অনুশীলন করেছেন। কিন্তু তাঁদের কাউকে ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখা যায়নি। গত বছরও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা নিয়ে ‘ফতোয়া’ জারি করেছিলেন গম্ভীর। তাঁর চাপেই রোহিত ও কোহলি একটি করে রঞ্জি ম্যাচও খেলেছিলেন। কিন্তু এ বার তাঁরা খেলেননি। আরও এক বার সে কথা মনে করিয়ে খোঁচা মারলেন গম্ভীর। কোচ যখন সাংবাদিক বৈঠকে এই সব কথা বলছেন, তার কিছু ক্ষণ আগেই লন্ডন থেকে দিল্লিতে ফিরেছেন কোহলি। বিমানবন্দর থেকে বার হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বুধবার সকালে তাঁর অস্ট্রেলিয়া উড়ে যাওয়ার কথা। ভারতীয় দল ব্যাচে ব্যাচে অস্ট্রেলিয়া যাবে। প্রথমে কোহলি, রোহিত-সহ কয়েক জন ক্রিকেটার রওনা দেবেন। কোচ গম্ভীর, অধিনায়ক শুভমন-সহ বাকিরা বুধবার সন্ধ্যায় রওনা দেবেন অস্ট্রেলিয়া। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন দিল্লির হয়ে। অধিনায়কও ছিলেন। সেই মাঠের পিচই হতাশ করেছে তাঁকে। গম্ভীর বলেন, “আমি বলছি না অহমদাবাদের মতো আড়াই দিনে টেস্ট শেষ হওয়া উচিত। কিন্তু উইকেটে পেসারদের জন্য তো কিছু থাকবে। বিশেষ করে যখন আমাদের দলে দুই সেরা পেসার রয়েছে। কিন্তু এই উইকেটে কিচ্ছু ছিল না। যা ছিল, স্পিনারদের জন্য। এই ধরনের উইকেটে খেললে দেশের ক্রিকেটের লাভ হবে না। টেস্ট ক্রিকেটেরও উন্নতি হবে না।” ভারতের প্রধান কোচ বলেন, “ওরাও তো নিজেদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমি ওদের খেলা দেখে খুব খুশি। এই টেস্ট ওদের আত্মবিশ্বাস দেবে। আমার মনে হয় টেস্টের উন্নতির জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ভাল খেলা খুব জরুরি। সেটা এই টেস্টে দেখা গিয়েছে।” ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে এক দিনের দলেরও অধিনায়ক হয়েছেন শুভমন। তাঁর অধিনায়ক হওয়া নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। গম্ভীর মনে করেন, শুভমনই যোগ্য। তিনি বলেন, “শুভমন ইংল্যান্ডে কী ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেটা সকলে দেখেছে। প্রথম সিরিজ়ে অনভিজ্ঞ দল নিয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে সিরিজ় ড্র সহজ নয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল দলের বাকিরা শুভমনকে অধিনায়ক হিসাবে কী ভাবে গ্রহণ করেছে সেটাও দেখুন। সকলে ওকে অধিনায়ক মেনে নিয়েছে। আগামী দিনেও শুভমন দলকে সাফল্য নিয়ে যাবে।”





