ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত জীবন জীবন। সমান তালে ব্যালান্স। নিয়মিত শরীরচর্চা। স্বাস্থ্যকর খাবারে সাজানো ডায়েট। নিয়মিত যোগাভ্যাস। যোগ জীবনটাই বদলে দেয়। ফিট থাকতে যোগাভ্যাসের মাধ্যমেই শুরু করা উচিত। যোগাভ্যাসের পাশাপাশি জিমেও সময় কাটান। সপ্তাহে ৩ দিন জিমে। শরীরের উপর এবং নীচের অংশের ব্যায়ামে সেই রুটিন। একটু ওজন সহ ব্যায়াম করার চেষ্টা। স্বাস্থ্যকর কোনও পানীয় পান। সকালে ১ মিটার ইনফিউজড জল পান। অর্থাৎ সেই জলের মধ্যে লেবুর কোয়া, পুদিনা পাতা এবং সি সল্ট দেওয়া থাকে। ঘুম থেকে ওঠার পর দেহে খনিজ উপাদানের অভাব মিটলে তার পর যোগাভ্যাস শুরু। সকালে পানীয়ের মাধ্যমে উপোস ভঙ্গ। শরীরচর্চার পর প্রাতরাশ। ডায়েটে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে একাধিক সমস্যা হতে পারে। তার মধ্যে দেহের মেদবৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয় এবং ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া অন্যতম। অনেকেই মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার উপর রাশ টানতে পারেন না। কিন্তু মিষ্টি খেয়েও দেহে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তার জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা উচিত।
মিষ্টি জাতীয় খাবারে রাশ টানার জন্য রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত খাবার খেলে বা দীর্ঘ ক্ষণ খাবার না খেয়ে থাকলে দেহে শর্করার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তার ফলে অনেকেই বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে ফেলেন। কিন্তু সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকলে এই ধরনের সমস্যা হবে না। কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং প্রোটিন ডায়েটে থাকলে পেট অনেক ক্ষণ ভর্তি থাকে। তার ফলে শরীরে শক্তির অভাব ঘটে না। ফলে অতিরিক্ত শর্করার চাহিদা তৈরি হয় না। শর্করার অভাব মেটাতে চিনি বা কৃত্রিম চিনির পরিবর্তে গুড়, মধু বা কোকোনাট সুগার ব্যবহার করা যায়। আবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে মিষ্টি ফল, ডার্ক চকোলেটও ডায়েটে রাখা যায়। ক্লান্তি, উদ্বেগ, একাকিত্ব বা অবসাদ খাওয়াদাওয়ার ধরনে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তাই শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে ডায়েটের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে সর্বাগ্রে নজর দেওয়া উচিত। ডায়েট থেকে সম্পূর্ণ রূপে মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দিলে দেহে শর্করার অভাব দেখা দেবে। তা অনেক সময়ে মনকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। সারা সপ্তাহ যাঁরা মিষ্টি খাচ্ছেন না, তাঁরা এক দিন ‘চিট ডে’ রাখতে পারেন।
সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটা উপকারী। আবার নিয়মিত হাঁটার ক্ষেত্রে অনেকেই দিনে ১০ হাজার পা হাঁটার পরামর্শ মেনে চলেন। তার ফলে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা তৈরি হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রতি দিন ১০ হাজার পা হাঁটার ফলে অনেক সময়ে স্বাস্থ্যের অবনতিও ঘটতে পারে। তাই সময় থাকতে সতর্ক হওয়া উচিত। নিয়মিত বেশি ক্ষণ হাঁটলে হাঁটু, কোমর এবং গোড়ালির সন্ধিতে চাপ সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে কারও দেহের ওজন বেশি হলে মেরুদণ্ড এবং হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। যাঁরা স্থূলত্বের শিকার, তাঁদের নরম জমিতে বা নরম জুতো পরে হাঁটলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। বেশি হাঁটলে দেহে পেশির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, হাঁটার ফলে সাধারণত দেহের নিম্নভাগ সুঠাম হয়। তুলনায় দেহের উপরের অংশের সে রকম পরিবর্তন ঘটে না। তা ফলে সার্বিক ভাবে দেহে পেশির ঘনত্বের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। প্রতি দিন একই রকমের শরীরচর্চার ফলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে অতিরিক্ত ফলাফল পাওয়া যায় না। কারণ, মস্তিষ্ক দেহকে সেই ভাবেই বুঝিয়ে দেয়। এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উঁচু, নিচু বা খাড়া— বিভিন্ন ধরনের জমিতে হাঁটা উচিত। যাঁদের কাজের ব্যস্ততা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতি দিন ১০ হাজার পা হাঁটা অনেক সময়েই কঠিন হতে পারে, তার ফলে দেহে ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পেশিতে ব্যথা বা অনিদ্রার ফলে শরীরচর্চায় অনীহা দেখা দিতে পারে। হাঁটলে অন্য কোনও শরীরচর্চার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সার্বিক ভাবে সুস্থ থাকতে পা সুঠাম চেহারার জন্য হাঁটার মতোই ওজন সহ বা অন্যান্য ধরনের ব্যায়ামের প্রয়োজন।





