প্ল্যানেটারি প্যারেড বা গ্রহের সমাবেশ। মেঘমুক্ত আকাশে প্রত্যক্ষ মহাজাহতিক দৃশ্য। সন্ধ্যার আকাশে একসঙ্গে সাতট গ্রহ মঙ্গল, বৃহস্পতি, ইউরেনাস, শুক্র, নেপচুন, বুধ ও শনি। ২৮ ফ্রেব্রুয়ারী শুক্রবার ২০২৫ সন্ধ্যা থেকেই প্রত্যক্ষ হয়েছিল। ২০৪০ সালের আগে এ দৃশ্য আর দেখা যাবে না। কলকাতার আকাশে সুদৃশ্য শুক্র সন্ধ্যা থেকেই। সৌরমণ্ডলের সাত গ্রহ একসঙ্গে আকাশে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সূর্যের এক পাশে সম্মিলিত মঙ্গল, বুধসহ ৭ গ্রহ। বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী পৃথিবী। অনেকেই দেখেছেন। ২০৪০ সালে আবার দেখা যাবে এই দৃশ্য। সূর্যের একই দিকে উপস্থিত সৌরমণ্ডলের সমস্ত গ্রহ। দৃশ্যটি পৃথিবী থেকে দারুন দেখিয়েছে। সৌরমণ্ডলে থাকা গ্রহ পৃথিবী, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, নেপচুন ও ইউরেনাসকে একপাশে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে দেখতে পাওয়া যাবে। মহাজাগতিক দৃশ্য সূর্যাস্তের ঠিক পরেই স্পষ্টত দেখা যাবে। বিজ্ঞানীদের পরিভাষায় মহাজাগতিক ঘটনার নাম প্ল্যানেটারি প্যারেড।
প্ল্যানেটারি প্যারেড অর্থাৎ গ্রহগুলির সূর্যের একপাশে আসা শুরু ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই। সূর্যের একপাশে ২৮ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের পর আকাশে ৪৫ মিনিট সবকটিকেই দেখা যায় একসঙ্গে। খালি চোখে সবকটি গ্রহকে দেখা সম্ভব নয় বলে জানান বিজ্ঞানীরা। শুক্র, মঙ্গল গ্রহ, বৃহস্পতি ও ইউরেনাস খালি চোখে দেখা গেলেও বুধ, শনি ও নেপচুনকে দেখার জন্য দূরবীন বা ছোট টেলিস্কোপের ব্যাবহার করতে হয়। অন্ধকার স্থান থেকে ভালো দেখা গেছে। দূরবীন থাড়া খালি চোখে সবকটি গ্রহ দেখা যায় নি। প্রথমে অন্ধকার সয়ে নেওয়ার জন্য চোখকে কিছুটা সময় দিয়ে দৃশ্য স্পষ্ট। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে দৃশ্য প্রত্যক। ভারতের যেকোনও অঞ্চল থেকেই দেখা গেছে। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, লখনউ, নয়ডা, ইন্দোর, কানপুর, গুয়াহাটি, গ্যাংটক, আমেদাবাদ, দেরাদুন, হায়দ্রাবাদ, জয়পুর, পুণে থেকে দেখা যাবে এই দৃশ্য। আকাশে মেঘ থাকায় স্পষ্ট মহাজাগতিক দৃশ্য।
গ্রিনিচ রয়্যাল অবজারভেটরির জ্যোতির্বিদ ড. এডওয়ার্ড ব্লুমার বলেন, ‘গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে ভিন্ন কক্ষপথে আবর্তন করার ফলে কখনো কখনো গ্রহগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় সরলরেখায় অবস্থান করে, যা আকাশে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে। যদিও প্রকৃতপক্ষে তারা মহাকাশে বিশাল দূরত্বে অবস্থান করছে।’ শুক্র ও বৃহস্পতি সবচেয়ে উজ্জ্বল হওয়ায় সহজেই দেখা যাবে। মঙ্গলকে চেনা গেছে এর স্বতন্ত্র লালচে আভা দিয়ে। ইউরেনাস খালি চোখে দেখা সম্ভব হলেও বাকি গ্রহ দেখতে উপযুক্ত পরিবেশ ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি আবশ্যক। দিগন্তরেখা স্পষ্ট, খোলামেলা জায়গা ও মেঘমুক্ত আকাশে সাতটি গ্রহ পরিলক্ষিত।
রাতের আকাশে বিরল গ্রহগুলোর কুচকাওয়াজ। অত্যাশ্চর্য জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত ঘটনা শুরু ২১ জানুয়ারী, ২০২৫ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ এ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছয়। গ্রহ কুচকাওয়াজের প্রাথমিক পর্যায়ে, ছয়টি গ্রহ সূর্যের সাথে সারিবদ্ধ ছিল। প্ল্যানেটারি প্যারেড। গ্রহদের কুচকাওয়াজ একটি দর্শনীয় দৃশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহীয় সারিবদ্ধতা নামেও পরিচিত। ছয়টি গ্রহ সূর্যের সাথে সারিবদ্ধ। শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন। কুচকাওয়াজের পরবর্তী পর্যায়ে বুধও যুক্ত। আকাশে সূর্যাস্তের কাছাকাছি, দিগন্তের নীচে সূর্য ডুবে যাওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পরে জ্যোতির্বিদ্যাগত ঘটনাটি প্রত্যক্ষ হয়েছিল প্ল্যানেটারি প্যারেড ২০২৫।
বিরল স্বর্গীয় ঘটনাটি উপভোগ্য অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস বেশ কিছু অ্যাপের মাধ্যমেও যেমন স্টার ওয়াক ২ এবং স্টেলারিয়াম গ্রহ সনাক্ত করণ করেছিল ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ উদযাপন শেষে গ্রহ-পর্ব একটি আধ্যাত্মিক মাত্রা যোগ কারণ, এই ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা আধ্যাত্মিক শক্তি এবং চেতনা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।





