Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মার দুর্দান্ত ব্যাটিং!‌ ঝলমলে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু ভারতের, ৫ অক্টোবরে সামনে পাকিস্তান

বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ৪৭ ওভারে। বড় ব্যবধানে জয় ভারতীয় দলের। বর্ষাপাড়ায় অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা ভারতীয় দলের বড় ভরসা হয়ে ওঠেন। ৫ অক্টোবরের অপেক্ষা। সেদিন মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। তার আগে শুভ-মহরৎ ভারতের। লোয়ার অর্ডারে দুর্দান্ত ব্যাটিং, ঝলমলে জয়ে বিশ্বকাপ ঘরের মাঠে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ। প্রথম আইসিসি ট্রফি জয়ের দুর্দান্ত সুযোগ ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের। সিনিয়র মহিলা দল একাধিক বার ভিন্ন ফর্ম্যাটে ফাইনালে উঠলেও ট্রফি অধরা রয়েছে। এ বার ঘরের মাঠে শুরুটা দারুণ হল। গুয়াহাটিতে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কিছুটা শোকের আবহ। শ্রেয়া ঘোষালের কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত। সাময়িক ব্যাটিং বিপর্যয়। লোয়ার অর্ডারে দুর্দান্ত ব্যাটিং। বোলারদের ইউনিট হিসেবে পারফরম্যান্স। বর্ষাপাড়ায় অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা ভারতীয় দলের বড় ভরসা হয়ে ওঠেন। ৫ অক্টোবরের অপেক্ষা। সেদিন মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। তার আগে শুভ-মহরৎ ভারতের। টস জিতে রান তাড়ার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কা ক্যাপ্টেন চামারি আতাপাত্তু। পিচে আর্দ্রতার কারণে নতুন বল মুভ করবে এমনটাই প্রত্যাশিত। অভিজ্ঞ ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা অবশ্য ডট বলের কারণে ধৈর্য হারান। তাতেই সমস্যা বাড়ে। বড় শট খেলার চেষ্টা, মিস হিট, জাগলিং ক্যাচে তাঁকে ফেরান ভিষ্মি গুণরত্নে। প্রতিকা রাওয়াল ও হরলীন দেওল মজবুত জুটি গড়েন। প্রতিকাও জাগলিং ক্যাচে ফেরেন। ৮১ রানে ১ উইকেটে থেকে দ্রুতই ১২৪-৬ হয়ে যায় ভারতের স্কোর। কিন্তু অমনজ্যোৎ কৌর ও দীপ্তি শর্মার বড় রানের জুটি। শেষ দিকে স্নেহ রানার ১৫ বলে ২৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। নির্ধারিত ৪৭ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৯ রান করে ভারত। দীপ্তি ও অমনজ্যোৎ হাফসেঞ্চুরি করেন। বোর্ডে যথেষ্ট বড় স্কোর। ভারতের বোলিং আক্রমণে দক্ষ স্পিনার। ভরসা ছিলই। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও বড় ভরসা হয়ে ওঠেন দীপ্তি শর্মা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট নিতে থাকে ভারত। প্রতিপক্ষের সবচেয়ে দামি উইকেট অর্থাৎ ক্যাপ্টেন চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে ম্যাচের ভারতের দখলে আনেন দীপ্তিই। শ্রীলঙ্কার কোনও ব্যটার ৫০-র কোটা পেরোতে পারেননি। ২১১ রানেই শেষ শ্রীলঙ্কা ইনিংস। দীপ্তি শর্মা ৩ উইকেট, স্নেহ রানা ও শ্রী চরণী নেন দুটি করে উইকেট।

শ্রীলঙ্কাকে ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৫৯ রানে হারিয়ে এক দিনের বিশ্বকাপ শুরু করল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। ২ পয়েন্ট ঘরে এলেও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থাকল। বিশেষ করে হরমনপ্রীত কৌরের দলের মিডল অর্ডার নিয়ে। ভারতের ৮ উইকেটে ২৬৯ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হয় ৪৫.৩ ওভারে ২১১ রানে। উল্লেখ্য শ্রীলঙ্কার জয়ের লক্ষ্য ছিল ২৭১ রান। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আটাপাত্তু। মেঘলা আবহাওয়ায় তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ছিল না। গুয়াহাটির ২২ গজে প্রথম থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন ভারতীয় ব্যাটারেরা। ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা (৮) খারাপ শট খেলে আউট হয়ে যান চতুর্থ ওভারেই। দ্বিতীয় উইকেটে অন্য ওপেনার প্রীতিকা রাওয়াল এবং তিন নম্বরে নামা হারলিন পরিস্থিতি সামাল দেন। তাঁদের জুটিতে ওঠে ৬৭ রান। প্রীতিকা করেন ৫৯ বলে ৩৭ রান। এর পর হারলিনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন হরমনপ্রীত। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা তোলেন ৩৯ রান। তবে রান তোলার গতি বাড়াতে পারছিলেন না তাঁরা। আগেই দু’দফা বৃষ্টির জন্য ম্যাচের ওভার সংখ্যা কমে ৪৮ হয়ে যায়। ২৩তম ওভার থেকে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন হারলিন এবং হরমনপ্রীত। কারণ ২০ ওভারের পর ভারতের রান ছিল ৮৪। তবে তাঁদের সেই প্রচেষ্টা কার্যকর হয়নি। ২৬তম ওভারে রণবীরা ভারতের তিন ব্যাটারকে আউট করে ভারতকে আবার চাপে ফেলেন দেন। হারলিন করেন ৬৪ বলে ৪৮। হরমনপ্রীতের ব্যাট থেকে এসেছে ১৯ বলে ২১ রান। ব্যর্থ জেমাইমা (০)। রান পেলেন না রিচা ঘোষও (২)। ফলে ২ উইকেটে ১২০ থেকে ১২ বলের ব্যবধানে ৬ উইকেটে ১২৪ হয়ে যায় ভারত। ভাল জায়গায় পৌঁছে দিল দুই অলরাউন্ডারের দীপ্তি শর্মা এবং আমনজ্যোৎ কৌরের দায়িত্বশীল জুটি। সপ্তম উইকেটের জুটিতে ১০৩ রান করেন তাঁরা। তবে এই সময় চারটি ক্যাচ ফেলেন শ্রীলঙ্কার ফিল্ডারেরা। তাতে খানিকটা সুবিধা হয়ে যায় ভারতীয় ব্যাটারদের। শেষ পর্যন্ত আমনজ্যোৎ করেন ৫৬ বলে ৫৭। ৫টি চার ১টি ছয় মারেন। এক দিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম অর্ধশতরান করলেন ২৫ বছরের অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত দীপ্তি করেন ৫৩ বলে ৫৩। তাঁর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত ছিলেন স্নেহ রানা। তিনি ১৫ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২টি করে চার এবং ছক্কা মারেন।

শ্রীলঙ্কার সফলতম বোলার রণবীরা ৪৬ রানে ৪ উইকেট নেন। উদেশিকা প্রবধানী ৫৫ রানে ২ উইকেট পেয়েছেন। ২৪ রানে ১ উইকেট আটাপাত্তুর। ৪২ রানে ১ উইকেট অচিনি কুলসূর্যের। ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কার জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭ ওভারে ২৭১ রান। জবাবে শুরুটা করেনি শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা (১৪) দ্রুত আউট হলেও আটাপাত্তু এবং তিন নম্বরে নামা হর্ষিতা সমরবিক্রমা দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের জুটিতে ওঠে ৫২ রান। এ সময় কিছুটা দিশাহারা দেখাচ্ছিল ভারতীয় বোলারদের। তবে দীপ্তির বলে আটাপাত্তু ব্যক্তিগত ৪৩ রানে আউট হওয়ার পর আর সমস্যা হয়নি। আটাপাত্তুর ৪৭ বলের ইনিংসে রয়েছে ৪টি চার এবং ৩টি ছয়। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা। ক্রমশ বাড়তে থাকে ওভার প্রতি রান তোলার লক্ষ্যও। দীপ্তি ছাড়াও বাকি দুই স্পিনার রানা এবং শ্রী চরনি চাপে রাখেন প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের। হর্ষিতা করেন ৪৫ বলে ২৯। শ্রীলঙ্কার আর কোনও ব্যাটার বলার মতো রান করতে পারেননি। ভিশমি গুণরত্নে (১১), কবিশা দিলহারি (১৫), অনুষ্কা সঞ্জীবনীরা (৬) দলকে ভরসা দিতে পারেননি। কিছুটা লড়াই করেন নীলাক্ষীকা সিলভা। তিনি ৪টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে করেন ২৯ বলে ৩৫। শ্রীলঙ্কার টেলএন্ডারদের আউট করতেও বেশ বেগ পেতে হল ভারতীয় দলকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles