Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বর্মার জয় তিলক! সূর্যের ভারত এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন!‌ জবাব!‌ পর পর তিন রবিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়-হ্যাটট্রিক!‌

ভারতের কুলদীপ যাদব ম্যাচের সেরা ও অভিষেক শর্মা প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার। তাঁরা পুরস্কার নেওয়ার পর সঞ্চালক ডুল জানান, ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়নের ট্রফি নেবে না। এর থেকে স্পষ্ট, নকভিও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরেননি। অন্য কোনও কর্তাকে তিনি ট্রফি দেওয়ার অনুমতি দেননি। সেই কারণে ভারতীয় দলও নিজেদের দাবি থেকে সরেনি। এই দৃশ্য ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনও দিন দেখা যায়নি। একটা বড় প্রতিযোগিতা জিতে জয়ী দল ট্রফিই নিল না। বোঝা যাচ্ছে, এই বিতর্ক এখনই থামবে না। এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেলেও ভারত-পাকিস্তান সংঘাত এখনও চলবে। এ বারের এশিয়া কাপের শুরু থেকেই দু’দলের মধ্যে সংঘাত চলছে। শুরুটা করে ভারত। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেই ঘটনা ভাল ভাবে নেয়নি পাকিস্তান। খেলা শেষে সূর্য প্রকাশ্যে বলেন, এই জয় পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের পরিবারকে উৎসর্গ করছেন। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন তিনি। খেলা শেষে নিজেদের সাজঘরের দরজাও বন্ধ করে দেয় ভারত। সেই ঘটনা নিয়ে আইসিসি-র দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সূর্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তারা। সূর্যের ম্যাচ ফি-র ৩০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। সেই ঘটনার বিরুদ্ধে আবেদন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিতর্কে জড়িয়েছেন সেই ম্যাচের রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফ্টও। পাক বোর্ড অভিযোগ করে, পাইক্রফ্ট গিয়ে দুই দলের অধিনায়ককে হাত মেলাতে নিষেধ করেছেন। তারা দাবি জানায়, এশিয়া কাপের কোনও ম্যাচে পাইক্রফ্টকে আর দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। যদিও পাকিস্তানের দাবি উড়িয়ে দেয় আইসিসি। পরের পাক ম্যাচের আগে পাইক্রফ্টের সঙ্গে কথা বলেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন, অধিনায়ক সলমন ও অন্য কর্তারা। সুপার ফোরে ভারত-পাক ম্যাচে বিতর্ক আরও বাড়ে। অর্ধশতরান করে ‘স্টেনগান’ উল্লাস করেন পাকিস্তানের ব্যাটার সাহিবজ়াদা ফারহান। পাক পেসার হ্যারিস রউফ দু’বার ‘প্লেন ক্র্যাশ’ সেলিব্রেশন করেন। সেই ঘটনার পর ফারহান ও হ্যারিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভারতীয় বোর্ড। ফাইনালেও যে বিতর্ক কমবে না তা বোঝা যাচ্ছিল। ফাইনাল শুরু হওয়ার আগেই ভারতের পেসার অর্শদীপ সিংহের নামে অভিযোগ করে পাক বোর্ড। অভিযোগ, সুপার ফোরের ম্যাচে ‘অশ্লীল’ ভঙ্গী দেখিয়েছেন অর্শদীপ।

ফাইনাল শুরুর আগে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার সময় খোশগল্প করছিলেন পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার হ্যারিস ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। ক্রিকেটের নিয়মে রয়েছে, অন্য দেশের জাতীয় সঙ্গীতের সময়ও সাবধান ভঙ্গীতে থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। গল্প করা যাবে না। কিন্তু পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার সেটাই করেন। তার জন্য দু’জনের সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সমর্থকদের অভিযোগ, ভারতের জাতীয় সঙ্গীতকে অসম্মান করেছেন তাঁরা। হ্যারিস ও শাহিনের শাস্তির দাবিও উঠেছে। ফাইনালে হ্যারিসকে বোল্ড করে তাঁকে জবাব দেন জসপ্রীত বুমরাহ। তিনিও ‘প্লেন ক্র্যাশ’ উল্লাস করেন। খেলার মধ্যেই যে এই বিতর্ক শেষ হবে না তা বোঝা যাচ্ছিল। হলও তাই। খেলা শেষে পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা সাজঘরে ঢুকে গেলেন। পর পর তিন ম্যাচে ভারতের কাছে হারের ধাক্কা হজম করা সহজ ছিল না। পাশাপাশি গোটা প্রতিযোগিতা জুড়ে ভারত বয়কট করেছে পাকিস্তানকে। সেই জ্বালাও হয়তো ছিল। পাক ক্রিকেটারদের মাঠে নামতে দেরি হওয়া দেখে জল্পনা শুরু হয়েছে, সলমনেরা কি অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? শেষ পর্যন্ত কি নকভির ফোনে নামেন তাঁরা? নইলে এত দেরি কেন করলেন তাঁরা। যদিও ভারতীয় ক্রিকেটারেরা আরও এক বার পাত্তা দিলেন না নকভিকে। এশিয়া কাপ জিতে ট্রফিই নিলেন না সূর্যেরা।

এশিয়া কাপ ফাইনালকে ভারত যেন বেছে নিয়েছে জবাব দেওয়ার মঞ্চ হিসাবে। পাকিস্তানের ইনিংস চলাকালীন হ্যারিস রউফকে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। আবরার আহমেদকেও ছাড়ল না ভারত। ম্যাচের পর আবরারের উচ্ছ্বাস প্রকাশের ধরনকে নকল করলেন ভারতের তিন ক্রিকেটার। ম্যাচের পর মাঠেই উৎসবে মেতে ওঠেন ভারতের ক্রিকেটারেরা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উৎসব করতে থাকেন। তখনই দেখা যায়, এক ধারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন জিতেশ শর্মা, অর্শদীপ সিংহ এবং হর্ষিত রানা। আবরারের ভঙ্গি নকল করে মাথা নাড়াতে দেখা যায়। কোনও ব্যাটারকে আউট করলে দাঁড়িয়ে পড়ে ঘাড় নাড়িয়ে বিশেষ ধরনের উৎসব করেন আবরার। ঘাড়টা এমন ভাবে নাড়ান, মনে হয় ব্যাটারকে বলছেন, ‘যাও, সাজঘরে ফিরে যাও’। গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচেও এই কাজ করেছিলেন। এশিয়া কাপেও বিতর্কে জড়িয়েছেন আবরার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সুপার ফোরের ম্যাচে ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গকে আউট করে শ্রীলঙ্কার বোলারের কায়দা নকল করে উৎসব করেছিলেন। জবাব দেন হাসরঙ্গও। তিনিও পাকিস্তানের এক ব্যাটারকে আউট আবরারের উৎসবের ভঙ্গি নকল করেন। ম্যাচে বুমরাহ জবাব দিয়েছিলেন রউফকে। তখন পাকিস্তানের ইনিংসের ১৮তম ওভার চলছিল। দ্বিতীয় বলে বুমরাহকে চার মেরেছিলেন রউফ। তৃতীয় বলে ছয় মারতে গিয়েও ব্যর্থ হন। চতুর্থ বলে ইয়র্কার দিয়েছিলেন বুমরাহ। কোনও মতে ব্যাটে বল লাগান রউফ। পঞ্চম বলে আবার ইয়র্কার দেন বুমরাহ। এ বার চালিয়ে খেলতে গিয়ে অফস্টাম্প উড়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটারের। হাসিমুখে ডান হাত দিয়ে ‘প্লেন ক্র্যাশ সেলিব্রেশন’ করেন বুমরাহ। তাঁর উচ্ছ্বাস দেখে মনে হয়েছে, বিমান মাটি থেকে উড়েই সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস হয়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ রউফকে আউট করে তাঁর কায়দাতেই উচ্ছ্বাস করেন বুমরাহ। এখন দেখার, পাকিস্তান ভবিষ্যতে বুমরাহের এই আচরণ নিয়ে প্রতিবাদ করে কি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles