ভোটার তালিকা থেকে নাম সংযোজন বা বিয়োজনের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ECI) নতুন নিয়ম চালু করেছে। এবার থেকে ফর্ম–৬ (নতুন ভোটার নাম নথিভুক্তির আবেদন) ও ফর্ম–৭ (ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা আপত্তি জানানোর আবেদন) জমা দেওয়ার সময় আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ই-সাইন (e-sign) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের ECINet পোর্টাল এবং মোবাইল অ্যাপে নতুন ই-সাইন সুবিধা যুক্ত হয়। এর ফলে আবেদনকারীকে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বরে একই নাম ও তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রথমে ফর্ম পূরণ করার পর ব্যবহারকারীকে নিয়ে যাওয়া হবে Centre for Development of Advanced Computing (CDAC)–এর ই-সাইন পোর্টালে। সেখানে আধার নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) জেনারেট করতে হবে, যা যাবে সংশ্লিষ্ট আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বরে। সেই ওটিপি দিয়ে আবেদন সম্পূর্ণ করা হবে। এই নতুন পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে এমন এক সময় যখন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংগঠিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, কর্ণাটকের আলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৬,০১৮ ভোটারকে ভুয়া আবেদনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের রাজুরাতেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে। বাইরে থেকে সংগৃহীত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে সফটওয়্যারের সাহায্যে বুথ ধরে ধরে কংগ্রেস ভোটারদের টার্গেট করা হয়েছে। “প্রত্যেক বুথের ১ নম্বর সিরিয়ালে থাকা ভোটারের নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে,” অভিযোগ করেন তিনি। রাহুল গান্ধীর দাবি, এটি কোনো স্থানীয় কর্মী স্তরের কাজ নয়, বরং কল সেন্টার স্তরে বসে সংগঠিতভাবে করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুরুতে গান্ধীর অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও ভুল” বলে খারিজ করলেও, তাদের অবস্থান পরে প্রশ্ন তুলেছে। কমিশন জানায়, আলন্দে ব্যাপক ভোটার বিয়োজনের সন্দেহে এফআইআর দায়ের হয়েছে। রাজুরাতেও ভোটার নাম সংযোজন নিয়ে একইভাবে মামলা রুজু হয়েছে। অর্থাৎ, কমিশন একদিকে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য অস্বীকার করেছে, আবার অন্যদিকে তদন্তের প্রয়োজন স্বীকার করেছে। নতুন ই-সাইন পদ্ধতি চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে ভুয়ো আবেদন বা বহিরাগত মোবাইল নম্বর দিয়ে ভোটার তালিকা বদলের সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হবে বলে কমিশনের আশা। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এভাবে আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করা হলে ভোটারদের গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নও নতুন করে সামনে আসবে। একদিকে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনার জন্য কমিশনের প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ, অন্যদিকে ভোটাধিকার সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক—উভয়ই আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির ময়দানে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
কর্নাটকে ‘ভোটচুরি’র চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজেদের পোর্টালে নতুন ‘ই-স্বাক্ষর’ ব্যবস্থা চালু করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, এই ব্যবস্থায় একমাত্র আধার কার্ডের মাধ্যমেই ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা নাম বাদ দেওয়া কিংবা তথ্য সংশোধন করা যাবে। এত দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা (ফর্ম ৬), নাম বাদ দেওয়া (ফর্ম ৭) বা তথ্য সংশোধনের (ফর্ম ৮) জন্য ফর্ম ফিল-আপের সময় ভোটারের এপিক নম্বর দিলেই হত। তার জন্য আলাদা করে কোনও তথ্য যাচাই হত না। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে চালু হওয়া নয়া ব্যবস্থায় তিনটি ফর্ম ফিল-আপের সময়েই আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করা হবে। দেখা হবে, যাঁর নাম বাদ যাবে, তিনি নিজেই আবেদন করছেন, না কি অন্য কেউ? আবেদনকারীকে প্রথমে ফর্ম ফিল আপ করতে হবে। এর পর ফর্ম জমা দিতে গেলেই একটি ‘ই-স্বাক্ষর’ পোর্টাল খুলবে। সেখানে আবেদনকারীকে নিজের আধার নম্বর দিতে হবে। তাতে ওই আধার নম্বরের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে। সেই ওটিপি দিলে তবেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে এবং আবেদনকারীর আবেদন সঠিক ভাবে জমা পড়বে। কয়েক দিন আগেই রাহুল অভিযোগ তুলেছিলেন, কর্নাটকে গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি আলন্দে ভোটচুরির চেষ্টা হয়েছিল। ছ’হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাতিলের আবেদন জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগ পরে স্বীকারও করে নেয় কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিলের জন্য মোট ৬,০১৮টি আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে মাত্র ২৪টি সঠিক আবেদন ছিল। ঘটনাচক্রে, তার পরেই নয়া ব্যবস্থা চালু করল কমিশন।
বেকারি ইস্যুতে ফের সোচ্চার হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে অভিযোগ, বেকারত্ব ও ভোট কারচুপির জাঁতাকলে দেশজুড়ে যুবসমাজ হতাশার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। রাহুল এক্স পোস্টে দাবি করেছেন, দেশের তরুণদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব এবং সেটি সরাসরি ভোট চুরির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, দেশে যতদিন ভোট চুরি চলতে থাকবে, ততদিন বেকারি ও দুর্নীতি বাড়বে। কিন্তু, দেশের যুবসমাজ আর বেশিদিন ধরে চাকরি চুরি ও ভোটচুরি বরদাস্ত করবে না। রাহুলের অভিযোগ, বিজেপি ভোট কারচুপি করে ও প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণে থেকে ক্ষমতায় টিকে আছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নয়। এর ফলে দেশে গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বেকারত্ব দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দীর্ঘ এক্স পোস্টে লেখেন, দেশে যুবদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারি। আর এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে ভোট চুরির। রাহুল বলেছেন, যখন কোনও সরকার জনগণের বিশ্বাস জিতে ক্ষমতায় আসে, তখন তার প্রথম কর্তব্য হল যুবদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু, বিজেপি তো আসলে সৎভাবে ভোটেই জেতেনি। ওরা ক্ষমতায় টিকে যাচ্ছে ভোট চুরি করে। ওরা এভাবেই সরকার দখল করে চলেছে। রাহুলের দাবি, আর সেই কারণে দেশে ৪৫ বছরের মধ্যে বেকারি সবার উপরে। চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে, নিয়োগ প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে গেছে। যুবদের ভবিষ্যত আজ অন্ধকারে। এই কারণেই প্রতিটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এবং প্রতিটি নিয়োগের পিছনে রয়েছে একটি করে বড় দুর্নীতি চক্র। লোকসভার বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, দেশের যুবকরা পরিশ্রম করে এবং স্বপ্ন দেখে। তাদের ভবিষ্যৎ এর জন্য লড়াই করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুধুমাত্র তাঁর প্রচার নিয়েই ব্যস্ত। দেশে চাকরি কমছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছে এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শাসকদল শিল্পপতি ও ধনকুবেরদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অথচ দেশের যুবকদের স্বপ্ন ভেঙে চূর্ণ করছে। তাঁর বক্তব্য, এবার পরিস্থিতির বদল হচ্ছে। দেশের যুবসমাজ বুঝে গিয়েছে শুধু একটি চাকরি জোগাড় করাই মূল লড়াই নয়। লড়াই করতে হবে ভোটচুরির সঙ্গেও। কেননা যতদিন নির্বাচন চুরি হতে থাকবে, ততদিন বেকারি ও দুর্নীতি ক্রমশ বেড়ে চলবে। তাই দেশপ্রেমের অর্থ এখন বেকারি ও ভোটচোরদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা। এক্স পোস্টে রাহুল দুটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে চাকরিপ্রার্থী যুবকদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। এবং আরেকটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চারাগাছ পুঁতছেন, ময়ূরকে খাওয়াচ্ছেন ও যোগব্যায়াম করছেন!





