‘‘আমি পুজোমণ্ডপ উদ্বোধন করতে এসেছি। মাতৃপ্রতিমার নয়। মহালয়ার দিন থেকে মাতৃপ্রতিমার উদ্বোধন করব।’’ ফিতে কাটার পর মমতার বক্তব্য। মহালয়ার আগেই ফিতে কেটে উৎসবের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী! হাতিবাগান সর্বজনীন হয়ে টালা প্রত্যয় এবং শেষে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। শনিবার কলকাতার এই তিন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃষ্টিতেও শনিবার প্রথমে হাতিবাগান সর্বজনীন যান মমতা। সেখানে ফিতে কেটে মণ্ডপের উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি বার বার বলেন যে মণ্ডপে যাবেন না। প্রথমেই মমতাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি কিন্তু কেবল মণ্ডপের উদ্বোধন করছি।’’ তার পরে মণ্ডপের সামনের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, মহালয়ার দিন থেকেই মাতৃপ্রতিমা উদ্বোধন করেন। তার আগে মণ্ডপ উদ্বোধন করতেই এসেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘মহালয়ায় তর্পণ হবে। চণ্ডীপাঠ হবে। তার পরেই মাতৃপ্রতিমার উদ্বোধন করব।’’

হাতিবাগান, টালা প্রত্যয় বা শ্রীভূমিতে গিয়ে মমতা বলেন, পুজোমণ্ডপের উদ্বোধনই করতে এসেছেন। উদ্বোধনে গিয়ে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীর ‘হিন্দুবিরোধী’ মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন মমতা। আগামী সপ্তাহেই নিম্নচাপ, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে, সঙ্গে বজ্রপাত! পুজোমণ্ডপ উদ্বোধনে মমতার মুখে যেমন বৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে উদ্বেগের কথা বলে ঐক্যের বার্তাও দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘সকলের নিজস্ব ধর্ম, ভাষা, মত রয়েছে। এক এক জনের এক এক ভাষা। আমি চাই সকলেই তাঁদের নিজেদের মাতৃভাষাকে সম্মান করুন। আমার তাতে আপত্তি নেই।’’ মুখ্যমন্ত্রী বাঙালিদের হেনস্থা নিয়ে বলেন, ‘‘বাংলা ভাষায় কথা বললে অত্যাচার করতে হবে, তাতে আমি একমত নই। আমার এখানকার অনেক শ্রমিকই বাইরে কাজ করেন। তাঁরা প্রতিভার ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন। এ রাজ্যের ২২ লক্ষ শ্রমিক ভিন্রাজ্যে কাজ করেন। তবে দেড় কোটি মানুষ বাইরে থেকে এখানে এসে কাজ করেন। আমি মনে করি আমাদের দেশ, আমাদের এটা শিখিয়েছে।’’ কয়েক বছর ধরেই মহালয়ার আগে থেকেই পুজোর উদ্বোধন শুরু করেন মমতা। এ বছরও মহালয়ার আগের দিনই শহরের তিন মণ্ডপ উদ্বোধন করেন তিনি। মহালয়া থেকে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। চতুর্থী, পঞ্চমী পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পুজো উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। কোথাও সশরীরে যাবেন, আবার কোথাও ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন। চেতলা অগ্রণীতে আবার দুর্গাপ্রতিমার চোখও আঁকবেন। শনিবারের উদ্বোধনে গিয়ে মমতা বৃষ্টির পূর্বাভাসের কথা বলেন। সকলের উদ্দেশে বলেন, ‘‘বৃষ্টিতে না ভিজে, শরীর সুস্থ রাখুন।’’

এদিকে, সোনাগাছির চমক জীবন্ত দুর্গা! উদ্বোধনে আসছেন ঊষা উত্থুপ। যৌনকর্মীরা এই পুজোর আয়োজন করে থাকেন। এই বছর এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম যৌনপল্লীর যৌনকর্মীদের সন্তানেরা এই পুজোর উদ্যোক্তা। বিগত কয়েক বছর ধরে সোনাগাছিতে সাড়ম্বরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়। যৌনকর্মীরা এই পুজোর আয়োজন করে থাকেন। এই বছর এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম যৌনপল্লীর যৌনকর্মীদের সন্তানেরা এই পুজোর উদ্যোগ নিয়েছেন। চলতি বছরে সোনাগাছির এই দুর্গাপুজোটি এই অঞ্চলের শীতলা মন্দিরের কাছে হবে বলে জানা গিয়েছে। শহর জুড়ে নানা থিমের ভিড়ে এই পুজো যেন একে বারেই অন্য রকম হতে চলেছে। তাঁদের এই বছরের উদ্বোধনে থাকবে একাধিক চমক। ২২ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ প্রতিপদের দিন সোনাগাছির দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হবে। আর তার জন্যই এলাহি আয়োজন করা হয়েছে। এ দিন এই পুজোর উদ্বোধনে হাজির থাকবেন মন্ত্রী শশী পাঁজা, বিধায়ক দেবাশিস কুমার। পদ্মভূষণ প্রাপক সঙ্গীতশিল্পী ঊষা উত্থুপ সহ বাংলা সিনে জগতের একাধিক তারকাও উপস্থিত থাকবেন। চমক থাকছে এ বার সোনাগাছির পুজোতে? এখানে কোনও মাটির প্রতিমা থাকছে না। ভাবছেন তা হলে কীসে পুজো হবে? জীবন্ত প্রতিমা থাকবে এই মণ্ডপে। হ্যাঁ, দুর্গা থেকে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ সকলেই হবে জীবন্ত। তারই মহড়া চলছে কলকাতার এই পাড়ায়। এখানকার মণ্ডপে প্রায় প্রতি দিন নাচ, গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে





