অর্পিতা গঙ্গোপাধ্যায় : “যদি আপনি বাটার চিকেন প্রেমী হন, তবে এটি অবশ্যই আপনার জন্য”। সেই বার্গার যা আমাদের সমালোচকদের নির্বাক করে দিয়েছিল। মেলবার্নের দক্ষিণ-পূর্বে টিফিন বক্স ভারতীয় ও অস্ট্রেলীয় খাবারের জনপ্রিয় ফিউশন তৈরি করছে। আর সেখানেই ঘরে ভাজা মশলার ঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে। একটি বার্গার দোকানের রান্নাঘরে আপনি হয়তো চিজ, মায়ো বা সস তৈরির প্রস্তুতির কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু এখানে মাঝে মাঝে দোকানের মালিক মনি চৌধুরীকে দেখা যাবে যত্ন করে মশলা ভেজে, গুঁড়ো করে ও মিশ্রণ তৈরি করতে। এই মশলাই তার বাটার চিকেন ও বিরিয়ানির প্রাণ।

টিফিন বক্স খোলার উদ্দেশ্যই ছিল মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা। মনি লক্ষ্য করেছিলেন, তার বাচ্চারা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো ফাস্টফুড চাইত, অথচ স্বামী চাইতেন বিরিয়ানি। কেউ চা আর ভাড়া পাও খুঁজতেন, আবার কেউ খুঁজতেন ক্যাপুচিনো ও চিকেন মায়ো স্যান্ডউইচ। আর যারা ভারতীয় খাবারে নতুন, তাঁদের জন্য সহজ পথ হয়ে উঠল বাটার চিকেন বার্গার। সুস্বাদু, সহজ, আবার পরিচিত ফর্ম্যাটে পরিবেশিত।

এই দোকানের নায়ক নিঃসন্দেহে বাটার চিকেন বার্গার। চিকেন থাই রাতভর দই, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ও জয়ত্রীর মিশ্রণে মেরিনেট করা হয়। তারপর গ্রিলে সেঁকে বান, টমেটো ও লেটুসের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। কিন্তু আসল জাদু লুকিয়ে আছে সেই বিশেষ স্পাইসড টমেটো গ্রেভি-তে। কাজু ও কিশমিশের ঘনত্বে ভরা এই সসটি এতটাই সুস্বাদু যে খেতে খেতে আপনি থমকে যাবেন বিস্ময়ে। আবার এত নিখুঁতভাবে রান্না করা যে সস বার্গারের ভেতরেই থাকে, হাতে গড়িয়ে পড়ে না। আপনি যদি বাটার চিকেনপ্রেমী হন, তবে এটি আপনার লিস্টে থাকা উচিত। আর যদি কারি খেতে না চান, তবে এটিই হতে পারে আপনার প্রথম পদক্ষেপ। (খেয়াল রাখবেন, এখানকার HSP-এর ওপরেও এই সস ঢালা হয়!)

কাঠি রোল এসেছে মণির জন্মভূমি কলকাতা থেকে। দোকানের দেওয়ালে আঁকা আছে হকারদের ছবি। এখানে কাঠি রোলকে একটু ভিন্নভাবে পরিবেশন করা হয়। ভেতরে সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়, ফলে এটি দেখতে অনেকটা গ্রিক সুভলাকির মতো হয়। মার্টন বিরিয়ানির স্বাদে সমালোচক হতবাক। নরম মাংস, ঘি-তে ভেজানো চাল ও সুগন্ধি মশলার মিশ্রণ। এটি খাঁটি হায়দরাবাদি ধাঁচের স্তরযুক্ত বিরিয়ানি।অমৃতসরি ফিশ ফ্রাই। উত্তর-পশ্চিম ভারতের জনপ্রিয় স্ন্যাকস এখানেও দারুণ জনপ্রিয়। বাইরে খাস্তা, ভেতরে নরম, ঝাল-পুদিনা-ধনেপাতার চাটনির সঙ্গে পরিবেশিত।

মনি চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই রান্নার সঙ্গে যুক্ত। কলকাতায় তার ঠাকুমা অমিতা ও মা কোনিকা তাকে রান্না শিখিয়েছিলেন। পরে পার্থে একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় কাজ করে অভিজ্ঞতা বাড়ান। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে বারিস্তা হিসেবে কাজ করেছেন, শিখেছেন দ্রুত সার্ভিস ও নানা ধরনের কফি বানানো। পরবর্তীতে একটি এজড কেয়ার ক্যাফে চালিয়েছেন, সেখান থেকে ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন।

তবে সবকিছুর পেছনে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত স্বপ্ন ছিল, মা ও প্রয়াত শাশুড়ি রেণুকার ইচ্ছা পূরণ করা। তারা দু’জনই অবসরে একটি খাবারের দোকান খুলতে চেয়েছিলেন। মনি বলেন, “এখন সময় তাদের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার।” ভারতে টিফিন মানে হলো একটি মাল্টি-ডেকার খাবারের বাক্স, যেখানে থাকে ভাত, ডাল, তরকারি ও চাটনি। অস্ট্রেলিয়ায় এটি পুরোপুরি কার্যকর না হলেও, মনি টিফিন ধারণাকে মিল ডিল ও সাশ্রয়ী মূল্যের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন। বাইরে থেকে টিফিন বক্স হয়তো সাধারণ একটি টেকঅ্যাওয়ের মতো মনে হতে পারে, এক পাশে গ্রিল, ক্যাশ রেজিস্টার ও মেনু বোর্ড, অন্য পাশে কয়েকটি টেবিল ও ফ্রিজ। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলেই বোঝা যায় মনি চৌধুরীর আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও মশলার যাদু এই ছোট্ট জায়গাটিকে একেবারে বিশেষ করে তুলেছে।তিনটি নতুন বার্গার স্পট ট্রাই করে দেখুন,

দ্য রেজিস্ট্যান্স
একসময় আর্কেডের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই বন্ধুত্বপূর্ণ হ্যাংআউট এখন তার বার্গারগুলো নিয়ে চলে এসেছে মূল রাস্তায়, যেখানে তাদের থাকা উচিত। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো এখানকার সব বান ঘরে তৈরি, এমনকি ভেজি প্যাটিগুলোও। চেষ্টা করুন “ভেজি ওয়ারফেয়ার”, যেখানে রয়েছে আমেরিকান চিজ আর ক্যারামেলাইজড পেঁয়াজ (ভেগান সংস্করণও পাওয়া যায়)।

বাম ব্যামস
প্রচুর পরিবেশন আর ধারাবাহিক মানই এখানে ক্রেতাদের বারবার ফিরিয়ে আনে। ক্রিসপি অনিয়ন রিংস, সোনালি ফ্রাই আর বার্গার। যা কখনও ক্লাসিক, কখনও আবার টপিংসে ভরপুর। আমি নেবো “ওল্ড মেট”, যেখানে আছে ডিম আর বিটরুট।

এলএ স্ম্যাশ বার্গারস
কখনও চাইবেন মোটা বিফ প্যাটি, কখনও আবার চাইবেন এলএ-স্টাইলের এই স্ম্যাশ প্যাটি, যেটি বান-এর মাঝে চেপে দেওয়া হয়। অথবা চাইলে নিন এইচএসপি-স্টাইল: ফ্রাইয়ের ওপর বিফ, চিজ, পেঁয়াজ আর জালাপেনো ছড়ানো এক মজাদার গরম গড়াগড়ি।




