ভোর হতে না হতেই ঝাড়গ্রাম এবং বেহালায় ইডি হানা। বালিপাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে বড় সাফল্য ইডির। লাখ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামে বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়ে ১২ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে ইডি। টাকা গোনার কাজ জারি। সেই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে গাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন অফিসাররা। বালিপাচার কাণ্ডের তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট। বাংলার একাধিক জায়গায় হানা দেন ইডির তদন্তকারী অফিসাররা। এই প্রথম বালিপাচার মামলায় সক্রিয় হয়েছে ইডি। ঝাড়গ্রামে যে ব্যক্তির বাড়িতে ইডি হানা দিয়েছে, তিনি ব্যবসায়ী। তিনি বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়ীর নাম শেখ জহিরুল আলি। ঝাড়গ্রামে গোপীবল্লভপুরে তাঁর বাড়ি। সুবর্ণরেখা নদীর তীরে এই বাড়িটি অবস্থিত। অভিযোগ, তিনতলা এই বাড়ির মালিক জহিরুল নাকি দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণরেখা নদী থেকেই বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত। বাড়িতে নগদ টাকা উদ্ধার করেছেন ইডি আধিকারিকরা। জহিরুল নাকি আগে ভিলেজ পুলিশে ছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে বালির ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এহেন জহিরুলের বাড়িতে সার্চ ওয়্যারেন্ট নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে ইডি। কেন্দ্রীয় বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে। সব মিলিয়ে ইডির মোট ৪-৫টি টিম তদন্তে নেমেছে একযোগে। একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছেন ।ঝাড়গ্রাম ছাড়াও বেহালার জেমস লং সরণীতেও একটি বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। সেই বাড়িতে ডিজি মাইনিং নামক একটি সংস্থার অফিস রয়েছে। তারাও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যাচ্ছে। সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। এই সংস্থার আরও একটি অফিস রয়েছে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে।

কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ উদ্যোগেই গ্রামীণ জনতাকে বাড়ি নির্মাণের জন্য অর্থ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। সেই আবাস প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করেছে পঞ্চায়েত দফতর। প্রশাসন সূত্রে খবর, উপভোক্তারা যদি আবাসন তৈরির অনুদান সঠিক খাতে ব্যবহার না করেন, তবে সেই টাকা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই একাধিক জেলায় দেখা গিয়েছে কিছু উপভোক্তা টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রেখে বসে আছেন, বাড়ি তৈরির কাজ শুরুই করেননি। আবার কয়েক জন সরকারি অনুদান অন্য খাতে খরচ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত দফতর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, কে কোথায় কত দূর বাড়ি নির্মাণের কাজ এগিয়েছেন, তার খোঁজখবর নিতে হবে। জানা গিয়েছে , কেউ যদি টাকা পেয়েও কাজ শুরু না করেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, “বাড়ি নির্মাণের শর্তেই রাজ্য সরকার উপভোক্তাদের টাকা দেয়। সরকারি সুযোগসুবিধা নিয়েও যাঁরা বাড়ি তৈরি করছেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা ফেরত নেওয়ার বিধান রয়েছে। অর্থ যেন সঠিক ভাবে খরচ হয়, সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই।” বাংলার বাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মোট ১.২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। তিন ধাপে অনুদান পৌঁছে যায় প্রথম কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা এবং ঘর সম্পূর্ণ করার পর চূড়ান্ত ৪০ হাজার টাকা। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম কিস্তি পাওয়ার পর ১২ মাসের মধ্যে বাড়ি সম্পূর্ণ করার কথা। প্রয়োজনে কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে সামান্য সময় বাড়ানো হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, তিন কিস্তি নয়, দু’কিস্তিতে টাকা দেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের টাকা প্রথম বার দেওয়া হয়। তখন প্রায় ১২ লক্ষ পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৬০,০০০ টাকা পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আরও ৬০,০০০ টাকা বিতরণের ঘোষণা করেন। ফলে বর্তমানে ১২ লক্ষ উপভোক্তা দুই কিস্তি মিলিয়ে মোট ১.২০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। রাজ্য সরকারের হিসাবে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় মোট ২৮ লক্ষ পরিবার চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ লক্ষ পরিবার প্রথম পর্যায়ে অনুদান পেয়েছে। বাকি ১৬ লক্ষ পরিবার আগামী ডিসেম্বর ২০২৫ ও মে ২০২৬-এ কিস্তি অনুযায়ী সুবিধা পাবে। শুধু তা-ই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, অতিরিক্ত আরও ১৬ লক্ষ পরিবারকে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে প্রায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার কাছে গৃহনির্মাণের সহায়তা পৌঁছোবে। প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুদানের পাশাপাশি রাজ্যের অর্থও বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে গৃহহীন মানুষ দ্রুত মাথার উপর ছাদ পান। তদারকি জোরদার করতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “যেখানে অনুদান পেয়েও বাড়ি হচ্ছে না, সেই বিষয়ে পঞ্চায়েত দফতরকে জেলা প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া হবে।” বাংলার বাড়ি প্রকল্প শুধু আবাসনই নয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরীক্ষায়ও বড় ভূমিকা নিচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে নয়ছয় রোধ হবে এবং প্রকৃত গৃহহীন মানুষের স্বপ্নপূরণ হবে বলেই মনে করছেন নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকরা।




