ডাউন রাজধানী এবং রানাঘাট-শিয়ালদহ এসি লোকাল। শিয়ালদহে ঢুকল প্রায় একই সঙ্গে। তখন ১০টা ১২ মিনিট। রাজধানী ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। আমাদের এসি লোকাল ৫ নম্বরে। লাগল ১০৩ মিনিট। এক ঘন্টা ৪৩ মিনিট। পুরো যাত্রাপথের জন্য ১২০ টাকা। শিয়ালদহ পর্যন্ত এসি লোকালের মাসিক ভাড়া ২,২০০ টাকা। প্রতিদিন সকালে ৮টা ২৯ মিনিটে রানাঘাট থেকে ছাড়বে এই ট্রেন। ফিরতি ট্রেন শিয়ালদহ থেকে ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে। প্রথম দিনে রানাঘাট-শিয়ালদহ এসি লোকালে সওয়ার ২৫০৩। ধরা পড়লেন বিনা টিকিটের যাত্রীও! লোকালের বাতানুকূল কামরার জানলার কাচে কেউ কেউ নাক ঠেকিয়ে দেখছিলেন? বাতানুকূল রাজধানীর মতোই এসি লোকাল! ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ধীরে ধীরে এসে দাঁড়াল ট্রেন। বাইরে থেকে একেবারে এমনি লোকাল ট্রেনের মতোই দেখতে। তাতে অবশ্য কারও হেলদোল নেই। কেরামতি তো ভিতরে! দেখলাম, উল্টো দিকে থেকে প্ল্যাটফর্মে ঢুকছে শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকাল। সামনে থিকথিকে ভিড়। যাত্রীদের উৎসুক চোখ অবশ্য ৫ নম্বরের প্ল্যাটফর্মে। কেউ ভিডিয়ো করছেন। কেউ ট্রেনটার ছবি তুলছেন। কেউ কেউ এসি লোকালের সঙ্গে নিজস্বী তুলতে ব্যস্ত। শান্তিপুর-শিয়ালদহেই উঠলেন উল্টো দিকের প্ল্যাটফর্মের প্রায় সকলে। এসি লোকালের পাশে দুয়োরানির মতো লাগছিল রোজকার আটপৌরে ট্রেনটাকে। স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি আরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছিল ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। মেট্রোর আদলেই পাশাপাশি দরজা খুলে গেল এসি ট্রেনের। উঠে পড়লাম। ভিতরটা অবশ্য মেট্রোর কামরার মতো নয়। এমনি ট্রেনের কামরার মতোই। ধাতব আসন। মাথার উপরে ধরার হাতল। যাত্রীরা দাঁড়িয়েও যেতে পারবেন। সাধারণ যাত্রীদের অনেকে তো বটেই, টিকিট পরীক্ষকেরাও নতুন ট্রেনের সঙ্গে নিজস্বী তুলে রাখছিলেন।
রেলযাত্রা যেন ‘জয়রাইড’। রানাঘাট ছাড়ার পর ট্রেন থামবে চাকদহে। মেট্রোর মতোই ঘোষণা হল, ‘‘পরবর্তী স্টেশন চাকদহ। প্ল্যাটফর্ম বাঁ দিকে।’’ যেমন নৈহাটিতে প্ল্যাটফর্ম ডান দিকে। সেখানে ঘোষণা হল সেই অনুযায়ী। রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ যাত্রাপথে দু’টি প্রান্তিক ধরে মোট স্টেশন ২৪টি। মধ্যবর্তী স্টেশন ২২টি। সব স্টেশনে অবশ্য থামবে না এই আরামের ট্রেন। থামবে মধ্যবর্তী ন’টি স্টেশনে— চাকদহ, কল্যাণী, কাঁচ়রাপাড়া, নৈহাটি, ব্যারাকপুর, খড়দহ, সোদপুর, দমদম, বিধাননগর। শেষ ‘স্টপেজ’ শিয়ালদহ। মোট সময় ১০৩ মিনিট। অর্থাৎ, ১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। সাধারণ ট্রেনে ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট। প্রান্তিক স্টেশন শিয়ালদহে অবশ্য প্ল্যাটফর্ম দু’দিকেই। সেখানে সম্ভবত তাই প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত ঘোষণা হল না। শুধু বলা হল, ‘‘অন্তিম স্টেশন শিয়ালদহ।’’ তার পরে দু’দিকের ‘স্লাইডিং’ দরজাই সরে গেল মসৃণ ভাবে। পৌনে ৯টা নাগাদ টিকিট পরীক্ষা শুরু। খোঁজ নিয়ে জানলাম, এই ট্রেনে কেউ টিকিট ছাড়া ওঠেনইনি। বেশ কয়েক জনকে জরিমানা করা হয়েছে। সাধারণ লোকালের ‘মান্থলি’ নিয়েই এসি-তে উঠে পড়েছিলেন। জরিমানা দিতে হল ২৮০ টাকা। সরকারি কর্মচারীদের একটা দল ছিল সামনের দিকের কামরায়। সাধারণ ট্রেনের চেয়ে প্রত্যাশিত ভাবেই ভিড় কম। স্বস্তি বেশি। লোকাল ট্রেনের দরজার মতো ভিড় নেই। স্বাভাবিক। দরজার সামনে দাঁড়ানোরও প্রশ্ন নেই। ছিনতাইয়ের ভয় নেই! হাতে-হাতে মোবাইলে ক্যামেরা চালু। ট্রেনের ভিতরে ইতিউতি ঘোরাফেরা আরপিএফ জওয়ানদের। রানাঘাট থেকে ১০ জন টিকিট পরীক্ষক উঠেছিলেন। এই ট্রেনেও সামনে পিছনে দু’টি লেডিজ কামরা আছে। অনলাইনে এবং কাউন্টার থেকে এই টিকিট পাওয়া যাবে। মেট্রোর মতোই এক কামরা থেকে অন্য কামরায় যেতে পারবেন যাত্রীরা। এছাড়াও থাকছে অন্যান্য সুবিধা। ট্রেনটিতে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ১১২৬টি। প্রতিটি কোচে তিনজনের স্টেইনলেস স্টিলের আসন রয়েছে। এছাড়াও কোচে আছে সিসিটিভি, জিপিএস নির্ভর এলইডি ডিসপ্লে, অ্যানাউন্সমেন্ট ও টকব্যাক সিস্টেম। ব্যারাকপুর থেকে উঠলেন আরও ছ’জন। সব মিলিয়ে ট্রেনে ছিলেন ১৬ জন টিকিট পরীক্ষক। তাঁদের নেতা এক জন। অর্থাৎ, মোট ১৭ জন। এসি লোকালে টিকিট যাচাই করার কাজটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি দিনই ১৭ জন করে টিকিট পরীক্ষক থাকবেন এই ট্রেনে? এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যাত্রীদের ভিড় দেখে সিদ্ধান্ত।




