Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

নির্যাতিতার বাবা-মাকে বেদম প্রহার পুলিশের? মেয়ের জন্য বিচার চাইতে মার খেতে হল প্রশাসনের!‌

নির্যাতিতার মা বলেছেন, ‘আজ আমায় মেরেছে। অনেক পুলিশ রাস্তায় ফেলে আমায় মেরেছে। কেন আমায় মারা হল? কেন আমার মেয়েকে কাজের মারা হল? কেন প্রশাসন তৎপর হল না সেদিন?’ পুলিশের দাবি, আরজি করের নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা’কে মারা হয়নি। নির্যাতিতার মা এবং বাবাকে দেখতে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মা’কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মানে তাঁর চোট যথেষ্ট গুরুতর। তবে জ্ঞান আছে। তাঁর চোখ থেকে অঝোরে জল পড়ছে। সম্ভবত মেয়ের জন্য বিচার চাইতে মার খেতে হওয়ায় এরকম অবস্থা হয়েছে। চিকিৎসকরাও বাড়তি নজর দিচ্ছেন। নবান্ন অভিযানের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নির্যাতিতার মা’কে। বাবাকেও ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, পুলিশ মারধর করেছে। মায়ের মাথা ফুলে গিয়েছে। রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে। বাবাকেও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার।

মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের বিচার চেয়ে আজ নবান্ন অভিযানে সামিল হন বাবা-মা। পার্কস্ট্রিটের কাছে মিছিল আটকানো হয়। অভিযোগ, সেইসময় নির্যাতিতার বাবা-মা’কে মারধর করেছে পুলিশ। তারপরও তাঁরা নবান্নে পৌঁছানোর ব্রতে অবিচল থাকেন। রেসকোর্সের পাশে অবস্থান চলাকালীন নির্যাতিতার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চোখেমুখে জল দেওয়ার পরেও অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। সেই পরিস্থিতিতে নির্যাতিতার মা এবং বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ওই বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিভিন্ন শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, মাথায় চোট লাগায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মা’কে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হতে পারে। মাথায় চোট কতটা লেগেছে, সেটা বুঝতে তাঁর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। এমআরআই করা হবে। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, কপালে একটা ফোলা অংশ রয়েছে। বাইরে থেকে দেখে যা মনে হয়েছে, তাতে ভোঁতা কোনও জিনিস জোরে মারলে তবেই এরকমভাবে ফুলে যায়। পিঠে একাধিক কালশিটে দাগ আছে। যা দেখে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে যে কিছু দিয়ে মারা হয়েছে। তাছাড়াও হাতেও চোট আছে বলে জানিয়েছেন।

অভয়া মঞ্চের আহ্বায়ক তমোনাশ চৌধুরীর দাবি করলেন, গত এক বছরে একাধিকবার নির্যাতিতার বাবা-মা’কে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা মিছিল করেছেন। কখনও এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অথচ আজ আহত হলেন নির্যাতিতার মা। তাই এই বিষয়টাও উল্লেখ করা দরকার। পুলিশও যেমন দায়ি, তেমন দায় এড়াতে পারেন না শুভেন্দুরাও। আরজি করের নির্যাতিতা বাবা ও মায়ের দাবি, তাঁদের মারধর করেছে পুলিশ। মা’কে মেরে কপাল ফুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মারা হয়েছে পিঠে। শাঁখাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নির্যাতিতার মা। বাবারও চোট লেগেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শুভেন্দুদের সঙ্গে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সেই নবান্ন অভিযানে সামিল হননি জুনিয়র ডাক্তাররা। বিকেলে কালীঘাট অভিযানে সামিল হন। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অভয়া মঞ্চের সদস্যরা জমায়েত করেন। কালীঘাটে মিছিল যেতে না দেওয়ায় হাজরা মোড়ে সভা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন অভয়া মঞ্চের সদস্যরা। সেখানে এসেছেন নদিয়ার কালীগঞ্জে বোমা আঘাতে মৃত কিশোরী তমন্নার মা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles