Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘১৫০ গ্রাম বীর্য’! গুজব এবং মিথ্যাচার,সত্য-‌অসত্য বোঝা দায়?‌ দাবানলেন মতো ছড়িয়ে পড়া আরজি কর-কাণ্ডের আন্দোলনের ‘বিচিত্রবীর্য’রা আজ কোথায়?‌

রাত দখলের লড়াই!‌ নানা ক্ষেত্রের নানা ‘মুখ’ ?‌ সকলেই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কেউ ‘সঠিক’ কারণে। কেউ ‘বেঠিক’ কারণে। অধিকাংশেরই মনে আছে। ‘প্রভাবশালী’ সেই অডিয়ো ক্লিপ। এ ধরনের কাণ্ডের পিছনে কাজ করে ‘অতিভক্তি’, যা ক্ষতিকর। গুজব আন্দোলনের ক্ষতি করেছে। আরজি করে রাতের ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার দিনকয়েকের মধ্যেই হু-হু করে ছড়িয়ে পড়েছিল মোবাইলে মোবাইলে, ‘‘…আমি সোমা বলছি…!’’ পুরো পরিচয় দিয়েছিলেন ‘সোমা মুখার্জি’ বলে? আরজি কর হাসপাতালের ভিতরেরই একজন বলে নিজেকে দাবি করেছিলেন। সত্য পরিচয় না ভুয়ো? আরজি করের ভিতরে-বাইরে যাঁরা গত বছরের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, সমর্থন করেছিলেন। প্রতিবাদীর তালিকায় জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো ও আসফাকুল্লা নাইয়ারা আন্দোলন পর্বে আরজি করেই ছিলেন, রাত দখলের প্রথম আহ্বায়ক রিমঝিম সিংহ, জুনিয়র ডাক্তার দেবাশিস হালদার থেকে রুমেলিকা কুমার। ধর্মতলার মঞ্চে অনশনকারীদের অন্যতম রুমেলিকা। ‘সোমা বলছি’ র মধ্যে কনস্পিরেসি ছিল। অডিয়ো ক্লিপের দুই থেকে তিন সেকেন্ড শুনলেই বোঝা যায় অবাস্তব। আরও অবাস্তব, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ঘটনার পরদিনই ধৃত কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। আদৌ অপরাধী?‌ এই আসামীকে নিয়ে আজও প্রচুর প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে?‌

রাত দখলের ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নেমে আসা মানুষের সংখ্যায় গুজবের ভূমিকা ছিল? রিমঝিমের কথায়, ‘‘কিছু মানুষ সেনসেশন পছন্দ করেন। আসলে মানুষ সে রাতে রাস্তায় নেমেছিলেন শাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতেই। আরজি কর-কাণ্ডের পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে দাবানলের মতো। কেউ ‘খ্যাত’ হয়েছিলেন। কারুর কপালে ‘কুখ্যাতি’। আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার তো কেউ জুনিয়রদের পাশে দাঁড়ানো সিনিয়র চিকিৎসক। করুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘থ্রেট কালচার’ হুমকি সংস্কৃতি চালানো। রাতারাতি খ্যাতি রাত দখলের ডাক দিয়ে। পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক সমালোচনায় বিদ্ধ। সরে যেতে হয়েছে পদ থেকে। কেউ বহাল রয়েছেন স্বপদে। আরজি করের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি গুজব নিয়েও তদন্তে নামতে হয়েছিল কলকাতা পুলিশকে। ডেকে জেরা বা সতর্কও। জার্মানির তথ্যমন্ত্রী গোয়েবল্‌স মনে করতেন, একটি মিথ্যাকে বার বার বলতে থাকলে, প্রচার করতে থাকলে তা বড় সংখ্যার মানুষ এক সময় ‘সত্য’ বলেই বিশ্বাস করবেন। গুজব অতীতেও রটেছে। এখনও রটে। এবং, ভবিষ্যতেও রটবে।

‘সোমা’ কে, লালবাজার কি তা খুঁজে বার করতে পেরেছিল? পারে নি। কারন, এই মুহূর্তে গুজব সংক্রান্ত তদন্ত চলছে না। ‘সোমা’-রহস্যের সমাধান অধরাই। গুজব-তদন্তও স্তব্ধ। দাবি, নারীকণ্ঠে শোনা গিয়েছিল হত্যাকাণ্ডের ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ’! প্রথমত, পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়েছিলেন নির্যাতিতারই সাত-আট জন সহ-চিকিৎসক। যাঁদের মধ্যে এক তরুণীও ছিলেন। দ্বিতীয়ত, নির্যাতন করে খুনের আগে সকলে মিলে মদ্যপান করেছিলেন। তৃতীয়ত, নির্যাতিতার দু’হাত শক্ত করে চেপে ধরে ধর্ষণ করা হয়। সাহায্য করেন সেই তরুণী সহকর্মীও। চতুর্থত, শারীরিক অত্যাচারের পরে ধর্ষিতার দু’পা দু’দিকে টেনে ‘জরাসন্ধের মতো’ চিরে ফেলার চেষ্টা হয়। পঞ্চমত, এর ফলে ভেঙে যায় ধর্ষিতার পেলভিক বোন। কলার বোনও ভাঙে অত্যাচারে। থেঁতলে যায় মাথা। ষষ্ঠত, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধ করে খুনের পর চারতলা থেকে নীচে নেমে ওই সাত-আট জন দেখতে পান, সঞ্জয় রায়। পরবর্তীতে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় একমাত্র দোষী সাব্যস্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত বসে গ্রুপ ডি কর্মীদের সঙ্গে মদ্যপান করছেন। ওঁরা সঞ্জয়কে বলেন, ‘যা, সেমিনার রুমে তোর জন্য রেখে এসেছি। যা তুই এ বার গিয়ে কাজ করে দিয়ে আয়।’ সপ্তমত, সঞ্জয় সেমিনার রুমে গিয়ে ‘ডেডবডিকে রেপ’ করেন। শিহরণ জাগানো বর্ণনা। মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন। ছোট্ট লেখা সমাজমাধ্যমে। প্রথমেই নির্যাতিতার নাম ছিল। তার পর তাঁর ‘গণধর্ষক’ বা ‘সহযোগী’ বলে ছ’জনের তালিকা। এই ‘ষড়-যন্ত্রী’-দের প্রত্যেকেই আরজি করের সিনিয়র বা জুনিয়র চিকিৎসক। একজন মহিলা চিকিৎসকেরও নাম ছিল, যাঁকে উল্লেখ করা হয় নির্যাতিতার ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বলে। লেখা হয়, এই ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ই ‘‘ছল করে হল রুমে নিয়ে যায় এবং টানা ৪৫ মিনিট গ্যাং রেপের সময়… হাত চেপে ধরে রেখেছিল।’’ বিশেষ সংখ্যালঘু ধর্মের চিকিৎসকের সংখ্যাধিক্য ছিল সেই বানানো গল্পের তালিকায়।

‘১৫০ গ্রাম বীর্য’ প্রসঙ্গ। গল্পের গরু যখন গাছেও ওঠে!‌ সরকারি চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী দাবি করেন, আরজি করে নির্যাতিতার শরীরে ১৫০ গ্রাম বীর্য মিলেছে। গণধর্ষণের প্রমাণ হিসাবেই এই ‘তথ্য’ তিনি পেশ করেছিলেন। অথচ চিকিৎসকদের মতে বীর্যের ক্ষেত্রে তরলের একক মিলিলিটার ব্যবহার হওয়ার কথা, গ্রাম নয়। একটি পুরুষ শরীর থেকে প্রতি বার বীর্যপাতে ১.৫-৫ মিলিলিটার বীর্য নিঃসরণ হতে পারে। অর্থাৎ, ঘটনাস্থলে ১৫০ মিলিলিটার বীর্য পেতে ধর্ষকের সংখ্যা অন্তত ৩০ জন হতে হবে। সরকারি হাসপাতালের ভিতরে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা। ঞসরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন?‌ প্রকাশ্যে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ। আরজি কর হাসপাতালও তা থেকে মুক্ত ছিল না। সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘নর্থবেঙ্গল লবি’ উত্তরবঙ্গ গোষ্ঠীর আধিপত্য এবং নিয়ন্ত্রণ। শাসক তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের মধ্যেও বিভাজন। আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ দুর্নীতি মামলাতেই গ্রেফতার হয়ে আপাতত কারাবন্দি সন্দীপ ঘোষও ‘নর্থবেঙ্গল লবি’ভুক্ত। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গেই প্রশ্ন উঠেছিল কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। আন্দোলনের চাপে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে লালবাজার থেকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল নবান্ন। বিনীতের নেতৃত্বাধীন কলকাতা পুলিশ যে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয়কে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করেছিল। প্রথমে সঞ্জয়ের সিভিক ভলান্টিয়ার পরিচয় বলতে অস্বীকার করা সহ একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত। আন্দোলন পর্বে জুনিয়র চিকিৎসকদের একাধিক ‘মুখ’ নিছক চিকিৎসক থেকে ‘নেতা’ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের ডাকে মিছিল, সভা, পুজোর সময়ে অনশন মণ্ডপ ঘিরে জনস্রোতে ভেসে গিয়েছিল ধর্মতলা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্তিমিত আন্দোলন।

দোষীদের চিহ্ন মুছে ফেলতে আরজি করের সেই ঘটনাস্থল অ্যাসিড দিয়ে ধুয়ে সাফ করে দেওয়া হয়েছিল, এমন দাবি। আরজি করের একাধিক ইন্টার্নের নাম এবং ছবি ছড়িয়ে সমাজমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং পলাতক। খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁদের অধিকাংশ তখনও হস্টেলে। কেউ কেউ নিজের বাড়িতে। কেউ কেউ আন্দোলনের মঞ্চেও। ‘আমি সোমা বলছি’ বা ‘বীর্যের তত্ত্ব’। কোনওটাই জুনিয়র ডাক্তারেরা বলেননি। মূল বিষয় থেকে নজর ঘোরাতেই ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে গুজব ছড়ানো হয়েছিল। গুজবের আবরণ দিয়ে সত্যকে ঢাকার চেষ্টা হয়েছে। আরজি কর পর্বে গুজব যদি কেউ রটিয়ে থাকে, তা হলে প্রথম রটিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। যারা মেয়েটির বাড়িতে ফোন করে প্রথমে বলেছিল অসুস্থ, তার পরে বলেছিল সুইসাইড। তার তদন্তই হয়নি। মূল সত্য কখনও অসত্য হয়ে যায় না। মূল সত্য হল, আরজি করের মতো সরকারি হাসপাতালে এক জন তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। তার পরে সরকারের বিরুদ্ধে যে গণ আন্দোলন তৈরি হয়েছিল, তা ভাঙতে সরকার তার দাঁত-নখ বার করেছে। হুমকি দেওয়া থেকে বদলি করা। এই সবই করেছে।

এবার আসি ফিরে দেখা প্রসঙ্গে। ভবানীপুরের ৫৫/বি, শম্ভুনাথ পন্ডিত স্ট্রিট। এক বছর আগে এই ঠিকানা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এ হল সঞ্জয়ের বাড়ি। বাহ্যিক ভাবে সে বাড়ির কোনও বদল হয়নি। এক বছর আগেও দোষীর মা’‌র মানসিক স্থিতি একটু নড়বড়ে। গত এক বছরে বৃদ্ধার মানসিক ভারসাম্যহীনতা আরও বেড়েছে। সঞ্জয় সম্পর্কে প্রশ্নের জবাব দেন, ‘‘ও তো ওর বাবার কাছে আছে!’’ অথচ সঞ্জয়ের বাবা প্রয়াত কয়েক বছর আগে। দরজার পর্দার রঙের মতো সঞ্জয়ের মায়ের স্মৃতিও গত এক বছরে অনেকটা ফিকে হয়ে গিয়েছে। আরজি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় একমাত্র দোষী সাব্যস্ত হওয়া সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের বৃদ্ধা মা। কেমন আছেন? জবাব এল, ‘‘লক্ষ্মী কখনও খারাপ থাকে? লক্ষ্মী খারাপ থাকলে বাকিরা ভাল থাকবে কী করে?’’ ঘটনাচক্রে, সঞ্জয়ের আপাতত ঠিকানা এই বাড়ির অনতিদূরে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার। দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় জেল থেকেই হাই কোর্টে তাঁকে বেকসুর খালাস করার আর্জি জানিয়ে মামলা করেছেন। সেই মামলা গৃহীতও হয়েছে। শুনানিও শুরু হবে যথানিয়মে। সঞ্জয়ের বোনকে ফোনে যোগাযোগ করায় শুধু জানান, ‘‘ওর সঙ্গে অনেক দিনই সম্পর্ক ছিল না। ওর ব্যাপারে কিছু বলারও নেই। যা বলার আদালত বলবে।’’ সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ পাওয়ার পরে সঞ্জয়ের বেশির ভাগ সময় কাটত ব্যারাকে। তবে নিজের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। ৫৫/বি, শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিটের ভাড়ার ঘরের এক কোণে রাখা জুতোর তাকে পুরুষদের পরার অনেকগুলি জুতো। সঞ্জয়ের জুতো। গত এক বছরে জুতোয় ধুলোর আস্তরণ পড়েছে।

ভবানীপুরের এই ঠিকানা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনার মফস্সলের অন্য বাড়িটিরও বাহ্যিক কোনও বদল হয়নি গত এক বছরে। এই বাড়িতে থাকেন নির্যাতিতা নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। গত বছর ৮-৯ আগস্টের রাতে আরজি করের সেমিনারকক্ষে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটেঠিল। হিন্দুরীতি অনুযায়ী মৃত্যুর বর্ষপূর্তি ধরা হয় তিথি অনুযায়ী। গত ৩০ জুলাই সেইমতো নির্যাতিতার বাবা গয়ায় গিয়ে কন্যার পিণ্ডদান করেছেন। সেই পিণ্ডদানের সঙ্গে তাঁদের লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। নির্যাতিতার বাবা মনে করেন না সঞ্জয় একা দোষী। তাঁর কথায়, ‘‘আসল দোষীরা হাসপাতাল চত্বরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কেউ কিছু করছে না!’’ গত একটা বছরে অনেক কিছু হতে পারত। কিন্তু হয়নি। কী কী হয়নি? কী কী হতে পারত? নিহত চিকিৎসকের বাবার কথায়, ‘‘মেয়েটা থাকলে এত দিনে জুনিয়র থেকে সিনিয়র হয়ে যেত। এত দিনে এমডি হয়ে যেত মেয়েটার!’’ অথচ, পক্ষান্তরে পরিপার্শ্বের বদল হয়েছে। পরিজন-পড়শিদের ক্রমে সরে যাওয়া হয়েছে। যে মৃত্যু টানা তিন মাস ধরে আলোড়িত করে রেখেছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে, এক বছরের মধ্যেই সেই আবহ মিলিয়ে গিয়েছে। নির্যাতিতার বাবার আক্ষেপ, ‘‘আত্মীয়েরা কেউ আর বাড়তি খোঁজ রাখেন না। অনেকেই বদলে গিয়েছেন। ঝামেলা আর রাজনীতির চাপের মধ্যে কেউ ঢুকতে চান না। আমরাই তো চাপে আছি। ওঁরা কেন সেই চাপ নেবেন! প্রতিবেশীরাও বদলে গিয়েছেন। আর নিয়মিত যোগাযোগ করেন না। আসলে সকলের কাছেই নিজের স্বার্থ সবচেয়ে আগে। স্বাভাবিক। আগে রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল। এখন সেই বন্ধনীতে জুড়ে গিয়েছে কেন্দ্রও। সিবিআই কোর্টে দাঁড়িয়ে কলকাতা পুলিশকে ক্লিনচিট দিচ্ছে! এর থেকে দুঃখের আর কী আছে! কলকাতা পুলিশের উপর ‘অনাস্থা’ থেকেই সিবিআই তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছিল আদালতে। সিবিআই ঠিক করেছে, তারা বুঝবে না। বুঝলে গোটা প্রশাসনের কঙ্কাল প্রকাশ্যে চলে আসবে।’’ যে বাড়িতে এক বছর আগে আছড়ে পড়ত সহানুভূতির ঢেউ, সেই বাড়িতে এখন চারপাশ বদলে যাওয়ার আক্ষেপের বাষ্প। নির্যাতিতার পরিবারের ধারণায় আরও একটি বদল। প্রথম থেকে তাঁদের অভিযোগ ছিল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। এখন সেখানে জুড়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারও।

‘বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোর এক বছর’— নাজিম হিকমতের লেখা কবিতার অনুবাদ করেছিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। আরজি করের ঘটনার অভিঘাতে যে শোক নাগরিক ক্রোধে পরিণত হয়েছিল, এক বছর পরে তার কিছু অবশিষ্ট নেই। নির্যাতিতার আত্মীয়-পড়শিরা সরে গিয়েছেন দূরে। সন্তানশোক বুকে নিয়ে নিজেদের মতো লড়াই জারি রাখার কথা বলছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। আর দোষী সঞ্জয়ের মায়ের বদল বা শোক কোনও কিছুই অনুভব করার ক্ষমতা নেই। স্মৃতি থেকে বিস্মৃতির অন্তরালে চলে যেতে গিয়েছে সমাজকে আলোড়িত করা ঘটনার দুই প্রান্তে থাকা দু’টি পরিবার। ঘুচে গিয়েছে ২৫ কিলোমিটারের ব্যবধান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles