সচিত্র পরিচয়পত্র অর্থাৎ এপিক বিলি বা সরবরাহে সরাসরি নজরদারি করবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সিইও। ভোটারদের কাছে দ্রুত এপিক পোঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। সিইও দফতরের একটি সূত্রের খবর। রাজ্যের অফিসারেরা আর নন। সচিত্র পরিচয়পত্র বিলিতে এ বার সরাসরি নজরদারি সিইও-র! পদ্ধতি বদল কমিশনের। এতদিন অনুযায়ী বুথ লেভেল অফিসার বিএলও, ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ইআরও হয়ে এপিক যেত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। দেড় লক্ষের বেশি এপিক ডাক বিভাগের মারফত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পোঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। সেপ্টেম্বর থেকে এই কাজ পুরোদমে শুরু করবে। বর্তমানে ভোটার কার্ড সরবরাহের দায়িত্ব রয়েছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের ডিইও উপর। এ বার থেকে সেই দায়িত্ব সিইও দফতর নিজেরাই নেবে। সিইও দফতরের এক আধিকারিক মঙ্গলবার জানান, রাজ্যের সব ডিইও-দের কাছে পড়ে থাকা ভোটার কার্ডগুলি ১৫ দিনের মধ্যে ভোটারদের বাড়িতে বিলি ডেলিভারি করার নির্দেশ। ২০ আগস্টের মধ্যে সেগুলি বিলি করা না গেলে সব এপিক জমা দিতে হবে সিইও দফতরে। বিলি করবে সিইও দফতরের অধিকারীকেরাই। আগে বুথ লেভেল অফিসার বিএলও, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ইআরও হয়ে এপিক যেত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। সেখান থেকে সিইও দফতর হয়ে মুদ্রণের জন্য পাঠানো হত। মুদ্রিত এপিক আবার উল্টো পথে যেত ইআরও-দের কাছে। সেখান থেকে পাঠানো হত ডাক বিভাগে। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই সচিত্র পরিচয়পত্র পৌঁছে দিত। সিইও দফতর জানিয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে প্রথমে মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে সরস্বতী প্রেসে। মুদ্রিত কার্ড পাঠাবে জিপিওতে। জিপিও থেকে ডাকে ভোটারদের বাড়িতে পোঁছে যাবে এপিক। এই পদ্ধতিতে ভোটাররা অনেক তাড়াতাড়ি এপিক পাবেন। ২২ জুলাই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সিইও-র দফতরকে দ্রুত ‘স্বাধীন দফতর’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য রাজ্যেকে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটারদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সিইও-র দফতর জানিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এপিক বিলি করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হদিস মিলছে না। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় ৩০০টির বেশি এপিক বিলি করা যায়নি।
কাজে গাফিলতির জন্য চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। দুজন ইআরও ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও দুজন এইআরও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দ্রুত এঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুঙ্খাপুঙ্খানুরূপে ব্যবস্থা নেওয়ার পর কমিশনের কাছে একটি রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই চার আধিকারিক কমিশনের হয়ে কাজ করার সময় গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারেননি। অনাঙ্কাখিত কিছু ব্যক্তির হাতে তাদের লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড তুলে দিয়েছেন। অন্যদিকে নাম নথিভুক্তির সময়েও বেশ কিছু ভুল তথ্য আপলোড করেছেন বা নথিভুক্ত করেছেন। আধিকারিকদের এই ধরনের কার্যকলাপকে অপরাধমূলক বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিযুক্ত মোট চারজন সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করে তদন্ত শুরু করতে বলা হয়েছে মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকার কাজ তাঁদের তত্ত্বাবধানে চলছিল। বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও ছিলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং তথাগত মণ্ডল। ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ওই দুই পদে কাজ করছিলেন বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। এই চারজন আধিকারিক ছাড়াও সুরজিৎ হালদার নামে একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের নামেও এফআইআর করার নির্দেশ। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন মোতাবেক, রাজ্যের যেসকল কর্মী ভোটার তালিকার সংশোধন বা সমীক্ষা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকেন, তাঁরা ডেপুটেশনে নির্বাচন কমিশনের কর্মী হিসেবে কাজ করছেন বলে গণ্য হয়। সেই হিসেবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পাশাপাশি জেলা নির্বাচন আধিকারিক, নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকরাও কমিশনের অধীনস্থ এই সময়। কমিশনের নির্দেশ মেনে তাঁরা কাজ না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন। অপরাধ প্রমাণ হলে তিন মাস থেকে দু’বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডও হতে পারে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে সে কথাও জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।




