ওভাল টেস্টে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ড থেকে সিরিজ ড্র করে ফিরছে শুভমান গিলের ‘নতুন ভারত’। এরপর কিছুদিনের ‘ছুটি’। ফের মাঠে নামবে ভারতীয় দল। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এশিয়া কাপ। গ্রুপ পর্ব চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যার মধ্যে দুবাইয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ রয়েছে। অক্টোবরের প্রথমেই আছে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট ম্যাচ। তার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে টিম ইন্ডিয়া। সেখানে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে। অর্থাৎ ফের রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের ভারতের জার্সিতে মাঠে দেখা যাবে। সেখানে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলবেন সূর্যকুমার যাদবরা। ভারতেই রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ। একটি টেস্ট ইডেনে। একনজরে চলতি বছরের সূচি।
ভারতের এশিয়া কাপের সময়সূচি
গ্রুপ পর্ব (৯-১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
১০ সেপ্টেম্বর- ভারত বনাম সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (দুবাই)
১৪ সেপ্টেম্বর- ভারত বনাম পাকিস্তান (দুবাই)
১৯ সেপ্টেম্বর- ভারত বনাম ওমান (আবু ধাবি)
(এরপর সুপার ফোর ও ফাইনাল)
ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ (ভারতে)
২-৬ অক্টোবর- প্রথম টেস্ট – নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, আহমেদাবাদ
১০-১৪ অক্টোবর- দ্বিতীয় টেস্ট- অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, দিল্লি
ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজ (অস্ট্রেলিয়ায়)
১৯ অক্টোবর- প্রথম ওয়ানডে- পারথ
২৩ অক্টোবর- দ্বিতীয় ওয়ানডে- অ্যাডিলেড
২৫ অক্টোবর- তৃতীয় ওয়ানডে- সিডনি
ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ (অস্ট্রেলিয়ায়)
২৯ অক্টোবর- প্রথম টি-টোয়েন্টি- ক্যানবেরা
৩১ অক্টোবর- দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি- মেলবোর্ন
২ নভেম্বর- তৃতীয় টি-টোয়েন্টি- হোবার্ট
৬ নভেম্বর- চতুর্থ টি-টোয়েন্টি- গোল্ড কোস্ট
৮ নভেম্বর- পঞ্চম টি-টোয়েন্টি- ব্রিসবেন
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজ (ভারতে)
১৪-১৮ নভেম্বর- প্রথম টেস্ট- ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা
২২-২৬ নভেম্বর- দ্বিতীয় টেস্ট – বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়াম, গুয়াহাটি
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে সিরিজ (ভারতে)
৩০ নভেম্বর- প্রথম ওয়ানডে- রাঁচি
৩ ডিসেম্বর- দ্বিতীয় ওয়ানডে- রায়পুর
৬ ডিসেম্বর- তৃতীয় ওয়ানডে- বিশাখাপত্তনম
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি সিরিজ (ভারতে)
৯ ডিসেম্বর- প্রথম টি-টোয়েন্টি- কটক
১১ ডিসেম্বর- দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি- মুল্লানপুর
১৪ ডিসেম্বর- তৃতীয় টি-টোয়েন্টি- ধরমশালা
১৭ ডিসেম্বর- চতুর্থ টি-টোয়েন্টি- লখনউ
১৯ ডিসেম্বর- পঞ্চম টি-টোয়েন্টি- আহমেদাবাদ
অধিনায়ক হিসাবে নিজের প্রথম সিরিজে শুভমন গিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজ়ে ৭৫৪ রান করেন। তাঁর নেতৃত্বে সিরিজ ২-২ ড্র করেছে ভারত। নজির গড়েছেন ভারত অধিনায়ক। ভারত ও ইংল্যান্ডের মাঝে টেস্টের ইতিহাসে এক সিরিজে সর্বাধিক রান করেছেন শুভমন। ১৯৯০ সালে ৭৫২ রান করা ইংল্যান্ডের গ্রাহাম গুচকে ছাপিয়ে গিয়েছেন শুভমন। ভারতের অধিনায়ক হিসাবে এক টেস্ট সিরিজ়ে সর্বাধিক রান করেছেন শুভমন। ১৯৭৮-৭৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসাবে ৭৩২ রান করেছিলেন সুনীল গাভাসকার। বিশ্বের অধিনায়কদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে শুভমন। শীর্ষে ডন ব্র্যাডম্যান। অধিনায়ক হিসাবে এক সিরিজে ৮১০ রান করেছিলেন। এশিয়ার প্রথম ব্যাটার হিসাবে সেনা (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউ জ়িল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) দেশে এক টেস্ট সিরিজ়ে ৭০০ বা তার বেশি রান করেন শুভমন। ২০১৪-১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে বিরাট কোহলির ৬৯২ রান ছিল সর্বাধিক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এশিয়ার ব্যাটারদের মধ্যে এক টেস্ট সিরিজে সর্বাধিক রান করেছেন শুভমন। যশস্বী জয়সওয়ালের ৭১২ রান ছিল সর্বাধিক। ইংল্যান্ডের মাটিতে এশিয়ান ব্যাটারদের মধ্যে এক টেস্ট সিরিজে সর্বাধিক রান করেছেন শুভমন। আগে মহম্মদ ইউসুফের ৬৩১ রান ছিল সর্বাধিক। ডন ব্র্যাডম্যান ও সুনীল গাভাসকারের পর শুভমন তৃতীয় অধিনায়ক যিনি এক টেস্ট সিরিজ়ে চারটে শতরান করেছেন। সেনা (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউ জ়িল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) দেশে প্রথম এশিয়া অধিনায়ক হিসাবে দ্বিশতরান (এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রান) করেছেন শুভমন। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক তিলকরত্নে দিলশানের ১৯৩ রান ছিল সর্বাধিক। এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে ২৬৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রান করেছেন শুভমন। এক টেস্টেই ৪৩০ রান করেছেন। বিদেশের মাটিতে এক টেস্টে এই রান সর্বাধিক। পাকিস্তানের মাটিতে এক টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মার্ক টেলরের ৪২৬ রান ছিল সর্বাধিক। ভারতের অধিনায়ক হিসাবে টেস্টের এক ইনিংসে শুভমনের ২৬৯ রান সর্বাধিক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিরাট কোহলির ২৫৪ রান ছিল সর্বাধিক। কোহলির পর বিশ্বের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসাবে নিজের প্রথম দুই টেস্টে তিনটে শতরান করেছেন শুভমন। হেডিংলেতে প্রথম ইনিংসে ১৪৭ এবং এজবাস্টনে দুই ইনিংসে ২৬৯ ও ১৬১ রান করেছেন। কোহলি অধিনায়ক হিসাবে অ্যাডিলেডে ১১৫ ও ১৪১ এবং সিডনিতে ১৪৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সুনীল গাভাসকারের পর দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসাবে নিজের প্রথম টেস্টে শতরান ও দ্বিতীয় টেস্টে দ্বিশতরানের ইনিংস খেলেছেন শুভমন। গাভাসকার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১১৬ ও পরের টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ২০৫ রান করেছিলেন। অ্যালান বর্ডারের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসাবে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই ১৫০-এর বেশি রান করেছেন শুভমন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৫০ ও ১৫৩ রান করেছিলেন বর্ডার। ভারতের প্রথম অধিনায়ক হিসাবে ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে টেস্ট জিতেছেন শুভমন।




