Wednesday, July 15, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শুভমন গিলের ঐতিহাসিক দ্বিশতক!‌ প্রশংসা সৌরভের, আগুনঝরা বোলিং বাংলার আকাশের!‌ টেস্টে এশিয়ার প্রথম অধিনায়ক হিসাবে এই কীর্তি ভারতীয় ক্রিকেটের প্রিন্সের

ইংল্যান্ডের মাটিতে একাধিক ইতিহাস গড়লেন শুভমন গিল! ভারতের তরুণ অধিনায়ক শুভমন গিল বার্মিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে নিজের প্রথম টেস্ট দ্বিশতক করে ইতিহাস গড়লেন। ৩১১ বলে এই কীর্তি অর্জন করেন। টেস্টে প্রথমবার ডবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন শুভমান গিল। ইংল্যান্ডের মাটিতে সোনালি ফর্ম অব্যাহত ভারত অধিনায়কের। সিরিজের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। এবার এজবাস্টনে ডবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন ভারতীয় ক্রিকেটের প্রিন্স। ৩১১ বলে দ্বিশতরান এল গিলের ব্যাট থেকে। উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানাল গোটা ভারতীয় দল। ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে প্রথমদিনের শেষে ১১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ভারত অধিনায়ক। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে রবীন্দ্র জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে ৪০০-র গণ্ডি পেরন তিনি। সঙ্গে ভেঙেছেন বিরাট কোহলির রেকর্ড। এই এজবাস্টনেই ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কোহলি। এদিন কোহলির সেই বিরাট রেকর্ডকে টপকে যান গিল। দেড়শোর পরে অনায়াস ভঙ্গিতে ডবল সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন। টেস্ট কেরিয়ারে এই প্রথমবার ডবল সেঞ্চুরি করলেন গিল। এর আগে ওয়ানডে’তে ২০৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ইংল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগে টেস্টে গিলের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১২৮রানের। তবে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন হেডিংলি টেস্টে। ১৪৭ রান করেন তেণ্ডুলকর-অ্যান্ডারসন ট্রফির প্রথম টেস্টে। তারপর দ্বিতীয় টেস্টে ডবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধৈর্যশীল ব্যাটিং ছেড়ে খানিকটা আগ্রাসী ব্যাটিং করতেও দেখা গেল ভারতীয় অধিনায়ককে। পাঁচশো রানের গণ্ডিও টপকে যায় টিম ইন্ডিয়া। ভারত অধিনায়ক দ্বিতীয় সেশনেই আড়াইশো রানও পূর্ণ করেন। সেই সঙ্গে একঝাঁক কিংবদন্তির নজির ভেঙে দিলেন ‘নতুন ভারতে’র অধিনায়ক। সুনীল গাভাসকর, শচীন তেণ্ডুলকর এবং বিরাট কোহলি-তিন প্রজন্মের তিন সেরা ব্যাটারের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোরকে টপকে গেলেন শুভমান। টেস্টে এই তিন কিংবদন্তির সর্বোচ্চ স্কোর ছিল যথাক্রমে ২৩৬, ২৪৮ এবং ২৫৪। জীবনের সপ্তম সেঞ্চুরিতেই তিনজনকে টপকে গেলেন গিল। ২৬৯ রান করেন। ভারতের প্রথম ইনিংসে রান ৫৮৭। ব্যাট করতে নেমে ৭৭ রানে তিন উইকেট খুইয়েছে ইংল্যান্ড। ইংরেজরা পিছিয়ে ৫১০ রানে। বাংলার আকাশদীপ দুটি উইকেট তুলে নেন। একটি মহম্মদ সিরাজ।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫৮৭ রান করল ভারত। ১৮ বছর পর আবার ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে এক ইনিংসে ৫০০ রানের বেশি করল ভারত।

এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে রেকর্ড ২৬৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। এই ইনিংসের নেপথ্যে কোচ গম্ভীরকে কৃতিত্ব দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। শুভমন জানিয়েছেন, কী ভাবে গম্ভীরের পরামর্শ তাঁর কাজে লেগেছে। ভারত অধিনায়ক বলেন, “প্রথম দিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে আমি ৩৫-৪০ রানে ব্যাট করছিলাম। প্রায় ১০০ বল খেলে ফেলেছিলাম। সাজঘরে ফিরে গৌতি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলি। জানাই যে ফিল্ডিংয়ের ফাঁক খুঁজে পাচ্ছি না। যা মারছি সোজা ফিল্ডারের কাছে যাচ্ছে। গৌতি ভাই আমাকে বলেছিল, উইকেটে পড়ে থাকতে। তা হলেই রান আসবে। সেই পরামর্শ তার পর কাজে লাগিয়েছি। উইকেটে টিকে থেকেছি। একটা সময় পড়ে সহজে রান করেছি।” আইপিএল চলাকালীনই শুভমনকে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। সেই সময় থেকেই তাঁর মন পড়ে লাল বলের ক্রিকেটে। সেই সময় থেকেই টেস্টের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। শুভমন জানিয়েছেন, এই সিরিজ়ের আগে কিছু বিষয়ে কাজ করেছেন।ইংল্যান্ডের মাটিতে ২৬৯ রানের ইনিংসের পর হোটেলে ফিরে প্রথমেই সুইমিং পুলে ঝাঁপ মেরেছেন শুভমন। শরীর ও মন ঠান্ডা করেছেন। তার পর নৈশভোজ সেরে ঘরে ফিরে ফোনে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। ভারত অধিনায়ক বলেন, “এই সিরিজ়ের আগে কয়েকটা বিষয়ে কাজ করেছি। আইপিএলের শেষেই সেগুলো শুরু করেছিলাম। মনে হচ্ছিল, টেস্টে কাজে লাগবে। এখন মনে হচ্ছে, আমার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল। আইপিএলের পরে আমার টেকনিকে কিছু বদল করেছি। ব্যাটিং স্টান্স ব্যাট হাতে দাঁড়ানোর ভঙ্গি একটু বদলেছি। কখনও ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে দাঁড়াচ্ছি, যাতে সুইং কম সামলাতে হয়। বল হওয়ার পর পায়ের নড়াচড়াতেও একটু বদল করেছি। আমি আগেও ভাল ব্যাট করছিলাম। কিম্তু ৩০-৪০ রান করে আউট হয়ে যেতাম। সেটা যাতে না হয় তার জন্যই এই বদল। টি-টোয়েন্টি শেষ করে সরাসরি টেস্টে নামা কঠিন। তার জন্য মানসিকতাতেও বদল করতে হয়। টি-টোয়েন্টিতে প্রাথমিক লক্ষ্য থাকে প্রতি বলে বড় শট মারতে হবে। টেস্টে ধৈর্য লাগে। সময় দিতে হয়। আইপিএলের পরে মানসিকতা বদলাতে হয়েছে। তবেই রান এসেছে। বাবা বলল, ‘ভাল খেলেছ। তোমার ব্যাটিং দেখে খুব আনন্দ হয়েছে। তোমাকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে।’ মা বলল, ‘এ ভাবেই খেলে যাও। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন। বাবা-মায়ের এই কথার গুরুত্ব আমার কাছে অনেক। ছোট থেকে বাবা সবসময় আমার পাশে থেকেছে। আমার ক্রিকেট কাছ থেকে দেখেছে। বাবা আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু। মা-ও আমাকে সবসময় উৎসাহ দিয়েছে। ওরা খুশি। কিন্তু একটা দুঃখও হচ্ছে। ৩০০ মিস্‌ হয়ে গেল।” ত্রিশতরান হাতছাড়া হলেও এজবাস্টনের ইনিংসে আধ ডজন রেকর্ড গড়েছেন শুভমন। ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক রান করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের মাটিতেও কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের এটা সর্বাধিক রান। এই প্রথম কোনও ভারতীয় অধিনায়ক ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিশতরান করেছেন। অধিনায়ক হিসাবে পর পর দুটো টেস্টে বড় রান এসেছে শুভমনের ব্যাট থেকে। এই ছন্দই এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন।

এই ইনিংসে খেলে গিল হলেন দ্বিতীয় ভারতীয় অধিনায়ক, যিনি বিদেশের মাটিতে টেস্টে দ্বিশতক করলেন। বিরাট কোহলির ২০১৬ সালে নর্থ সাউন্ডে করা ২০০ রানের পর তিনিই এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। শুভমন গিল হলেন এশিয়ার প্রথম অধিনায়ক হিসাবে SENA (South Africa, England, New Zealand, Australia) দেশগুলির মাটিতে টেস্টে দ্বিশতক করলেন। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল তিলকরত্নে দিলশানের ১৯৩, ২০১১ সালে লর্ডসে। শুভমন গিল এখন ভারতের হয়ে টেস্টে দ্বিশতক করা সবচেয়ে কনিষ্ঠ দ্বিতীয় অধিনায়ক।
২৩ বছর ৩৯ দিন – মানসুর আলি খান পাতৌদি বনাম ইংল্যান্ড, দিল্লি, ১৯৬৪
২৫ বছর ২৯৮ দিন – শুভমন গিল বনাম ইংল্যান্ড, এজবাস্টন, ২০২৫
২৬ বছর ১৮৯ দিন – সচিন তেন্ডুলকর বনাম নিউজিল্যান্ড, আমদাবাদ, ১৯৯৯
২৭ বছর ২৬০ দিন – বিরাট কোহলি বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নর্থ সাউন্ড, ২০১৬

এজবাস্টনে ২৬৯ রানের রেকর্ড ইনিংস খেলেছেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত ডবল সেঞ্চুরির জন্য ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন শুভমানকে। শুভমানের মাস্টারক্লাসে মুগ্ধ সৌরভ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “অসাধারণ ব্যাটিং গিলের। একেবারে নিখুঁত। ত্রুটিহীন। ইংল্যান্ডে আমার দেখা যেকোনও যুগের সেরা ইনিংসগুলোর মধ্যে একটি। গত কয়েক মাসে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে শুভমান। সম্ভবত টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনিং ওর জন্য সঠিক জায়গা ছিল না। এই টেস্টটা কিন্তু ভারত জিততে পারে।” গিলের ৩৮৭ বলে ২৬৯ রানের ইনিংসটিকে ‘ট্রেড মার্ক’ ধ্রুপদী টেস্ট ইনিংস হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। উল্লেখ্য, ভারত অধিনায়ক হিসাবে টেস্টে সর্বোচ্চ রান করেছেন গিল। তাছাড়াও এশিয়ার বাইরে ভারতীয় ব্যাটার হিসাবে টেস্টে সর্বোচ্চ রান করেছেন টিম ইন্ডিয়ার টেস্ট অধিনায়ক। টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শুভমান টপকে গিয়েছেন গাভাসকর, শচীন, কোহলিকে। অধিনায়কত্ব পেয়েই পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরির তালিকায় সপ্তম ব্যাটারকে আশ্চর্য কীর্তি দেখে মহারাজও তাঁকে কুর্নিশ জানালেন।

গিল টেস্টে ইংল্যান্ডের মাটিতে ২০০ রান করা ভারতীয়দের এলিট ক্লাবে ঢুকে পড়লেন। তাঁর আগে এই কীর্তি ছিল শুধুই সুনীল গাভাসকর ও রাহুল দ্রাবিড়ের। গিল যখন ২২২ রানে পৌঁছান, তখন তিনি গাভাসকরের ১৯৭৯ সালের ওভাল টেস্টে করা ২২১* ও দ্রাবিড়ের ২০০২ সালের ওভালে করা ২১৭ রানের ইনিংসকে ছাপিয়ে যান। লিডসে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে ১৪৭ রান করা গিল নিজের প্রথম দ্বিশতকটি সম্পূর্ণ করেন জশ টাংকে ডিপ ফাইন লেগে একটি সিঙ্গেল খেলে। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি মানসুর আলি খান পাতৌদি, সুনীল গাভাসকর, শচীন তেন্ডুলকর ও মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে দ্বিশতকের তালিকায় নাম লেখান। বিরাট কোহলি অধিনায়ক হিসেবে সাতটি দ্বিশতক করে এখনও শীর্ষে আছেন। গিলের আগে SENA দেশের মাটিতে কোনো ভারতীয় অধিনায়কের সর্বোচ্চ রান ছিল মহম্মদ আজহারউদ্দিনের ১৯২ রান (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, অকল্যান্ড, ১৯৯০)। ইংল্যান্ডে ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রান ছিল তাঁরই ১৭৯ রান ম্যাঞ্চেস্টার, ১৯৯০। গিল তাঁর এই ঐতিহাসিক ইনিংসে ২১টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে দ্বিশতক করা তিনি হলেন তৃতীয় ভারতীয় ব্যাটার, সুনীল গাভাসকর ও রাহুল দ্রাবিড়ের পরে।

একেবারে ধ্রুপদী টেস্ট দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। ১১ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন রবীন্দ্র জাদেজা। ১৩৭ বলে তাঁর ৮৯ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০টি চার এবং ১টি ছক্কা দিয়ে। জশ টংয়ের বাউন্সার সামলাতে না পেরে আউট হন। দ্বিতীয় দিন ৪১ রানে শুরু করে, দিনের শুরুটা করেছিলেন বাউন্ডারি মেরে হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান জাদেজা। কপিল দেবের নজির স্পর্শ করেন জাড্ডু। SENA দেশগুলিতে টেস্টে ৭ নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিং করে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে। SENA দেশগুলিতে স্কোর ৮টি। শুভমান গিল জাদেজার সঙ্গে তাঁর ২০৩ রানের জুটিতেই ভারত ৪০০-র গণ্ডি পেরিয়েছে।লাঞ্চের আগেই বিরাট কোহলির রেকর্ড ভাঙলেন শুভমন গিল। এই এজবাস্টনেই ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কোহলি। কোহলির সেই বিরাট রেকর্ডকে টপকে যান গিল। অধিনায়ক হিসেবেও এই প্রথমবার দেড়শো রান করেন গিল। ১৯৯ বলে টেস্টে সপ্তম সেঞ্চুরি শুভমানের। এই সেঞ্চুরির পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টানা তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তাঁর আগে দু’টি সেঞ্চুরি এসেছিল ধরমশালায় (২০২৪) এবং লিডসে (২০২৫)। চতুর্থ ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টানা তিনটি শতরান হাঁকানোর কৃতিত্ব অর্জন করলেন। শুভমানের আগে মহম্মদ আজহারউদ্দিন (১৯৮৪-৮৫), দিলীপ বেঙ্গসরকার (১৯৮৫-৮৬) এবং রাহুল দ্রাবিড় (২০০২ ও ২০০৮-২০১১)-এর নামে রয়েছে এই রেকর্ড। তাছাড়াও এই ইনিংসের ফলে গিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দু’টি টেস্টে টানা সেঞ্চুরি করা সফরকারী অধিনায়কদের একটি অভিজাত ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন ডন ব্র্যাডম্যান, গারফিল্ড সোবার্স, গ্রেইম স্মিথের মতো কিংবদন্তি তারকারা।

শুভমনের আধ ডজন রেকর্ড। ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক রানের ইনিংস খেললেন শুভমন। এর আগে সেই রেকর্ড ছিল কোহলির দখলে। তিনি ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অপরাজিত ২৫৪ রান করেছিলেন। তার আগের দুটো রানও কোহলির। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৪৩ ও ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৩৫ রান করেছিলেন তিনি। কোহলিকে ছাপিয়ে ২৬৯ রান করলেন শুভমন। শুভমনই এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম অধিনায়ক যিনি ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিশতরান করেছেন। এর আগে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক তিলকরত্নে দিলশান ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৯৩ রান করেছিলেন। এশীয় অধিনায়কদের মধ্যে সেটাই ছিল সর্বাধিক। তা ভাঙলেন ভারত অধিনায়ক। বিশ্বের ষষ্ঠ অধিনায়ক হিসাবে এই কীর্তি করেছেন শুভমন। শেষ বার ইংল্যান্ডের মাটিতে অধিনায়ক হিসাবে দ্বিশতরান করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেম স্মিথ। ২০০৩ সালে লর্ডসে। ২২ বছর পর শুভমন আবার তা করলেন। একবিংশ শতকে তাঁরাই দুই অধিনায়ক যাঁরা ইংল্যান্ডের মাটিতে শতরান করেছেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাধিক রান করলেন শুভমন। এত দিন সেই রেকর্ড ছিল সুনীল গাওস্করের দখলে। ১৯৭৯ সালে ওভালে ২২১ রান করেছিলেন তিনি। ৪৬ বছর পুরনো রেকর্ড ভেঙেছেন শুভমন। তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়। ২০০২ সালে ওভালে ২১৭ রান করেন। এশিয়ার বাইরে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক রান। এশিয়ার বাইরে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাধিক রান করেছেন শুভমন। এত দিন এই রেকর্ড ছিল সচিনের দখলে। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ২৪১ রান করেছিলেন তিনি। ২১ বছর পর এজবাস্টনে ভাঙল সেই রেকর্ড। সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে টেস্ট ও এক দিনের ক্রিকেটে দ্বিশতরান। শুভমন বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার যিনি টেস্ট ও এক দিনের ক্রিকেটে দ্বিশতরান করেছেন। বাকিরা হলেন সচিন, বীরেন্দ্র সহবাগ, ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মা। তবে সর্বকনিষ্ঠ (২৫ বছর ২৯৮ দিন) হিসাবে এই রেকর্ড গড়েছেন শুভমন। সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় অধিনায়ক হিসাবে টেস্টে দ্বিশতরান। ভারতের অধিনায়ক হিসাবে সবচেয়ে কম বয়সে দ্বিশতরানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে শুভমন। ২৫ বছর ২৯৮ দিন বয়সে এই কীর্তি করেছেন তিনি। এই রেকর্ড রয়েছে মনসুর আলি খান পটৌদীর দখলে। ২৩ বছর ৩৯ দিন বয়সে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই শতরান করেছিলেন তিনি। তবে সেটা ছিল দিল্লির মাঠে। শুভমন করেছেন ইংল্যান্ডের মাটিতে।

সাধারণ দর্শক হোন বা ড্রেসিংরুমে থাকা ক্রিকেটার-ভারত বনাম ইংল্যান্ডের চলতি সিরিজে সকলের কানেই দেখা যাচ্ছে ছোট্ট লাল রঙের এক যন্ত্র। মাঠে বসে ব্যাট-বলের লড়াই দেখার ফাঁকেই ওই লাল যন্ত্রেও কান পাতছেন সকলে। কিন্তু এই যন্ত্রটি কী? কেনই বা স্টেডিয়ামে সকলের কানে দেখা যাচ্ছে এই ছোট্ট যন্ত্রটি? লাল রঙের ছোট্ট এই যন্ত্রটি আসলে পোর্টেবল রেডিও। মাঠে বসে চাক্ষুষ খেলা দেখার ফাঁকে যেন খেলার বিশ্লেষণটাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়, সেজন্যই এই রেডিও থাকে স্টেডিয়ামে। অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের স্টেডিয়ামগুলিতেই মূলত এই পোর্টেবল রেডিওর ব্যবস্থা রয়েছে। মাঠে ঢোকার সময়ে দর্শক থেকে সাংবাদিক, সকলেই এই রেডিও নিতে পারেন নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে। চলতি ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজে স্কাই স্পোর্টস এবং বিবিসির কমেন্ট্রি হচ্ছে। মাঠে বসে দু’রকম কমেন্ট্রিই শুনতে পাবেন দর্শকরা। প্রেস বক্সে বসে থাকা সাংবাদিকরাও শুনতে পাবেন, ধারাভাষ্যকারদের আসনে বসে খেলা নিয়ে কে কেমন বিশ্লেষণ করবেন। দুই দলের যেসমস্ত ক্রিকেটাররা প্রথম একাদশের বাইরে রয়েছেন বা দলের সঙ্গ যেসমস্ত সাপোর্ট স্টাফ রয়েছেন, তাঁদের জন্যও এই লাল রঙের রেডিওর ব্যবস্থা রয়েছে। মাঠের যেকোনও প্রান্তে বসেই কমেন্ট্রি শুনতে পাবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গেলে আর কাজ করবে না এই রেডিও। তবে ভারতের স্টেডিয়ামগুলিতে এই ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত নেই। পোর্টেবল এই রেডিওর মাধ্যমে দর্শকরা আরও বেশি একাত্ম হতে পারেন খেলার সঙ্গে। কমেন্ট্রি শুনেই ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকে বড় হয়েছেন। একাধিক হাইভোল্টেজ ম্যাচের সঙ্গে সেই খেলার কমেন্ট্রিও কার্যত ক্লাসিক হয়ে যায়। তাই মাঠে বসেই সেই কমেন্ট্রির আনন্দ উপভোগ করতে পারেন আমজনতা। অনেক সময়ে ড্রেসিংরুমে থাকা সাপোর্ট স্টাফরা মাঠের সর্বত্র দেখতে পান না। কমেন্ট্রির মাধ্যমে ফিল্ড প্লেসমেন্ট থেকে শুরু করে সমস্তই বুঝতে পারেন ইংল্যান্ডের এই প্রযুক্তিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles