বুমরাহকে দিয়ে বেশি বোলিং করানো উচিত নয় গিলের! গৌতির অধিনায়ককে পরামর্শ দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব থেকে বড় মাথা ব্যথার কারণ জসপ্রীত বুমরাহ-র ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বিষয়। নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনওভাবেই হয়ত ৩ টেস্টের বেশি খেলতে পারবেন না বুমরাহ। কারণ মাসখানেক আগেই চোট সারিয়ে ফিরেছেন ক্রিকেটে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অতিরিক্ত বোলিং করতে গিয়েই বুমরাহ-র চোট লেগেছিল। আগামী বছরের শুরুর দিকে রয়েছে টি২০ বিশ্বকাপ। ট্রফি ডিফেন্ড করার লক্ষ্যে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে বুমরাহকে ফিট রাখতে চান আগরকররা। ইংল্যান্ডে যদি বুমরাহকে ঠিকঠাক ব্যবহার করা না যায়, তাহলে ভারতীয় দলের তো কপালে দুঃখ থাকতে পারে। যদিও এই নিয়েই বড় বার্তা দিয়ে দিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আশা করব যে বুমরাহ পাঁচটা ম্যাচেই খেলবে। কিন্তু ওকে যদি বিরতি দিতেই হয়, তাহলে সেটা দ্বিতীয় টেস্টে দেওয়া উচিত। যাতে চতুর্থ এবং পঞ্চম টেস্টে ওকে অবশ্যই পাওয়া যাব, সেখানে বুমরাহ-র ফিট থাকাটা খুব খুব জরুরি। শুভমনকে বুঝতে হবে কোন কারণে বুমরাহকে বোলিং দেওয়া হচ্ছে। ওকে উইকেট টেকার হিসেবে শুধু ব্যবহার করতে হবে, ছোট ছোট স্পেলে। যাতে ও পাঁচ টেস্টেই ফিট থাকে। আর দেখতে হবে বাকি বোলাররা যেমন তরুণ আর্শদীপ, সিরাজরা ফিটনেসের দিক থেকে ভালো ডায়গায় থাকে আর নিজেদের সেরাটা দেয়। বুমরাহকে উইকেট নেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে, এটা গিলকেও বুঝতে হবে। আশা করব দলের কোচ আর সিনিয়র ক্রিকেটাররা এই বিষয়ে গিলকে গাইড করবে। কাগজে কলমে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ খুবই অনভিজ্ঞ। কিন্তু মাঠে নেমে, বিষয়টা অন্যরকম হতেই পারে। জো রুট, হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোকস, বেন ডাকেট, জেমি স্মিথ, ব্রাইডন কার্সদের নিয়ে এই ইংল্যান্ড দল বেশ শক্তিশালী। কিন্তু ভারতকে যে তাঁরা হারাবেই, সেটা বলা যাবে না। খেলায় কখনও কেউ সেরা হয় না। ভারত যদি পরিশ্রম করে, আর বুমরাহ যদি অন্তত চারটে টেস্টেও ফিট থাকে, তাহলেও ভারতীয় দলই এই সিরিজ জিতবে ’।
ভারতীয় দলে নেই বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন। জসপ্রীত বুমরাহই মহাতারকা। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তিন তারকার না থাকা তরুণদের জন্য সুযোগ হিসাবে দেখতে চাইছেন হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেন, তিন মহীরুহের অনুপস্থিতি নিয়ে বিশেষ না ভেবে শুভমান গিলদের উচিত এই সুযোগটা কাজে লাগানো। ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। নিয়মিত অনুশীলনা গা ঘামাচ্ছে ভারতীয় দল। বিসিসিআইয়ের তরফে গিলদের অনুশীলনের একটি ভিডিও পোস্টে ভিডিও-য় কোচ গম্ভীরকে দেখা যাচ্ছে তরুণ ভারতীয় দলকে পেপটক দিতে। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের অনুপস্থিতিতে নতুন ভারতীয় দলকে দুটি বিকল্প দিয়েছেন হেডকোচ বলেন, পুরো বিষয়টিকে দুভাবে দেখা যায়। এক, আমরা দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তিনজনকে পাচ্ছি না। দুই, এটাই আমাদের দেশের জন্য কিছু করে দেখানোর সুযোগ। টিম ইন্ডিয়ার তরুণ তুর্কিদের উদ্দশে গম্ভীর বলেন, “তোমাদের দেখলে আমার মনে হয়, তোমাদের মধ্যে খিদে, প্যাশন এবং দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমাদের আত্মত্যাগ করতে হবে। কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা যদি প্রত্যেক সেশন, প্রত্যেক ঘণ্টা, প্রত্যেক বলে লড়াই করতে পারি, তাহলে এই সফরটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ এখন থেকেই সেটা শুরু করতে হবে। দেশের হয়ে খেলার থেকে বড় সম্মানের কিছু হতে পারে না।”
গম্ভীরের গুরুমন্ত্রে দীক্ষিত ক্রিকেটাররা। ২০ জুন থেকে শুরু হবে ভারতের পাঁচ টেস্টের ইংল্যান্ড সিরিজ। প্রথম টেস্ট লিডসে। ২ জুলাই থেকে এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্ট। লর্ডসে তৃতীয় টেস্ট হবে ১০ জুলাই থেকে। ২৩ জুলাই থেকে চতুর্থ টেস্ট ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। শেষ টেস্ট ৩১ জুলাই থেকে, ওভালে। এই সিরিজেই ভারতীয় দলে গম্ভীর-গিল যুগলবন্দির সূচনা। সেই সিরিজকে স্মরণীয় করে রাখতে চান হেডকোচ সব টেস্টে নেই বুমরাহ! বোলিংয়ে বৈচিত্র্যে কাদের উপর ভরসা টিম ম্যানেজমেন্টের? টিম কম্বিনেশন কী হবে, তা নিয়েও বিস্তর চর্চা। ইংল্যান্ড সফরটা ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরের কাছে অ্যাসিড টেস্ট। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির টেস্ট থেকে অবসরের পর ভারতীয় ক্রিকেটে বলাবলি চলছে-এরকম একটা কঠিন সফরে ট্রানজিশন পর্বের শুরু না হলেই ভালো হত। গম্ভীর নিজে জানেন এই সিরিজে ব্যর্থ হলে তাঁকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। ২০ জুন প্রথম টেস্ট। তার আগে শুভমান গিলরা প্রস্তুতি সারছেন। একটা ইনট্রা স্কোয়াড ম্যাচও রাখা হয়েছে। টিম কম্বিনেশন কী হবে, তা নিয়েও বিস্তর চর্চা। শার্দূল ঠাকুর অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে বাদ পড়েছিলেন। ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে শার্দূলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। লোয়ার অর্ডারে শার্দূল রানও করে দিতে পারবেন। তবে শার্দূল না নীতীশ রেড্ডি, সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও প্রথম টেস্টের আগে সপ্তাহ খানেক বাকি। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট চাইছে, যাবতীয় যা কম্বিনেশন আগেই ঠিক করে নিতে। বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল বলছিলেন, “রেড্ডি বেশ স্কিলফুল বোলার। বেশ কিছু ম্যাজিক্যাল ডেলিভারি করতে পারে। আরও ধারাবাহিক হতে হবে ওকে। সেটা নিয়ে আমাদের আরও খাটাখাটনি করতে হবে। ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। রেড্ডি ব্যাটিংয়ে কী করতে পারে, সেটা আমরা দেখেছি। তবে টিমের জন্য ওকে আরও বেশি বোলিং করতে হবে। কারণ ইংল্যান্ডে যে ধরণের কন্ডিশন, তাতে ও আরও বেশি বোলিং করতে পারলে বৈচিত্র্য আরও বেড়ে যাবে। টিমের জন্যও সেটা দারুণ হবে।” জশপ্রীত বুমরাহ চোট সারিয়ে আইপিএলে ফিরেছিলেন। তাঁকে হয়তো পাঁচটা টেস্টের সবগুলোতে খেলানো হবে না। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কথা ভেবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো হতে পারে। বুমরাহকে কোন কোন টেস্টে খেলানো হবে, এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। মর্কেলের কথায়, “সিরিজের জন্য কীভাবে প্রস্তুত হতে হবে, সেটা বুমরাহ খুব ভালো করেই জানে। ওকে নতুন করে বলার কিছু নেই। বুমরাহ যেরকম শেপে রয়েছে, সেটা দেখে আমি খুশি। খুব ভালো মোমেন্টামে রয়েছে। নেটে দারুণ বোলিং করছে।”
একটা সপ্তাহ পরেই শুরু হতে চলেছে ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সিরিজ নিয়ে ইতিমধ্যেই উন্মাদনা চরমে। বিরাট, রোহিত, অশ্বিন না থাকায় কার্যত তরুণ ব্রিগেড নিয়ে ইংল্যান্ড গিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এই তরুণ ভারতীয় দলকে সমীহ নজরেই দেখছেন ইংরেজ কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম। সমীহের নজরে দেখলেও ভারতকে যে ছেড়ে কথা বলবে না, সে কথাও স্পষ্ট করেন। প্রথম টেস্টের আগে ইংল্যান্ড দল বেশ কিছুটা দুর্বল। কারণ চোট সমস্যা রয়েছে ইংল্যান্ড শিবিরে। জোফরা আর্চার খেলবেন না প্রথম টেস্ট। মার্ক উড সম্ভবত গোটা সিরিজেই নেই। এখন পুরোপুরি চোটমুক্ত নন গাস অ্যাটকিনসন। এই পরিস্থিতিতে ম্যাকালাম বলেন, “বেশ কিছু ভালো বোলারকে আমরা পাব না। তবে, আমাদের বোলিং বিভাগে কিন্তু বৈচিত্র্য রয়েছে। দলে রয়েছে ক্রিস ওকস, স্যাম কুক, জিমি ওভার্টনের মতো বোলার। শোয়েব বশিরও কিন্তু ভালো খেলছে। ভারতের বিরুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হবে আমাদের। ওরা দুর্দান্ত একটা দল। খুবই ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক আশা নিয়েই ওরা নামবে। তবে আমরাও কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না। আমরা চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।” ২০ জুন থেকে শুরু হবে ভারতের পাঁচ টেস্টের ইংল্যান্ড সিরিজ। প্রথম টেস্ট লিডসে। ২ জুলাই থেকে এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্ট। লর্ডসে তৃতীয় টেস্ট হবে ১০ জুলাই থেকে। ২৩ জুলাই থেকে চতুর্থ টেস্ট ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। শেষ টেস্ট ৩১ জুলাই থেকে, ওভালে।
‘প্রিয় ছাত্র’ বিরাট কোহলির টেস্ট অবসর এখনও মানতে পারছেন না রবি শাস্ত্রী। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যেকার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের কমেন্ট্রি বক্সে বসেও বিরাটের টেস্ট অবসর নিয়ে আক্ষেপ করতে শোনা গেল প্রাক্তন ভারতীয় কোচকে। কোহলির অবসর নিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক দাবি করেছেন শাস্ত্রী। তাঁর ইঙ্গিত, বোর্ড যদি বিষয়টা আরও ভালোভাবে সামলাতো তাহলে হয়তো বিরাট বিদায় আটকানো যেত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ধারাভাষ্য চলাকালীন সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী বলেন, “কোহলির অবসর আমি মানতে পারছি না। আমার এখনও মন খারাপ। কেউ চলে গেলেই বোঝা যায়, সে কত বড় ক্রিকেটার।” শাস্ত্রীর স্পষ্ট ইঙ্গিত, বিসিসিআই চাইলেই আটকানো যেত বিরাটের অবসর। তিনি বলছেন, “বোর্ড পুরো ব্যাপারটাকে আরও ভালোভাবে সামলাতে পারত। ওঁর সঙ্গে আরও কথা বলার প্রয়োজন ছিল।” আসলে বিরাট বরাবরই শাস্ত্রীর খুব প্রিয়পাত্র। তিনি অকপটে বলে দিলেন, “আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত তা হলে অস্ট্রেলিয়া সফরের পরেই কোহলিকে টেস্ট অধিনায়ক করে দিতাম। সেটা হলে ও আরও কয়েক বছর খেলত।” অবসরের আগে বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কি সে সুযোগ পাননি ভারতীয় ক্রিকেটের কিং? এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অবসরের আগে নিজের ‘গুরু’, ‘ফিলোজাফার’ এবং ‘গাইড’ রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন বিরাট। অর্থাৎ বিরাট ঠিক কেন অবসর নিয়েছেন সেটা জানা ছিল শাস্ত্রীর। সেকারণেই তাঁর বুধবারের মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তাহলে কি কোনও অপ্রাপ্তি বা আক্ষেপ নিয়েই অবসর নিলেন বিরাট? প্রশ্ন উঠছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অবসরের আগে বিরাটের সঙ্গে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লার বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যে ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়া-সহ একধিক কারণে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। যদিও বিরাট অনেকদিন আগেই টেস্ট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন। সেটা সম্ভবত নিজের ফর্ম, বোর্ডের কঠোর পরিবার নীতি এবং কোচ গম্ভীরের আগমনের জেরে। তবে বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে কথা হলে হয়তো সেই সিদ্ধান্তে বদল আসতেও পারত।
একদিনে ১৪ উইকেট। রাবাদা থেকে স্টার্ক, দুই শিবিরের পেসারদের দাপটে অসহায় ব্যাটাররা। এই যদি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের প্রথম দিনের শিরোনাম হয়, তাহলে সেই শিরোনামের আড়ালে একটি বিরল ঘটনা ঘটে গিয়েছে লর্ডসে। যা ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টের ১৪৫ বছরের ইতিহাসে ঘটেনি। ১৯৮০ সালে ওভালে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রথম টেস্ট ম্যাচ হয়। এরপর ইংল্যান্ডের মাটিতে ৫৬১টি টেস্ট ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু এই প্রথমবার দুই ইনিংসের একনম্বর ব্যাটার (ব্যাটিং অর্ডার অনুযায়ী) শূন্য রানে আউট হলেন। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার উসমান খোয়াজা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। সব মিলিয়ে টেস্টে দশমবার এমন ঘটনা ঘটল। বোলারদের দাপটের মাঝেও ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ। এই নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর দুই ইনিংসে দুটি হাফ সেঞ্চুরি করলেন স্মিথ। আইসিসির নক আউট ম্যাচে এটা তাঁর সপ্তম ৫০-এর বেশি রান। তিনি টপকে গেলেন শচীন তেণ্ডুলকরকে। আইসিসি নকআউটে ৫০-এর বেশি রানের ছটি ইনিংস খেলেছেন শচীন। স্মিথ এখনও এই তালিকায় বিরাট কোহলির থেকে পিছিয়েই রয়েছেন। রেকর্ড গড়েছেন কাগিসো রাবাডাও। এই মুহূর্তে ৭১ টেস্টে ৩৩২ উইকেট দখল করেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় অ্যালান ডোনাল্ডকে টপকে গেলেন তিনি। তাঁর সামনে রয়েছেন মোটে তিনজন। ডেল স্টেইন (৪৩৯), শন পোলক (৪২১), মাখায়া এনটিনি (৩৯০)। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি অজি ব্যাটাররা। কিন্তু শেষবেলায় এসে দলকে ম্যাচে ফেরান প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্করা। বুধবার লর্ডসে টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। মেঘলা আবহাওয়ায় শুরু থেকেই প্রোটিয়া পেস ব্যাটারির সামনে সমস্যায় পড়তে দেখা যায় অজি ব্যাটারদের। ২১২ রানে থেমে যায় অজিদের প্রথম ইনিংস। কিন্তু এরপর ব্যাট হাতে বিপর্যয়ের মুখ পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাও। প্রোটিয়া ইনিংসের প্রথম ওভারেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন এডেন মার্করাম। তারপর রায়ান রিকলটন, উইয়ান মুল্ডার, ট্রিস্টান স্টাবস- একে একে ব্যর্থ সকলেই। দিনের শেষে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৪৩ রান তুলতে পেরেছে প্রোটিয়ারা। প্যাভিলিয়নে চার ব্যাটার।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়া দঃ আফ্রিকা ফাইনাল ম্যাচ শেষ হলেই ভারতীয় দল ইংল্যান্ডে কেমন পারফরমেন্স করে নতুন অধিনায়ক শুভমন গিলের নেতৃত্বে, সেদিকেই সবার নজর। ভারতীয় দলের সব থেকে বড় মাথা ব্যথার কারণই হচ্ছে জসপ্রীত বুমরাহ। কারণ তাঁর ওয়ার্কলোড সামলে চলতে হবে কোচ, অধিনায়ক সকলকেই। ইংল্যান্ডে ভারতের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে এই তারকার ওপর। তাই বুমরাহর বিকল্পদেরও তৈরি রাখতে চাইছেন মর্কেল। নীতীশ কুমার রেড্ডিকে গৌতম গম্ভীর টেস্ট দলে নিয়েছিলেন, কারণ হার্দিক পাণ্ডিয়ার অনুপস্থিতিতে তিনি একজন বোলিং অলরাউন্ডার চাইছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে শতরানও করেন, বল হাতে তেমন নজরও কাড়তে পারেননি। ইংল্যান্ডে সেই নীতীশের ওপরই বাজি ধরতে চলেছেন মর্নি মর্কেল। ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭ ওভার বোলিং করে রেড্ডি নিয়েছেন মাত্র ২ উইকেট। ভূয়সী প্রশংসা করে মর্কেলের কথায়, ‘আমার মনে হয় নীতীশ খুবই দক্ষ একজন ক্রিকেটার। ও ম্যাজিক বলও করতে পারে। ওকে ধারাবাহিক হয়ে উঠতে হবে। এটাই আমরা ওর থেকে চাই, কারণ সামনের ম্যাচগুলোর জন্য এটা খুবই প্রয়োজন। আমরা জানি ও ব্যাট হাতে আমাদের জন্য কি করতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ডের পরিবেশে যদি ও আমাদের বল হাতেও সাহায্য করতে পারে, তাহলে আমার কাছে ও খুব ভালো এক বিকল্প হয়ে উঠবে।’ নীতীশ যে খেলবেন প্রথম টেস্টে, নিশ্চিত নন মর্কেল বলেন, ‘আমরা দলের ব্যালেন্সের দিক থেকে খুশি রয়েছি। বোলিং ইউনিট হিসেবে আমাদের টেস্টের ক্ষেত্রে একটা অতিরিক্ত এক্স ফ্যাক্টর লাগে। আমরা অনেকদিন টেস্ট খেলিনি। ইংল্যান্ডের পরিবেশ হয়ত আমাদের সাহায্য করবে। ভালো ব্যাটিংও দেখা যেতে পারে। ফিটনেসের দিকে আমরা জোর দিচ্ছি ’




