যৌনতার ইতিহাসে ক্লিভেজ বা বক্ষ বিভাজনের যাত্রা যেন এক গোপন সমাজচিত্র। একসময়ের রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক। পরবর্তীতে রূপ নেয় লজ্জা ও নিষেধের পোশাকে। ফরাসি সভ্যতার রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে ফ্ল্যাপার যুগের বক্ষবন্ধনীহীন স্বাধীনতা। নারীর বক্ষ যেন প্রতি যুগে নিজের মতো করে লিখেছে স্বাধীনতার নতুন সংজ্ঞা। ভিক্টোরিয়ান রক্ষণশীলতা যখন স্তনের উপর স্তর জমিয়েছে কাপড়ের। ৫০-এর দশকে ‘সুইটার গার্ল’-দের বুলেট ব্রা জানান দিয়েছিল, নারীত্ব লুকিয়ে নয়, দেখিয়ে জয় করার বস্তু। ষাটের দশকের ‘ব্রা-হীন’ বিপ্লব নারীশরীরকে করেছিল পিতৃতন্ত্রবিরোধী এক রাজনৈতিক বার্তার বাহক। আজ, ফ্যাশন আবার ফিরে দেখছে ‘বৃন্ত মুক্তির’ আন্দোলনের দিকে। ক্লিভেজ যেন শুধু আর যৌনতার প্রতীক নয়। এ এক রাজনৈতিক অবস্থান, সামাজিক বার্তা। নারীর দেহ ও অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর সাহসী ভাষা। বক্ষ বিভাজনের এই ইতিহাস যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়। স্তন কখনও ছিল না শুধুই যৌনতা। তা ছিল এক-একটি যুগের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। মহিলাদের যৌন ইচ্ছা নিয়ে সমাজে নানা রকম ধারণা প্রচলিত। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আকাঙ্ক্ষা থেমে যায় না। বরং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তা ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।
তরুণ ও মধ্য বয়সে, বিশেষ করে ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, অনেক নারী যৌন আকাঙ্ক্ষার শিখরে পৌঁছান। হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা, মানসিক আত্মবিশ্বাস এবং শরীরের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব। সব কিছু মিলে এই বয়সে যৌন চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এ সময় নারী নিজেকে আরও ভালোভাবে জানতে পারেন এবং যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। ৪০-এর পরে, যখন শরীরে প্রাক-মেনোপজ এবং মেনোপজের পরিবর্তন দেখা দেয়, তখন অনেক নারী হরমোনজনিত কারণে যৌন ইচ্ছায় সামান্য ঘাটতি অনুভব করতে পারেন। যোনি শুষ্কতা, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা বা মানসিক উদ্বেগ এ সময় যৌন সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। তবে গবেষণা বলছে, এই সময়েও বহু নারী স্বাভাবিক যৌন জীবন উপভোগ করেন এবং কেউ কেউ এমনকি আগের তুলনায় বেশি মানসিক স্বাধীনতা এবং ঘনিষ্ঠতা অনুভব করেন। সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব কমে যাওয়া ও নিজস্ব সময় বাড়ার ফলে তাঁরা নিজেদেরকে আরও উদারভাবে প্রকাশ করতে পারেন। পঞ্চাশ, ষাট এমনকি সত্তরের দশকেও অনেক নারী যৌনভাবে সক্রিয় থাকেন। শারীরিক সম্পর্ক এখানে শুধুমাত্র যৌন চাহিদার বিষয় নয়, বরং মানসিক ঘনিষ্ঠতা, সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানো, ভালোবাসা ও বন্ধনের এক রকম প্রকাশ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যৌন জীবনকে যারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন, তাঁদের মধ্যেই যৌন ইচ্ছা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকে। এই আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে অনেকগুলো বিষয় হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন, শারীরিক অসুস্থতা বা ওষুধের প্রভাব। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে যৌনতাকে তেমন গুরুত্ব না-ও দিতে পারেন, সেটিও একধরনের স্বাভাবিক মানসিকতা। নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষার কোনও নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। ইচ্ছা, পরিস্থিতি এবং মনোভাবের উপর নির্ভর করে তা পরিবর্তিত হতে পারে। সমাজে এই বিষয়ে সচেতনতা ও ইতিবাচক আলোচনা বাড়লে নারীর যৌনতা নিয়ে ভুল ধারণাগুলো দূর হবে, আর যৌন স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক হবে আরও পরিপূর্ণ ও অর্থবহ।
মেনোপজ পেরোলেই জীবনে আর রোম্যান্স নেই। এমন ধারণা ভেঙে দিচ্ছে সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা। ইরানের কাজভিন শহরে ২০২২-২৩ সালে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৮% থেকে ৮৬.৫% মহিলারা মেনোপজ পরবর্তী যৌন সমস্যা ভোগ করেন, অথচ বেশিরভাগই সাহায্য চান না। গবেষণায় অংশ নেওয়া ১৫ জন মেনোপজ-পরবর্তী মহিলা ও ৬ জন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সমস্যা শুধু শরীরের নয় মানসিক চাপ, সাংসারিক টানাপোড়েন, আর সমাজের ট্যাবু বিষয়গুলো এই অভিজ্ঞতাকে আরও জটিল করে তোলে। যাঁরা নিজেদের পরিবর্তন মেনে নিয়েছেন, সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন, তাঁরা জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আবার ভালোবাসার রঙ খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকরা বলছেন, তথ্য, শিক্ষা, আর সহানুভূতিই হতে পারে এই নীরব সমস্যার মূল সমাধান। রাতে যখন আপনি ঘুমিয়ে পড়েন নিশ্চিন্তে, তখন শুরু হয় এক নিঃশব্দ উৎসব। না, কোনও ভূতের গল্প নয়, এ ঘটনা একেবারে বাস্তব। আপনার চোখের পাতার ভেতরে, ভ্রুর গোড়ায়, এমনকি ত্বকের লোমকূপে গোপনে বসবাস করে এক দল ক্ষুদ্র জীব—ডেমোডেক্স ফলিকুলোরম। মাইক্রোস্কোপ ছাড়া যাদের চেনার উপায় নেই, কিন্তু তবু তারা দিনরাত ঘোরে আপনার মুখে, আর রাতে? তারা জোড়া বাঁধে… একেবারে ত্বকের উপরেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রায় ৯০ শতাংশের শরীরেই থাকে এই অনাহূত অতিথিরা। এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ০.৩ মিলিমিটার। এতটাই ক্ষুদ্র যে টের পাওয়ার উপায়ই নেই। কিন্তু এরা ঠিকই জানে, কখন কুয়াশাভেজা রাত নামবে, আর কখন ত্বকের গভীর থেকে উঠে এসে সঙ্গী খোঁজা শুরু করবে। আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। এরা তেমন ক্ষতিকর নয়। বরং, মৃত ত্বক ও তৈলগ্রন্থির নিঃসরণ খেয়েই জীবনধারণ করে। একরকম ‘ফেস ক্লিনার’ বলা যেতে পারে। কিন্তু এই গল্পে এক ভয়ংকর মোচড় আছে। ডেমোডেক্স মাইটদের শরীরে মলদ্বার নেই। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। জীবনের শেষ অবধি এরা শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমিয়ে রাখে। মৃত্যু হলে সেই দেহ ফেটে যায়, এবং সবকিছু মিশে যায় আপনার ত্বকে। শুনতে গা শিউরে ওঠে, কিন্তু বাস্তবে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশিরভাগ সময় ঠিকই সামলে নেয় এই জৈবিক ধ্বংসাবশেষ। এতটাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে মানুষের সঙ্গে যে, অনেক বিজ্ঞানী বলছেন, এরা আমাদের মাইক্রোবায়োমেরই অংশ হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। মানে, ঠিক যেমন আমাদের অন্ত্রে বাস করে সহায়ক ব্যাকটেরিয়া, তেমনি ত্বকে এখন বাস করে এই রাত্রিকালীন প্রেমিকেরা। আয়নার সামনে মুখ ধোয়ার সময়ে একটু থেমে ভাবতেই হবে ত্বকের নিচে ঠিক এখনই হয়তো কেউ একজন কাউকে প্রেমের আহ্বান জানাচ্ছে!
স্তন্য বা স্তনদুগ্ধ সাধারণত নবজাতকের প্রথম ও প্রধান আহার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে বিশ্বজুড়ে এক অদ্ভুত এবং বিতর্কিত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সদ্যোজাত শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্করাও এখন স্তন্য এবং সেই দুগ্ধজাত খাবার খাচ্ছেন। বিষয়টি যেমন গবেষণার আলোয় এসেছে, তেমনই তৈরি হয়েছে নানা সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নও। প্রাপ্তবয়স্করা স্তন্যদুগ্ধ পান করছেন?প্রবণতার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ। ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর আশা স্তন্যে থাকে ল্যাকটোফেরিন, ইমিউনোগ্লোবিউলিন ও গ্রোথ ফ্যাক্টর, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। কিছু প্রাপ্তবয়স্ক বিশ্বাস করেন, এই উপাদানগুলি বড়দের শরীরেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ক্যানসার, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার কিংবা কোভিড-পরবর্তী দুর্বলতা প্রতিরোধে এই খাবার সাহায্য করে বলে মনে করেন। ফিটনেস এবং বডি-বিল্ডিং। অনেক ফিটনেসপ্রেমী ও বডি বিল্ডার স্তন্যদুগ্ধকে প্রাকৃতিক প্রোটিন শেক বলে অভিহিত করছেন। তাঁদের বিশ্বাস, এতে প্রোটিন ও প্রাকৃতিক এনজাইম এমনভাবে মিশে থাকে যা শরীরের পেশি গঠনে দারুণ কাজ করে। বিকল্প থেরাপি। কিছু ক্যানসার রোগী স্তনদুগ্ধকে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি (অল্টারনেটিভ থেরাপি) হিসেবে মনে করছেন। গোটা ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন অনলাইনে স্তনদুগ্ধ কেনাবেচাও হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় স্তন্যদুগ্ধ ‘ডোনেশন’-এর পাশাপাশি ‘বিক্রি’র ট্রেন্ডও বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এবং ইউনিসেফ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, স্তন্যদুগ্ধ শুধু শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত। এটি মা ও শিশুর একান্ত জৈবিক ও মানসিক সংযোগের বিষয়। প্রাপ্তবয়স্কদের দুধপানকে চিকিৎসাবিজ্ঞান মোটেও সমর্থন করে না। এমনকি, চিকিৎসকরা এও সতর্ক করছেন, অজানা উৎস থেকে কেনা স্তন্য পান করলে বিভিন্ন যৌন রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। ছড়াতে পারে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি এবং সি-এর মতো প্রাণঘাতী রোগও। শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞান নয়, এই প্রবণতা ঘিরে নৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যানুসন্ধানকারীরা ৩৫০ জন বিবাহিত মহিলার উপর গবেষণা চালিয়ে এক আকর্ষণীয় তথ্য সামনে এনেছেন। দেখা গেছে, বিয়ের প্রথম ছয় মাসে বেশিরভাগ মহিলা প্রায় পাঁচ পাউন্ড বা দুই কেজির বেশি ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। গবেষণাটি বলছে, বিয়ের আগে অনেক মহিলা নিজেকে ফিট এবং আকর্ষণীয় দেখাতে হঠাৎ ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় কঠোর ডায়েট মেনে চলেন। পরিবার, বন্ধু, এমনকি হবু বর পর্যন্ত তাঁদের শরীরচর্চা ও ওজন কমানো নিয়ে চাপ দেন। এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে ও “বিয়ের দিন” সুন্দর দেখাতে গিয়ে তারা প্রায়ই স্বাস্থ্যহানিকর উপায়ে ওজন কমিয়ে ফেলেন। বিয়ের পরপরই সেই চাপ আর থাকে না। ফলে নিয়মিত ডায়েট কিংবা শরীরচর্চা অনেকেই বন্ধ করে দেন। উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন, হানিমুনের খাওয়া-দাওয়া, সব মিলিয়ে নতুন জীবনে মানসিক শিথিলতার কারণে শরীরও ধীরে ধীরে ভারী হতে থাকে।বিয়ের পরে আর তেমন কিছু প্রমাণ করার নেই, তাই ‘ফিগার’ নিয়ে ভাবনার প্রয়োজন পড়ে না। এই ভাবনাই তাদের শরীরচর্চা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, এবং ফলে ওজন বাড়ে দ্রুতগতিতে। এই পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিয়ের পরেও খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি। হানিমুনে কিংবা অন্য কোথাও বেড়াতে গিয়ে ভারী খাবারের পরিবর্তে বেছে নিন গ্রিলড মাছ বা চিকেন। সঙ্গে খান প্রচুর পরিমাণে সবজি ও স্যালাড। কেক-পেস্ট্রির বদলে রাখুন ফলের স্যালাড ও টাটকা রসালো ফল।পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। বিয়ের পর শরীরচর্চা ও সুষম খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্ব দিলে ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। সুতরাং, প্রেমের ও বন্ধনের এই নতুন অধ্যায়ে নিজের শরীর এবং মনের যত্ন নেওয়াটাই হোক নতুন বার্তা।
সমাজের চোখে ‘অসভ্য’, কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে এই সব আচরণ শরীরের সুস্থ রাখার নিরব সহচর। হার্ভার্ড হেলথ থেকে বিজ্ঞান পত্রিকা জার্নাল অব ইমিউনোলজি, এমন সব বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান অন্তত জানাচ্ছে তেমনটাই। তথাকথিত ‘ভদ্র’ সমাজে এই সব আচরণকে অশোভন, নোংরা কিংবা অভদ্র বলে মনে করা হয়। কিন্তু জানেন কি, এই ‘নোংরা’ অভ্যাসগুলির মধ্যেই লুকিয়ে আছে শরীরের উপকার? নাক খোঁটা ও তার ‘পরিণতি’! কথাটা অস্বস্তিকর। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, নাক খোঁটা বা শিশুদের সর্দি চেটে ফেলার মধ্যে লুকিয়ে আছে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির চাবিকাঠি। অস্ট্রিয়ায় একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নাকের ভিতরের মিউকাসে থাকা ব্যাকটেরিয়া শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে আরও সক্রিয় করে তোলে। উচ্চস্বরে ঢেকুর তোলা। রেস্তোরাঁয়, অফিসে বা প্রেমিকার সামনে ঢেকুর তোলা ‘সামাজিক অপরাধ’। কিন্তু চিকিৎসাশাস্ত্র বলছে, নিয়মিত ঢেকুর হজমের পক্ষে ভাল। এটি পাকস্থলীর ভেতরে গ্যাসের চাপ কমায়, অ্যাসিড রিফ্লাক্স প্রতিরোধ করে এবং খাদ্যনালির অস্বস্তি কমায়। খালি পায়ে হাঁটলে রাস্তার ধুলো, পাথর, জীবাণু লেগে যায়। একথা অসত্য নয়। কিন্তু একে ডাক্তারি পরিভাষায় বলা হয় ‘আর্থিং’ বা ‘গ্রাউন্ডিং’। মাটি স্পর্শ করলে শরীর প্রাকৃতিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে যা স্ট্রেস হরমোন কমায়, ঘুম ভাল করে, এমনকি হৃদযন্ত্রকেও সুস্থ রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত ১৫ মিনিট খালি পায়ে ঘাসে হাঁটলে মন ও শরীর দুই-ই প্রশান্ত থাকে। ঘাম ঝরানো, যতই দুর্গন্ধ হোক না কেন। অনেকেই অতিরিক্ত ঘাম নিয়ে বিব্রত হন। কিন্তু ঘাম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া এটি টক্সিন বার করার প্রাকৃতিক রাস্তা। ঘামের মাধ্যমে ভারী ধাতু যেমন সীসা, পারদ এবং অপ্রয়োজনীয় লবণ শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার থেকেও বড় কথা, ঘাম শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। মানে, এতে উপস্থিত পেপটাইড নানা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করতে সক্ষম। জোরে হাই তোলা। অলসতার চিহ্ন নয়, বরং ব্রেন কুলিং মেকানিজম। হাই তোলা শুধু ক্লান্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি আসলে মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখার একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি? নিউরোসায়েন্টিস্টরা বলছেন, হাই তোলার সময় মুখ বড় করে খোলার ফলে ঠান্ডা বাতাস শরীরে পৌঁছয়, এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কেও, যা অতিরিক্ত উত্তাপ কমায়।
মহিলাদের ৩০ পেরলেই নানা শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত তন্বী। চিকিৎসকদের মতে, বয়স তিরিশের গণ্ডি পেরলেই খাদ্যতালিকায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রোটিন রয়েছে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।সমীক্ষা বলছে, পুরুষদের তুলনায় কমপক্ষে দিনে ১৩ শতাংশ কম প্রোটিনজাত খাবারদাবার খাই। তার ফলে আমাদের দেশের ৭০-৮০ শতাংশ মহিলা প্রোটিনের অভাবে ভোগেন। স্বাভাবিকভাবেই পুরুষের তুলনা প্রোটিনের ঘাটতিতে শারীরিক সমস্যাও বেশি হয় মহিলাদের। কারণ, প্রোটিনই আমাদের শরীরে পেশীশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি মহিলাদের বেশি পরিমাণে প্রোটিনজাত খাবারদাবার খাওয়া বেশি প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, ৩০-৪০ বছর বয়সিদের শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। একে তো ধীরে ধীরে মেনোপজের দিকে এগোন তাঁরা। তার ফলে শরীরে হরমোনের তারতম্য হতে শুরু করে। মুড সুইংয়ের মতো সমস্যাও বাড়তে থাকে। কারও কারও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকতে। আবার কেউ কেউ ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-র ঘাটতিতে ভুগতে থাকেন। প্রোটিন এই সবকিছুর তারতম্যকে সামাল দিতে সাহায্য করে। তাই চিকিৎসকদের মতে, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি মহিলাদের সবচেয়ে বেশি প্রোটিনজাত খাবারদাবার খাওয়া প্রয়োজন। হু হু করে ওজন কমা। পেশির দুর্বলতা। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া। মিষ্টি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বৃদ্ধি। হরমোনের তারতম্য। মাসিকের সমস্যা একজন মহিলার ওজনের উপর প্রোটিনের মাত্রা স্থির হয়। যেমন কেজি প্রতি ০.৮-১.২ গ্রাম প্রোটিন থাকা প্রয়োজন। কোনও মহিলার ওজন যজি ৬০ কেজি হয় তবে প্রতিদিন তাঁর খাদ্যতালিকায় ৭২-৯৬ গ্রাম প্রোটিন থাকা দরকার। স্বাস্থ্যই সম্পদ। খাদ্যতালিকায় নজর শুধু পেট ভরার জন্য নয়, সুষম খাবার খাচ্ছেন কিনা তা খেয়াল রাখা।




