RK NEWZ নয়াদিল্লিতে অজয় সিংয়ের বিরোধী গোষ্ঠীর দাবি, ২৭টি ইউনিটের সমর্থন নিয়ে রক্ষা খাড়সে ও IOA-র CEO-র সঙ্গে বৈঠক। বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (BFI)-কে কেন্দ্র করে ক্ষমতার লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বুধবার নয়াদিল্লিতে ফেডারেশনের বিরোধী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অনুমোদিত রাজ্য ইউনিটের প্রতিনিধি এবং কার্যনির্বাহী কমিটির (ExCo) সদস্যরা একত্রিত হয়ে বর্তমান সভাপতি অজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের ঐক্য ও শক্তির বহিপ্রকাশ। দাবি, ৩৫টি ইউনিটের মধ্যে ২৭টি এবং ১৩ জন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যের মধ্যে ৮ জন একত্রিত ও পাশে রয়েছেন। এই গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রক্ষা খাড়সে এবং ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (IOA) CEO রঘুরাম আইয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানিয়ে তাঁরা একটি স্মারকলিপিও জমা দেন। প্রাথমিকভাবে ওই দিন একটি বিশেষ সাধারণ সভা (SGM) আয়োজন এবং অজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ওই সভা স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সভা স্থগিত হলেও ফেডারেশনের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পিছপা হননি বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্যরা। তিনবারের বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়াযর সভাপতি অজয় সিংয়ের কার্যকাল ও প্রশাসনিক পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। BFI-এর সাসপেন্ড হওয়া সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ কুমার, কোষাধ্যক্ষ পন বাস্করন, সহ-সভাপতি রাজেশ ভান্ডারি, দিল্লি অ্যামেচার বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রোহিত জৈন-সহ অন্যান্যরা জানান, তাঁরা ক্রীড়া মন্ত্রক, IOA এবং ওয়ার্ল্ড বক্সিংয়ের সভাপতি গেন্নাদি গোলভকিনের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন। স্মারকলিপিতে অজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করা, নির্বাচিত পদাধিকারীদের উপেক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রশাসনিক গাফিলতি, ফেডারেশনের সংবিধানকে অগ্রাহ্য করা এবং তাঁর কাজের ধরনকে ‘হিটলারের মতো’ বলেও অভিযোগ করেছে বিরোধী গোষ্ঠী। রাজেশ ভান্ডারি বলেন, “আমরা ক্রীড়া মন্ত্রকের কাছে আমাদের স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। সংবিধান, প্রযুক্তিগত পরিচালনা, কোচিং, নির্বাচন কমিটি এবং প্রশাসন—যে বিষয়গুলিতে আমাদের আপত্তি রয়েছে, সবকিছুই আমরা জানিয়েছি। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের। আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও বিষয়টি জানিয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত, আজ যে সভাটি করতে চেয়েছিলাম, তা সম্ভব হয়নি। তবে এখন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার।” তিনি আরও বলেন, “বক্সিং ফেডারেশনের কোনও কর্মকর্তা যখনই অজয় সিংয়ের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তখনই তাঁকে হয় সাসপেন্ড করা হয়েছে, নয়তো শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে যদি কোনও সুরাহা না মেলে, তাহলে আগামী দিনে আমরা যন্তর মন্তরে বসে প্রতিবাদ জানাতে পারি।” অন্যদিকে, অতীতেও অজয় সিংয়ের সভাপতিত্বকে চ্যালেঞ্জ করা রোহিত জৈন জানিয়েছেন, তিনি আবারও সেই লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় কারণ হল সংবিধানের অপব্যবহার এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ। রোহিত জৈনের বক্তব্য, “এই লড়াই শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। ওরা নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান পরিবর্তন করেছে। সভাপতির পদে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। কোনও রাজ্য ইউনিটকে কারণ না দেখিয়ে, নোটিস না দিয়ে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। আপনারা কি কখনও শুনেছেন, কোনও কারণ না দেখিয়েই কাউকে সাসপেন্ড করে একটি অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়?” তিনি আরও বলেন, “এর প্রধান কারণ কী, তা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি। ওরা আমাকে বক্সিং ও প্রতিযোগিতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছিল, যাতে আমি নির্বাচনে জিততে না পারি এবং ওদের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে না পারি। ওরা সংবিধান একবার নয়, দু’বার পরিবর্তন করেছে।” অন্যদিকে, একই দিনে বাগডোগরায় BFI-এর উদ্যোগে আয়োজিত দু’দিনের ‘মিশন অলিম্পিক পডিয়াম’ বৈঠকে ফেডারেশনের ৩৫টি অনুমোদিত রাজ্য ইউনিটের মধ্যে ২১টি অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৮টি ইউনিটের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনটি ইউনিট ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। অংশগ্রহণকারী ইউনিটগুলির মধ্যে মিজোরাম ও ঝাড়খণ্ডের অ্যাড-হক কমিটি এবং BFI অ্যাথলিটস কমিটির একজন খেলোয়াড় প্রতিনিধিও ছিলেন। বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ায় সভাপতি অজয় সিং বলেন, “আমাদের দায়িত্ব বক্সারদের এবং তাঁদের ভবিষ্যতের প্রতি। অধিকাংশ অনুমোদিত রাজ্য ইউনিটের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, অলিম্পিকে সাফল্যের লক্ষ্যে ফেডারেশন হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্রীড়াবিদরা। কাজের সূচনা হয় রাজ্যস্তর থেকেই—প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করা, কোচদের সহায়তা করা এবং বক্সারদের উন্নতির জন্য একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি করা। এর মাধ্যমে তাঁরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আরও সুযোগ পাবেন এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা ধারাবাহিকভাবে বক্সারদের সর্বোচ্চ স্তরে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করবে।” তৃতীয় বছরেও অব্যাহত প্রশাসনিক অচলাবস্থা বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়াকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ফেডারেশনের প্রশাসনিক অস্থিরতা টানা তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে। অজয় সিংয়ের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার পর সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ কুমারকে সাসপেন্ড করার ঘটনায় বর্তমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। অজয় সিংয়ের বক্তব্য, তাঁকে পদ থেকে সরাতে হলে ফেডারেশনের সাধারণ সদস্যদের তিন-চতুর্থাংশের সমর্থন প্রয়োজন। তবে তার জন্য সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ সাধারণ সভা (SGM) ডাকা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, অজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সফল করতে বিরোধী গোষ্ঠীকে ৩৫টি ইউনিটের মধ্যে অন্তত ২৩টি ইউনিটের সমর্থন পেতে হবে, যা মোট ইউনিটের দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ায়র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে আগামী ১৩ নভেম্বরের আদালত-নির্ধারিত দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আপাতত একদিকে অজয় সিংয়ের নেতৃত্বে ফেডারেশনের কার্যক্রম, অন্যদিকে বিরোধী গোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের দাবি—এই দুইয়ের সংঘাতে ভারতীয় বক্সিংয়ের প্রশাসনিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।

এই মূহুর্তে বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার একমাত্র বাংলার প্রতিনিধি স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি থেকে ফোনে এক্সক্লুসিভলি আর কে নিউজের প্রতিনিধিকে জানান, ‘ বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার এই লাগাতার অচলাবস্থা কাটাতে বাংলার প্রতিনিধি হিসাবে আমরা সবসময় সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ কুমার, কোষাধ্যক্ষ পন বাস্করনের পাশে রয়েছি। সবরকম লড়াই করে ভারতের বক্সিংকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করার পাশাপাশি বাংলার বক্সিংকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে প্রস্তুত।’ বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ কুমার ভুয়ষী প্রশংসা করে বাংলার প্রতিনিধি স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের।





