RK NEWZ বেহালার সরশুনায় যুবক ও তাঁর পরিবারকে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ঘটনায় যুবতীর বাবা, মা ও মামাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণ করা হয়। মেয়েকে প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ধরে ফেলায় যুবক এবং তাঁর বাবাকে নগ্ন করে প্যারেড করানো হয়েছিল। বেহালার সরশুনার ঘটনায় তোলপাড় হয় সোমবার সারাদিন। ঘটনায় অভিযুক্ত তুরুণীর বাবা, মামা ও মা-কে সন্ধের মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল হতেই তাঁদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় অপরাধ পুনর্নির্মাণের জন্য। সেখানে অভিযুক্তদ দুই পুরুষকে জামাকাপড় ও জুতো ছাড়া হাঁটানো হয় খানিকটা একইভাবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবকের সঙ্গে কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কে আপত্তি ছিল কিশোরীর পরিবারের। লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় দু’জন দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন কিশোরীর মামা-সহ পরিবারের কয়েক জন সদস্য। এরপরই যুবক ও তাঁর এক বন্ধুকে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বাবাকে ডেকে এনে হেনস্থা
অভিযোগ, যুবকের বাবাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি পৌঁছতেই তাঁকেও মারধর করা হয়। এরপর যুবক, তাঁর বাবা ও বন্ধুকে বিবস্ত্র করে এলাকায় ঘোরানো হয়। শুধু তাই নয়, বন্দুক দেখিয়ে যুবকের বাবাকে লেকে গুলি করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। দেওয়া হয় মোট তিনটি শর্ত। প্রথম গুলি, দ্বিতীয়টি ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়া এবং তৃতীয়টি বিবস্ত্র হয়ে ঘরে ফেরা।
তৃতীয়টি খানিকটা বাধ্য হয়েই বেছে নেন যুবকের বাবা। এরপর তাঁদের তিনজনের জামা-কাপড় খুলে ঘরে ফেরানো হয় বলে অভিযোগ। চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। যুবক ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জড়ো হন স্থানীয়দের একাংশ।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি, পুলিশি হস্তক্ষেপ
খবর পেয়ে সরশুনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তার আগেই কিশোরীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েক জন সদস্য এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে জানা যায়। পরে কিশোরীর মামাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। সোমবার সকালে যুবকের বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কিশোরীর বাবা, মা ও মামাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ অভিযুক্তদের নিয়ে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। অপরাধের পুনর্নির্মাণ করে। সেই সময় যুবকের মামা ও বাবাকেও বিবস্ত্র করে, জুতো ছাড়া হাঁটানো হয়। ভিড়ে ভরে যায় এলাকা।
রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ
কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে তৃণমূলের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। সেই প্রভাবেই পরিবারের সদস্যরা এমন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও এই দাবির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। ঘটনার জেরে যুবকের বাবা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে পরিবারের দাবি।





