RK NEWZ ‘কলম তলোয়ারের চেয়েও শক্তিশালী’। এবছর রাজ্যজুড়ে সিপিএমের বুকস্টলগুলিতে হামলা ও প্রতিরোধের ছবিটা ফের সেই প্রবাদকে সত্যি করে তুলেছে। স্টল ভাঙচুর হলেও বইপত্র ফের গুছিয়ে বিকিকিনি হয়েছে। এত প্রতিকূলতা সামলে এবছর রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে সিপিএমের স্টলগুলিতে। আলিমুদ্দিনের অন্দরের তথ্য অন্তত তেমনই বলছে। আর এই আশা জাগানো খবরের মাঝে চর্চায় উঠে এসেছেন প্রবীণ কমরেড বিপুল দাশগুপ্ত ওরফে ‘বুজু জেঠু’। স্টল ভাঙচুরের মাঝে নাগেরবাজারের সত্তরোর্ধ্ব বুজু জেঠু ঋষিপ্রতিম শান্ত ভঙ্গিতে যেভাবে রুখে দিয়েছেন, তা এককথায় তুলনাহীন! বুঝিয়ে দিয়েছেন, হিংসার পালটা হিংসায় নয়, স্থিতধী থেকেই মোকাবিলা করতে হবে। আর সেই কারণেই তিনি আপাতত ভাইরাল। বছর সত্তরেরে ‘বুজু জেঠু’ নবীন কমরেডদের কাছে আদর্শ। বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থকরাও তাঁকে কুর্নিশ না জানিয়ে থাকেননি। পুজোর মাঝে নাগেরবাজারে সিপিএমের স্টল আক্রমণ করেছিল একদল দুষ্কৃতী। একের পর এক সাহিত্যিকদের বই নিয়ে ছুড়ে ফেলা হচ্ছিল। তাতে বইয়ের পাতা ছিঁড়ে যাচ্ছিল। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বর্ষীয়ান কমরেড হামলাকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ”বইগুলো ওভাবে ছিঁড়ো না, পড়ে দেখো, এগুলো চিরায়ত সাহিত্য।” ‘বুজু জেঠু’র ওই কথা শুনে বাকিরা এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তাতেই থামে দুষ্কৃতীদের আস্ফালন। সিপিএমের স্টলে বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে বিস্তর সমালোচনার মাঝে এবারের পুজোয় আরও এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা প্রকাশ্যে। ভাঙার মাঝেই লুকিয়ে গড়ার ভিত। শারদোৎসবে স্টলে বিকিকিনির অঙ্কে উজ্জীবিত বাম শিবির। জেলায় জেলায় বই বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুন। একদা লালদুর্গ পূর্ব বর্ধমানে মোট ৩৪ টি স্টল হয়েছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলী জানাচ্ছে, ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গতবারের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ৮০ শতাংশ! ভাঙা স্টল না গড়ে ভ্রাম্যমাণ স্টল হয়েছে অর্থাৎ ঘুরে ঘুরেই বই বিক্রি হয়েছে। আসলে আদর্শকে মুছে ফেলা তো সহজ নয়।
গ্রন্থই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! পুজোয় বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের প্রতিবাদে মিছিলের ডাক বইপ্রেমীদের। ২৯ তারিখ, বৃহস্পতিবার,কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হবে ‘বইয়ের জন্য হাঁটুন’ কর্মসূচি। গ্রন্থই বড় হাতিয়ার! শুধু শিক্ষার আলো নয়, প্রতিবাদেরও অস্ত্র বই। আর শারদোৎসবে রাজ্যজুড়ে বামপন্থীদের সেই বই বিক্রির স্টলেই হামলা, ভাঙচুর হয়েছে। কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উঠেছে। এনিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বেড়েছে। উৎসবের আবহে বইয়ের উপর এই আক্রমণের প্রতিবাদে এবার পথে নামছেন বইপ্রেমীরা। শারদ উৎসবের সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থীদের প্রায় তিনশো বুক স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে আয়োজকদের দাবি। কোথাও আবার আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বই বিক্রির স্টলকে কেন্দ্র করে একের পর এক এমন ঘটনা শুধু রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার পরিচয় নয়, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক পরিসরের উপরেও আঘাত বলে মনে করছেন প্রতিবাদীরা। তাঁদের বক্তব্য, মতাদর্শের বিরোধিতা থাকতে পারে, কিন্তু বই ও জ্ঞানচর্চার উপর আক্রমণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বইকেই সামনে রাখতে চাইছেন কমরেডকুলের নেতারা। আয়োজকদের আহ্বান, বইয়ের উপর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক পরিসর রক্ষার দাবিতেই পথে নামছেন তাঁরা। সবাইকে তাঁদের কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বই শুধু পণ্য নয়, তা মানুষের চিন্তা, মনন ও প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার। সেই বইয়ের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে বৃহত্তর নাগরিক সমাজকে শামিল করা এই কর্মসূচির লক্ষ্য। কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হতে চলা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে একটি করে বই সঙ্গে আনার আবেদন জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু স্লোগান নয়, হাতে বই নিয়েই পথে হাঁটবেন প্রতিবাদীরা। বই পড়া, বই প্রকাশ ও বই বিক্রির স্বাধীনতা রক্ষার বার্তাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মতে, বাঙালির সঙ্গে বইয়ের সম্পর্ক আত্মার মতো। বইয়ের উপর আক্রমণ কখনওই মেনে নেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে পুরনো জার্মানির স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারের পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, বই পোড়ানোর ফল ভোগ করতে হয়েছিল হিটলারকে। এখন যারা সেই কায়দায় বইয়ের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনছেন তাদের ভবিষ্যৎ পরিণতি ভয়ংকর হবে। আয়োজকদের আহ্বান, বইয়ের উপর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক পরিসর রক্ষার দাবিতেই পথে নামছেন তাঁরা। সবাইকে তাঁদের কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বই শুধু পণ্য নয়, তা মানুষের চিন্তা, মনন ও প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার। সেই বইয়ের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে বৃহত্তর নাগরিক সমাজকে শামিল করা এই কর্মসূচির লক্ষ্য।




