Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের জন্য বার্তা শুভেন্দুর!‌ নাবালিকা বিবাহ রোখার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

RK NEWZ বাংলায় লক্ষ্মীদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত, উঠছে প্রশ্ন। মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী বলছে? কী পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উত্তরে উঠে এল আইনের কড়া ব্যবহার এবং পুলিশি ব্যবস্থার যথাযোগ্য প্রণয়নের কথা। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে এল নাবালিকা বিবাহের মতো সমাজের সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলের প্রসঙ্গও। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে এল নাবালিকা বিবাহ থেকে নেশার কবলের মতো সমাজের সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলের প্রসঙ্গও। সে বিষয়ে শুধু একা সরকার নয়, মানুষের সাহায্যও চাইলেন তিনি। বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের জন্য কী পরিকল্পনা রাজ্যের? প্রশাসনের ভূমিকা তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় লক্ষ্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের আরও পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আরও শক্ত হাতে আইন কার্যকর করতে হবে।’ কিন্তু এখানে আইনের কার্যকর হওয়ারও একটা বড় গুরুত্ব রয়েছে। তা মনে করিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৮ জনের মতো ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হয়ে আছে, তার মধ্যে ছটা পকসো মামলা। তাদের ডেথ পানিশমেন্ট হয়ে আছে। তাদের যে শাস্তি কার্যকর হচ্ছে না, এর ফলে বেপরোয়া ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। এই জায়গা থেকে আমাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এক নম্বর।’ শুধু আইন নয়, বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নেশার মতো ভয়ানক সামাজিক ব্যাধির কোপও। তা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘নেশামুক্তি না ঘটলে বাংলার আমাদের মা-বোন, দিদি-কন্যারা সুরক্ষিত থাকবে না। আমি মনে করি, এই বিকৃত মানসিকতার মূলে রয়েছে নেশা। এই জায়গা থেকে বাংলাকে, ভারতবর্ষকে যেমন নেশামুক্ত করতে বলছে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গকেও নেশামুক্ত করতে হবে।’ তাঁর কথায় উঠে এল বাল্যবিবাহের মতো প্রসঙ্গও, যা এখনও গ্রামীণ বাংলার একটা বড় সমস্যা। এখানে শুধু বাংলার মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষাই নয়, তাঁদের জীবন-মরণের মতো বড় একটা সমস্যার শিকড়ও জুড়ে রয়েছে। বাংলার প্রতিটি পরিবারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘অভিভাবক, অভিভাবিকাদের বলব, ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে দেবেন না। এই কারণে বহু প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হচ্ছে। ১৫-১৪ বছরের বাচ্চা মেয়েদের তো এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। কিন্তু তাদেরও ১৮-র নীচে বিয়ে হচ্ছে এবং সন্তান প্রসব হচ্ছে হাসপাতালে। এ এক ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি। এইটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

সরকারের কাজ কী? শুধু তো ভাতা দেওয়া বা রাস্তা তৈরি করা নয়। সরকারের কাজ সমাজের মধ্যে সংস্কার আনা – লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় এটাই বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর মতে, সংস্কার আনার ক্ষেত্রে মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়করা শুধু নয়, জনগণকে যুক্ত করে করতে হবে এবং সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকার গর্ভধারণ আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের বাড়বাড়ন্ত রুখতে আগেই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের স্বাস্থ্য দফতরের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এনে তিনি জানিয়েছিলেন, নাবালিকা বিবাহ ও প্রসবের ক্ষেত্রে রাজ্য এখন দেশের শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছে। এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করতে এ বার পকসো আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা প্রয়োগ করে বাড়ি বাড়ি অভিযানের পাশাপাশি অভিযুক্তদের সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক ভাতা বাতিলের মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।শুধু তাই নয়, যারা বাল্যবিবাহ করেছেন, সেই স্বামীদের শোকজ করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহ রুখতে জেল হতে পারে পুরোহিত-কাজিদেরও। স্বাস্থ্য ভবন সূত্র বলছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ৬৭ হাজার নাবালিকা গর্ভধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এই তালিকায় ১২,৮৪৭টি ঘটনা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। এর মধ্যে বড় অংশই ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরী, এমনকি ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সের প্রসূতিও রয়েছে সেখানে। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪,১৭৮) ও পূর্ব বর্ধমান (৩,৭৭৭)। এর পর পর্যায়ক্রমে মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলি রয়েছে। ধর্মীয় পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ এক বিশেষ সম্প্রদায়ের হলেও, আইন ও অপরাধের বিচার সব নাগরিকের জন্য সমান। গতমাসেই মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জানান, এই অপরাধ দমনে রাজ্য সরকার প্রসূতিদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দফতরের মাধ্যমে শোকজ নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এক মাসের মধ্যে স্ত্রীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বৈধ প্রমাণ দিতে না পারলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হবে।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles