RK NEWZ ‘রাম’ রণবীর কাপুরকে পাশে নিয়ে কলকাতায় দশেরা উদযাপন। কী বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর? দিন দুয়েক আগেই জানা গিয়েছিল যে, উৎসবের আবহে দশেরা উদযাপনের জন্য কলকাতায় পা রাখতে চলেছে টিম ‘রামায়ণ’। উপলক্ষ্য, তিলোত্তমায় ‘রাবণ দহনে’ অংশগ্রহণ। মঙ্গলবার সন্ধেয় সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত হয়েছিল রাবণ দহনের অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে যেখানে বিজয়া দশমী ও দশেরা উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই পর্দার ‘রাম-রাবণ’ রণবীর কাপুর ও দক্ষিণী তারকা যশকে পাশে নিয়ে এই মেগাবাজেট মহাকাব্যকে বাংলায় করমুক্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সল্টলেক সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত উৎসবের মূল ভাবনা ছিল ‘রামের অযোধ্যা’। দশেরার সন্ধেয় সেন্ট্রাল পার্কের মাঠে আয়োজন করা হয় রাবণ দহন। মাঠে নজর কাড়ে শ্রীরামের বিশাল মূর্তি। অন্যদিকে অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে পোড়ানো হয় রাবণের কুশপুতুল। সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানেই টিম ‘রামায়ণ’-এর কলাকুশলীদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে এই ছবি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস; ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ এবং ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর মতো ‘রামায়ণ’ ছবিটিকে পশ্চিমবঙ্গে করমুক্ত ঘোষণা করা হল। আগামী দিনে শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন এবং মহাভারতের মতো মহাকাব্যিক থিমের উপর আরও ছবি আমরা দেখতে পাব।” সল্টলেকের এই আনন্দঘন মঞ্চ থেকেই কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহত এবং আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন যশ-রণবীররা। বাংলার দশেরা অনুষ্ঠানে যোগ দি্য়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রণবীর কাপুর বলেন, “কলকাতার এই পবিত্রভূমে এসে আপনাদের সকলের সঙ্গে দশেরা উদযাপন করা আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়। বিজয়া দশমী আমাদের শেখায় যে, অসত্য ও অন্যায় যতই শক্তিশালী হোক না কেন, শেষপর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়।” হলুদ পাঞ্জাবিতে নজর কাড়েন রণবীর। অন্যদিকে ক্রিম রঙা বন্ধগলা স্য়ুটে দেখা গেল যশকে।

দশমীর সকাল থেকেই বাজছে বিসর্জনের বাদ্যি। বাপেরবাড়ি থেকে উমার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা। দশমীর সকাল থেকেই বাজছে বিসর্জনের বাদ্যি। বাপেরবাড়ি থেকে উমার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা। দুপুর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন ঘাটে শুরু হয়ে যাবে দেবী দুর্গার বিসর্জন। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি, নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। বিসর্জনের জন্য কেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? সেসব খতিয়ে দেখতে এদিন সকালেই বাবুঘাটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। দশমীর সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পুজো মণ্ডপগুলিতে সিঁদুরখেলা চলছে। দুপুরের পর থেকে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে বিসর্জন শুরু হয়ে যাবে। ঘাটগুলিতে বিসর্জনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও চলছে। কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার তরফে নজরদারি চলছে। এদিন সকালে বাবুঘাটে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দা, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন গঙ্গার ঘাটে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট ও দমবন্ধ হয়ে তরতাজা ১৯টি প্রাণ চলে গিয়েছে।

বিসর্জনের সময় গঙ্গার ঘাটগুলিতে প্রচুর জনসমাগম হয়। ফলে বিসর্জন ঘিরতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয়, সেই নজরদারি চলছে। পাশাপাশি গঙ্গাদূষণ ও পরিবেশ দূষণ রুখতেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নয়া বিজেপি সরকারের তরফে। বিসর্জনের আগে এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী বাবুঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট, জাজেস ঘাট পরিদর্শন করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একদিকে নিরাপত্তা, পরম্পরা, ঐতিহ্য মেনেই বিসর্জন হবে। সজাগ রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর পুরসভার।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার কাজে যুক্ত রয়েছে এনডিআরএফ। বিসর্জন শেষের পরে ঘাট সাফাইয়ের কাজও হবে।” সনাতনীরা ছাড়া আর কেউ মূর্তির কাঠামোয় হাত দেবেন না। সেই কথাও জানিয়েছেন তিনি। আকাশপথেও গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ড্রোন ওড়ানো হবে। কলকাতার চারটি গঙ্গার ঘাটে কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারি রয়েছে।বিসর্জনের সময় ঘাটে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ।




