RK NEWZ শহরের পুজোমণ্ডপগুলির নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর পুলিশ-প্রশাসন। ভিড় নিয়ন্ত্রণে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, দায়িত্বে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারদের। এরই মধ্যে দক্ষিণ কলকাতার তিনটি বড় পুজো কমিটির অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে একাধিক ত্রুটি চিহ্নিত করল দমকল। ত্রিধারা সম্মিলনী, বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন এবং চেতলা অগ্রণীকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপত্তার ঘাটতি মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলিকে। ত্রিধারার মণ্ডপসজ্জায় অতিদাহ্য সামগ্রী এবার ৮০তম বর্ষে পা দিয়েছে ত্রিধারা সম্মিলনীর দুর্গাপুজো। প্রায় ১৩ হাজার কলম দিয়ে তৈরি হয়েছে দুর্গামূর্তি। শিল্পীর ভাবনায় থিমের নাম ‘সুরাসুর’, যেখানে শুভ শক্তির সঙ্গে অশুভের লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়ও হচ্ছে যথেষ্ট। কিন্তু অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে গিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আধিকারিকেরা। দমকলের নোটিসে জানানো হয়েছে, মণ্ডপসজ্জায় বিপুল পরিমাণ অতিদাহ্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কোনও কারণে আগুন লাগলে তা থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত পর্যাপ্ত অগ্নি-সুরক্ষার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাতের মধ্যেই স্থানীয় দমকল বিভাগকে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পরিচিত সাবেকি পুজো বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন পর্যাপ্ত আলোর অভাব ধরা পড়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে মনে করছে দমকল। তাই মণ্ডপের ভিতরে প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর পথে কোনও ব্যবসায়িক কাজকর্ম করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপেও পর্যাপ্ত আলোর অভাবের পাশাপাশি ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ঘাটতি নজরে এসেছে। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী মণ্ডপে ঢুকলেও সেই অনুপাতে পাখা ও এসি নেই বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে চেতলা অগ্রণীতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। চোরবাগানের ঘটনার পর এই তিনটি মণ্ডপে নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ায় পুজোর ভিড় সামলানো এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



