RK NEWZ কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পরে স্থানীয়দের একাংশ পুজো কমিটির পাশাপাশি আঙুল তুলেছে পুলিশের দিকেও। তাঁদের অভিযোগ, ডাকাডাকির পরেও খোঁজ মেলেনি পুলিশের। পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের মুখেও শোনা গেল সেই কথা। রত্না বলেন, ‘‘এরা (পরিবার) বলছে পুজো কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। পুলিশের গাফিলতি রয়েছে।’’ চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির দু’জন। রবিবার তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রত্না। কলকাতার হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন। চোরবাগানে মৃত কল্পনা জানার পরিবারের সঙ্গে রবিবার সকালে কথা বলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। ভাইপো এবং তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে শনিবার ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। পানিহাটির জয় অ্যাপার্টমেন্টে কল্পনার পুত্র ও কন্যার সঙ্গে দেখা করে তাঁদের থেকেই ঘটনার বিবরণ শোনেন রত্না। তাঁর কথায়, ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুজো মণ্ডপ থেকে বেরোনোর পথ অন্ধকার ছিল। তার উপর বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভিড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।’’ রত্না জানতে পেরেছেন, ভেঙে পড়ার আগেই মণ্ডপের ভিতরে গুজব রটানো হয়েছে। তাতেই ভীত হয়ে এদিক ওদিক দৌড়োতে গিয়ে এই বিপর্যয় হয়েছে। ভিড়ের চাপে অনেকে একে অপরের উপর পড়ে যান এবং পরে তাঁদের টেনে টেনে উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি। বিধায়কের প্রশ্ন, ‘‘এত লোক ডেকে এনে কেন ব্যবস্থা রাখা হবে না?’’ পাশাপাশি, প্রাঞ্জল সরকারের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। বাবা-মায়ের সঙ্গে পুজো দেখতে গিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর। ভিড়ের চাপে বাবা-মায়ের কাছ থেকে ছিটকে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেনি সেও। যতক্ষণে তাকে উদ্ধার করা হয় ততক্ষণে সব শেষ। রত্নার কথায়, ‘‘প্রাঞ্জলের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না মা।’’ চোরবাগানের বিপর্যয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার সকালে সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির কয়েক জন কর্তাও। ভিআইপি পাস সামলানো এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাঁদের উপরে ছিল, তাঁদেরও পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্মীও। পুজো কমিটির যে পোস্টার প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যায় চোরবাগানের এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা এই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও জড়িত রয়েছেন চোরবাগানের এই পুজোর সঙ্গে। তবে তাঁদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কি না, পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। সেই নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর দিকে। এই আবহে বিজেপি বিধায়ক রত্নাও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।



