RK NEWZ চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে উপচে পড়ে ভিড়। বাইরে সে সময় ঝেঁপে বৃষ্টি চলছে। আর তাতেই মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হল। আহতদের মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা। কয়েক জন গুরুতর জখম। হাসপাতালে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি সূত্র বলছে, কাঠামো ভেঙে এই বিপত্তি ঘটতে পারে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পুজোর আলো। বাহিরপথও বন্ধ। হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্লাবের সকলকে থানায় ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মেডিক্যাল কলেজে ৪০-৫০ জনকে আনা হয়েছে। আরও অনেককে আনা হতে পারে। হাসপাতালে পৌঁছেছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সূত্রের খবর, আহতদের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে। এখনও আহতদের আনা হচ্ছে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর এবং মধ্য কলকাতায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় তৈরি হয় তীব্র যানজট। সে সময় চোরবাগানে মণ্ডপের ভিতরে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে খবর। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ। তারা পরস্পরকে ঠেলাঠেলি করতে থাকেন। তাতেই কয়েক জন মণ্ডপের ভিতরে বৃত্তাকার পথে পড়ে যান। পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুর্গাপুজোর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে বড়সড় বিপত্তি। ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড়ের চাপে মণ্ডপ চত্বরে তৈরি হয় পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। হুড়োহুড়িতে আহত হন একাধিক দর্শনার্থী। তাঁদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে প্রাথমিক সূত্রে খবর। এখনও পর্যন্ত খবর ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৫ জনের আশঙ্কাজনক অবস্থা।

ভিড়ের চাপে বিপত্তি, কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে মানুষের ঢল নামে। ভিড়ের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে মণ্ডপ চত্বরে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সেই সময়েই বিপত্তি ঘটে। মণ্ডপের গেটের একটি অংশ ভেঙে পড়ার খবর সামনে এসেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
আচমকা এই ঘটনায় মণ্ডপ চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ভিড়ের মধ্যে অনেকে পড়ে যান বলে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতরা
দুর্ঘটনার পর একাধিক আহতকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যাচ্ছে। তবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি। তাই হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা শুরু হয়। ভিড় সামলানোর জন্য আপাতত মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার পর চোরবাগান সর্বজনীনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের একাংশের অভিযোগ, মণ্ডপে বিপুল ভিড়ের কারণে আগে থেকেই বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
চোরবাগান সর্বজনীনের এই ঘটনায় পুজোর আনন্দের মাঝেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টিতে নজর রাখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, চোরবাগানের মণ্ডপে প্রবেশ করার পরে একটি বৃত্তের মতো ‘এলিভেটেড করিডোর’ রয়েছে। সেখান দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরতে হবে। সেই করিডোরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। উদ্ধার করে যাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েক জন সংজ্ঞাহীন। এমনটাই জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, সময় মতো পুলিশ বা রক্ষীরা হাজির হননি। চেয়েও সাহায্য মেলেনি। এক দর্শনার্থী বলেন, “মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়েছে শুনেছে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে সবাই দৌড়তে শুরু করেছিলেন। পড়ছেন, আর পদপিষ্ট হয়েছেন। আর মারা গিয়েছেন।” স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, ‘এখানে পাঁচটা ডেড বডি পড়েছিল।’ এখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দর্শনার্থীরাও। এক জন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখানে হাজার হাজার ভলান্টিয়র, পুলিশ ছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই প্রথমে নেওয়া হচ্ছিল না। এত বড় ঘটনা ঘটছে. চোখের সামনে দেখছে। কলকাতা পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল, পুলিশ কিছু করেনি। আমরা লোকালরাই করে গিয়েছি। পুজো কমিটির কোনও লোককেই দেখা যায়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এত বড় পুজো হচ্ছে কোনও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না সেখানে। এলাকায় পুজো বলে, স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ফাঁকা করা হয়েছিল। পাড়ার বাসিন্দাদের যে নিজস্ব গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে থাকত, সেগুলোও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এলাকাবাসীর বক্তব্য, “যদি সেই গাড়ি গুলোও থাকত, তাহলে অন্ততপক্ষে ১০ জনকে বাঁচানো যেত। শুধু ভিআইপি, গেস্টদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য নয়।” উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কী ভাবে এই কাণ্ড তা বোঝা যাচ্ছে না। আপাতত উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই আমাদের প্রাথমিক কাজ। পুলিশ, দমকল ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট কি না, স্পষ্ট নয়।’’
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের ভাবনা ‘অরব’। ইংরেজি তর্জমায় ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। শব্দের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছোনোর এক বিশেষ বার্তা তুলে ধরেছে এই পুজো। তবে মণ্ডপ দেখতে কেবল শব্দের ভাবনা নিয়ে গেলে, ভুল হবে। কারণ ৩৬০ ডিগ্রির ভাবনা নিয়ে এই মণ্ডপটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই ঘটেছে বিপত্তি বলে খবর।
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি:
এ বার ৯১তম বছরে পড়েছে এই পুজো।
মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে এই পুজো হয়
সবচেয়ে কাছের মেট্রো স্টেশন মহাত্মা গান্ধী রোড
২০২৬ সালের থিমের নাম ‘অ-রব’
পঞ্চমীর সকাল থেকেই এই পুজোয় উপচে পড়েছে ভিড়।
রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কলকাতার বাছাই ২৩টি পুজো কমিটিকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় সেরার সেরা ক্যাটিগরিতে পুরস্কার পেয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।




