Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পুজোর মধ্যেই জেলমুক্তি?‌ সুপ্রিম কোর্টে জামিন সন্দীপ ঘোষের!‌ থ্রেট কালচার ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে না তো?

RK NEWZ দু’বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দি সন্দীপ। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়ার পর সন্দীপদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। পুজোর সময়ই এই রায়ে স্বভাবতই বড় স্বস্তি মিলল তাঁর। সব ঠিক থাকলে পুজোর মধ্যেই জেলমুক্ত হতে পারবেন আর জি করের প্রাক্তন চিকিৎসক। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আর জি করে তরুণী গবেষকের ধর্ষণ-খুনের পরপরই আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হন সন্দীপ ঘোষ। সূত্রের খবর, এই মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া ধীর গতিতে চলছে, এই যুক্তিতে শীর্ষ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি। ২০২৪ সালের আগস্ট হাসপাতালের গবেষক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই সামনে আসে তৎকালীন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পিঠ বাঁচাতে সেসময় অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন সন্দীপ ঘোষ। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। হাসপাতালের মধ্যে এমন নৃশংস ঘটনার প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। পরে সন্দীপবাবুর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির মামলা হয়। তাই হাই কোর্ট বিচারের স্বার্থে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেনি। কলকাতা হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। শুক্রবার তাতেই স্বস্তি মিলল। বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দু’বছরেরও বেশি সময় জেলবন্দি সন্দীপ ঘোষ। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীর গতির কথা মাথায় রেখে সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে।অর্থাৎ কলকাতা হাই কোর্ট যে জামিনের বিরোধিতা করেছিল, তা খারিজ করে ষষ্ঠীতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে স্বস্তি দিল।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপ্রক্রিয়ার ধীর গতি এবং দীর্ঘ বন্দিদশার কথা বিবেচনা করে এই নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং প্রশান্ত বি বরলের বেঞ্চ। আর্থিক দুর্নীতিতে সিবিআইয়ের মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ। তবে জামিনের সেই আর্জি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেন সন্দীপ। শুক্রবার তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত। দু’বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দি সন্দীপ। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়ার পর সন্দীপদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। শীর্ষ আদালতে সেই বিষয়ই তুলে ধরেন সন্দীপের আইনজীবী। বিচারপ্রক্রিয়ার এই ধীরগতির কথা বিবেচনা করে তাঁর জামিনের আর্জি মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট। অন্য দিকে, আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় আগেই জামিন পেয়েছিলেন সন্দীপ।

আরজি করে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার পরে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দীপকে গ্রেফতার করে সিবিআই। পরে এই মামলার তদন্ত শুরু করে আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-ও। তাদের অভিযোগ, আরজি কর হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা পরিকল্পিত ভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আত্মসাৎ করা হয়েছে ওই টাকা। ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে চেক লেখা হয়েছে। তা দিয়ে টাকা তোলা হয়েছে অথবা অন্য সহযোগী সংস্থায় সেই টাকা সরানো হয়েছে। পরে তা তুলে নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এ ভাবেই অপরাধ আড়াল করা হয়েছে। সেই মামলাতেই সন্দীপের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও ইডি এই মামলায় সন্দীপকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখায়নি বা হেফাজতে নেয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে এই মামলায় চার্জশিট দেয় ইডি-ও। যেহেতু সন্দীপকে ইডি হেফাজতে নেয়নি এবং চার্জশিটও দিয়ে দিয়েছে, তাই তাঁর জেলমুক্তির সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে। ইডি যদি এই জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে যায়, তবে বিষয়টা অন্য হতেও পারে।

সিবিআইয়ের মামলায় জামিন চেয়ে আগে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সন্দীপ। সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, সন্দীপের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। অভিযুক্ত ‘প্রভাবশালী’ হওয়ায় সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন আশঙ্কা করে সন্দীপের জামিন বাতিল করেছিল হাই কোর্ট। হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সন্দীপ। সন্দীপের জামিনে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা আরজি করের নির্যাতিতার বাবার কথায়, ‘‘সিবিআই অপদার্থ সংস্থা। সেটা আরও এক বার প্রমাণ হল।’’ বিরোধীরাও একই অভিযোগ করে থাকে। আরজি করের নির্যাতিতার মা এখন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। তাঁর স্বামীর কণ্ঠেই শোনা গেল সিবিআই-বিরোধিতার কথা। নির্যাতিতার বাবার কথায়, ‘‘যদি বিচার না পাই, তা হলে এটা বলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এতে যদি দল রাগ করে, তাতে আমার কিছু করার নেই।’’ সিবিআই-কে ‘অপদার্থ’ বলে তোপ দেগেছেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতোও। তিনি বলেন, ‘‘এ বারের পুজো বাঙালির জন্য শুভ হল না। এই রকম লজ্জাকর পরিস্থিতি ভারতের মাটিতে দেখতে হবে, তা এক জন আন্দোলনকারী হিসেবে কল্পনা করতে পারিনি। বিচারব্যবস্থাকে দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে ফেলে দিয়ে প্রকারান্তরে দুর্নীতিবাজ, তোলাবাজ, খুনিদেরকেই সহায়তা করছে সিবিআই।’’ অনিকেতের প্রশ্ন, সিবিআই কি সন্দীপ ঘোষের মতোই দোষী নয়? আরজি কর কাণ্ডের আর এক প্রতিবাদী মুখ দেবাশিস হালদারও সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে ‘অপদার্থতার’ অভিযোগ তুললেন। তিনি বলেন, ‘‘ধর্ষণ-খুনের মূল মামলায় সিবিআইয়ের অপদার্থতার জন্য আগেই জামিন হয়ে গিয়েছিল সন্দীপ ঘোষের। দুর্নীতির এই মামলায় যে কোনও দিন জামিন হয়েই যেত। জামিন অপ্রত্যাশিত হলেও আশ্চর্যজনক নয়। দু’দিন পর হয়তো দেখব স্বাস্থ‍্য ভবন বা কোনও জায়গার প্রিন্সিপাল হয়ে ফিরে আসবেন।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, এটা সিবিআই, বিচারব্যবস্থা এবং সরকারের ব্যর্থতা। দেবাশিসের কথায়, ‘‘যে সরকার এল, এত বড় বড় কথা বলল যে, তারা বিচার দেবে! তাদের কী ভূমিকা? সকলের ভূমিকা, সকলের সামনে উন্মোচন হয়ে গিয়েছে। সকলে ভেবেছিলেন সরকার পরিবর্তন হলে বিচার হবে, তার পরেও সেই একই জিনিস চলছে।’’

ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি কৌশিক চাকী বলেন, ‘‘সন্দীপ ঘোষের জামিন পাওয়া মানেই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, এমনটা মোটেই নয়। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা, এ বার হয়তো তাঁর সরকারি চাকরিতে পুনর্বহাল, মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন ফিরিয়ে দেওয়া, এমনকি পুরনো ক্ষমতার আসনে বসানোর চেষ্টাও শুরু হবে। তাঁর চারপাশে গড়ে ওঠা কথিত থ্রেট কালচার ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে না তো? আগে যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই ব্যবস্থা চলার অভিযোগ উঠেছিল, এ বার সেই ছত্রছায়ার রং সবুজ হবে না গেরুয়া, সেটাই দেখার। আমাদের একটাই প্রশ্ন— সরকার বদলালেও কি ব্যবস্থা বদলাবে না, আর নির্যাতিতার ন্যায়বিচারের দাবি কি এ ভাবেই অধরা থেকে যাবে?’’

অ্যাসোসিয়েশন অফ হেল্থ সার্ভিস ডক্টর্সের সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়ও দুষেছেন সিবিআই-কেই। তাঁর কথায়, ‘‘লক্ষ লক্ষ মানুষের আন্দোলনকে কার্যত উপেক্ষা করছে সিবিআই! বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, ১৪৭ জনের মধ্যে ১৪০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ না-করানো এবং চিকিৎসাব্যবস্থার দুর্নীতি এবং হুমকি-সংস্কৃতির শিকড়ে পৌঁছোতে ব্যর্থতা— সব মিলিয়ে ন্যায়বিচার আজ প্রশ্নের মুখে। নির্যাতিতার পরিবারের প্রতি এই অবিচার মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।’’ আরজি কর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক তাপস প্রামাণিকের কটাক্ষ, ‘‘পুজোর ছুটি পেল। এ বার ওয়াশিংমেশিনে ঢুকে দাগহীন পরিষ্কার হয়ে বার হবে।’’ ওয়াশিংমেশিন শব্দবন্ধ বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করে তৃণমূল। সন্দীপের জামিন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সেই শব্দবন্ধ ব্যবহার করতে শোনা গেল চিকিৎসক তাপসকেও। পাশাপাশি, একই প্রতিক্রিয়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিঁধেছেন তাপস। আরজি কর আবহে ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আন্দোলনকারী এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘উৎসবে ফিরুন।’’ যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। সেই বিষয় উল্লেখ করে তাপস বলেন, ‘‘উৎসবে ফিরলেন সন্দীপ ঘোষ।’’ ঘটনাচক্রে গত ৯ অক্টোবর আরজি করের এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের মেয়ের বিচারের দাবি জানিয়েছিলেন নির্যাতিতার মা। আশ্বাসও দিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দুর্গামূর্তি তুলে দিয়েছিলেন এই তাপসই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles