RK NEWZ ভারতীয় টেবল টেনিসে নতুন বিতর্ক। ইতিমধ্যেই জাতীয় টিটি ফেডারেশনকে নির্বাসিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তৎকালীন কার্যনির্বাহী কমিটির পরিবর্তে তিন সদস্যের ‘অ্যাড-হক’ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফেডারেশনের দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানোর। এরমধ্যেই ফেডারেশন কর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশিকা জারি করলেন নির্বাসন ঘোষণার সময় সভাপতি পদে থাকা মেঘনা অহলাবত। যেখানে তিনি অ্যাড-হক কমিটির সঙ্গে ‘অসহযোগিতা’র জন্য কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন কার্যত। যদিও নির্বাসিত হওয়ার পরও নিজেকে সভাপতি দেখিয়ে কীভাবে মেঘনা এহেন নির্দেশিকা জারি করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত আগস্টে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় টেবল টেনিস ফেডারেশনকে নির্বাসনে পাঠায় সরকার। এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝমাঝি সময়ে ফেডারেশনের দায়িত্ব অ্যাড-হক কমিটির হাতে দেয় আইওএ। সভাপতি পিটি উষা নিযুক্ত সেই কমিটির প্রধান প্রাক্তন প্যাডলার ইন্দু পুরি। এছাড়া টেবল টেনিসের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইটিটিএফ-এর প্রতিদিন আন্দ্রেস কনস্ট্যানটিন এবং আইনজ্ঞ নম্রতা চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন কমিটিতে। যদিও সেই কমিটিকে ঠিকভাবে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠছে ক্ষমতা হারানো মেঘনাদের বিরুদ্ধে। এমনকী এখনও পর্যন্ত ফেডারেশনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি। যার ফলে প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়েও সমস্যায় পড়ছে অ্যাড-হক কমিটি। এরমধ্যেই শনিবার বৈঠক ডাকে মেঘনা-গোষ্ঠী। তারপরই কর্মীদের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়। মেঘনার সই করা সেই নির্দেশিকায় তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
১. অ্যাড-হক কমিটি কিংবা তার প্রতিনিধির সঙ্গে কর্মীরা সাক্ষাৎ বা আলোচনা করতে পারবেন না।
২. কোনওভাবেই ফেডারেশনের কোনও তথ্য, কাগজপত্র, রেকর্ড অ্যাড-হক কমিটি কিংবা তার প্রতিনিধিকে দেওয়া যাবে না।
৩. অ্যাড-হক কমিটি কিংবা তার প্রতিনিধির দেওয়া নির্দেশ বা অনুরোধ মানা যাবে না এবং তা সরাসরি সভাপতির গোচরে আনতে হবে।
অর্থাৎ, অ্যাড-হক কমিটির সঙ্গে কোনওরকম ‘সহযোগিতা’ যাতে না করা হয়, ফেডারেশনের কর্মীদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন মেঘনা। আর নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। যদিও তাঁর সেই অধিকার নেই বলেই মনে করছে অ্যাড-হক কমিটি। তারা বিষয়টি ইতিমধ্যেই আইওএ এবং সাই-কে জানিয়েছেন। কমিটির এক সদস্যের কথায়, “ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির পরিবর্তে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে আইওএ। ওদের সরিয়ে আমাদের আনা হয়েছে। ফলে এখন ফেডারেশনে কোনও সভাপতিই নেই। ফলে তাঁর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও নেই। আমরা আইওএ এবং সাই-কে সব বলেছি। সেখান থেকে যেভাবে বলা হবে, সেভাবে কাজ করব।” পাশাপাশি, দ্রুত ফেডারেশনে নির্বাচন করার বিষয়টিও দেখছে কমিটি।



