RK NEWZ যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। ধারেভারে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা অনেক এগিয়ে থাকলেও খুব বেশি মাথা ঘামাতে চাইছে না ভারতীয় দল। কোচ খালিদ জামিলের স্পষ্ট কথা, চাপ থাকলেও সেরাটা দিতে হবে। একই কথা শোনা গিয়েছে ডিফেন্ডার আনোয়ার আলির কথাতেও। সাংবাদিক বৈঠকের আগেই ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি জড়িয়ে ধরেন জামিলকে। দু’জনে একসঙ্গে ছবিও তোলেন। সে প্রসঙ্গে খালিদের সংক্ষিপ্ত উত্তর, “উনি আমাকে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।” পর মুহূর্তেই বেশ সিরিয়াস শোনাল তাঁর গলা। বললেন, “একটা ভাল ম্যাচ হতে চলেছে। ব্রাজ়িলের মতো দলের বিরুদ্ধে রোজ রোজ খেলব না। ফুটবলারদের কাছে দারুণ সুযোগ। ওরাও উত্তেজিত এবং কাল সমর্থকদের সামনে খেলতে মুখিয়ে রয়েছে।” খালিদের সংযোজন, “চাপ তো থাকবেই। আপাতত স্রেফ ব্রাজ়িলকে নিয়েই ভাবছি। মাথায় একটাই কথা ঘুরছে, মাঠে নামো এবং নিজের সেরাটা দাও।” বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিরুদ্ধে ভাল খেলতে মুখিয়ে আছেন আনোয়ারও। বলেছেন, “আগের ম্যাচে ভাল খেলেছি। কাল আর একটা বড় ম্যাচ এবং আমরা ১০০ শতাংশ দেব। যে পরিকল্পনা করেছি তা কাজে লাগাতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। সকলের কাছেই একটা অন্য রকম মুহূর্ত। তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে।” পানামা ম্যাচের তুলনায় ব্রাজ়িল ম্যাচে কৌশল একটু বদলাতে হবে বলে মনে করেন আনোয়ার। তাঁর কথায়, “আমাদের শান্ত থাকতে হবে। সকলেই জানে ব্রাজ়িল কেমন ভাবে খেলা। পানামার থেকে ওদের কৌশল আলাদা হবে। তাই মাঠে নেমে আগে দেখতে হবে ওরা কেমন খেলছে। তার পর নিজেদের কৌশল কাজে লাগাতে হবে।”
প্রথম বার এসেছেন ভারতে। তবে ভারতের সমর্থক তাঁর কাছে অজানা নয়। তিনি জানেন, নিজের দেশের বাইরে হয়তো সবচেয়ে বেশি ব্রাজ়িল সমর্থক রয়েছেন ভারতেই। তাঁদের সামনে খেলতে মুখিয়ে রয়েছেন ব্রাজ়িলের অধিনায়ক মার্কুইনহোস। পাশাপাশি, তাঁর মুখে উঠে এসেছে ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিংহ সঁধুর কথাও। মার্কুইনহোস বলেন, “ভারতের মতো দেশে খেলতে পারা খুব ভাল সুযোগ। জয় ছাড়া কিছুই ভাবছি না। অনেক দিন এই দলের সঙ্গে রয়েছি। তবে তরুণ ফুটবলারেরা এখানে এসে যে অভ্যর্থনা পেয়েছে তা ভোলার মতো নয়। গোটা দল আরও ভাল খেলার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের মতো দেশে এত সমর্থকের সামনে খেলতে পারা সম্মানের। আমরা অনুপ্রাণিত। ব্রাজ়িলের বাইরে বোধহয় ভারতেই সবচেয়ে বেশি ব্রাজ়িলের সমর্থক রয়েছেন। তাই আমাদের কাছে বিষয়টা আনন্দের।” প্যারিস সঁ জরমেঁর হয়ে দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন মার্কুইনহোস। ব্রাজ়িলের হয়ে কোপা আমেরিকাও জিতেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের ব্যাপারে যথেষ্ট পড়াশোনা করেই এ দেশে এসেছেন তাঁরা। মার্কুইনহোসের কথায়, “ভারত এ বছর ছ’টার মতো ম্যাচ খেলেছে। প্রতিটা ম্যাচে জয় ছাড়াও আলাদা ইতিহাস এবং গুরুত্ব রয়েছে। ব্রাজ়িলও ভাল করে বিশ্লেষণ করেছে ভারতকে।” এর পরেই মার্কুইনহোসের মুখে উঠে আসে গুরপ্রীতের কথা। বলেছেন, “এটা গুরপ্রীতের ৯০তম ম্যাচ হতে চলেছে। খুব ভাল ব্যাপার। মনে হয় না ভারতকে কোনও পরামর্শ দেওয়ার দরকার আছে। ওরা অত্যন্ত পেশাদার। ভারত এবং ব্রাজ়িলের সমর্থকদের কাছে এটা খুব ভাল মুহূর্ত।” ২০০২-এর পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজ়িল। গত বিশ্বকাপেও নরওয়ের কাছে প্রি-কোয়ার্টারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে। তবে মার্কুইনহোস অতীতের দিকে তাকাতে চান না। বলেছেন, “বিশ্বকাপের পর আমরা বর্তমান এবং ভবিষ্যতে নজর দিচ্ছি। এ ধরনের ম্যাচ থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগে কী হয়েছে ভাবার দরকার নেই। এখন আমরা অনেক সংগঠিত।”
মঞ্চে উঠে হাতজোড় করে বললেন ‘নমস্তে’। কলকাতায় এ ভাবেই সাংবাদিক বৈঠক শুরু করলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনতেলোত্তি। কথা বলার আগে ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিলকে জড়িয়েও ধরলেন। মাঠে নামার আগেই শহরের মন জিতে নিলেন আনচেলোত্তি। ফিফা ক্রমতালিকায় ব্রাজ়িল অনেক এগিয়ে থাকলেও ভারতীয় দলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন আনচেলোত্তি। তিনি বলেছেন, ‘‘আশা করব একটা উত্তেজক ম্যাচ হবে। এখানে এসে আমরা খুশি। নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’’ অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে এলেও ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশ চূড়ান্ত করতে পারেননি আনচেলোত্তি। ব্রাজ়িল কোচ বলেছেন, ‘‘আমরা ভারতীয় দলকে সম্মান করছি। মাথায় রাখছি, ওরা পানামার সঙ্গে ড্র করেছে। তা ছাড়া আমরা কখনও প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নিই না। আমাদের দল বা ফুটবলারদের প্রমাণ করার কিছু নেই। এই ম্যাচ আমাদের কাছে পরীক্ষা নয়। আমরা এখন চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছি। এই ম্যাচ আমাদের কাছে পরীক্ষা না হলেও একটা সুযোগ।’’ বিশ্ব ফুটবলে ৬৭ বছরের ইটালীয় অন্যতম সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব। নিজের ঠান্ডা মাথা নিয়ে আনচেলোত্তি বলেছেন, ‘‘এটা আমার চরিত্রের অংশ। ফুটবলের ক্ষেত্রে আমি ধৈর্যশীল। একজন ফুটবল ম্যানেজার হিসাবে আমি মনে করি, ধৈর্য খুব গুরুত্বপূর্ণ গুণ।’’
কয়েক জন তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে ভারতে এসেছেন আনচেলোত্তি। নতুন দল তৈরির কাছে হাত দিয়েছেন ব্রাজ়িল কোচ। তিনি বলেছেন, ‘‘দলের নতুন সদস্যদের সঙ্গে কাজ করা আনন্দের। শুধু ওদের সঙ্গ নয়, গোটা দলের সঙ্গেই কাজটা খুব উপভোগ করছি। সকলকে একত্রিত করা, বোঝাপড়া তৈরি করা এবং দলের মধ্যে প্রাণশক্তি অনুভব করার পর্বের মুহূর্তগুলো অসাধারণ।’’ তবে প্রথম একাদশ সম্পর্কে কোনও কথা বলতে রাজি হননি। ক্লাব এবং জাতীয় দলে কোচিং করানোর পার্থক্য কী? আনচেলোত্তি বলেছেন, ‘‘ক্লাবে কোচিং করানো এবং জাতীয় দলকে কোচিং করানো সম্পূর্ণ আলাদা। সঠিক খেলোয়াড়দের বেছে নিতে হয় জাতীয় দলে। ক্লাবে কাজ করার সময় অনেক বেশি পাওয়া যায়। আর ব্রাজ়িলের জাতীয় দলের কোচিং আলাদা বিষয়। গুণমান আমাদের ফুটবল সংস্কৃতির অংশ। আমি চাই ফুটবলারেরা প্রতিটি ম্যাচ আনন্দ নিয়ে খেলুক। খোলা মনে খেলুক। খেলাটা উপভোগ করা খুব জরুরি।’’ শক্তিশালী দল নিয়েও বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলে কিছু পরিবর্তন করেছেন আনচেলোত্তি। সেই হতাশা এখনও রয়েছে তাঁর। তিনি বলেছেন, ‘‘এটা ঠিক আমরা বিশ্বকাপে যথেষ্ট লড়াই করতে পারিনি। আমাদের জন্য সময়টা কঠিন ছিল। অস্ট্রেলিয়া, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচগুলো আমাদের প্রস্তুতির জন্য ভাল। নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শণের ভাল সুযোগ। নতুন খেলোয়াড়ের কাছে এটা অনুপ্রেরণা। ওরা আগামী বছরগুলোয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।’’ ফিফা প্রীতি ম্যাচগুলিতে ব্রাজ়িলের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন আনচেলোত্তি। কোহলি-রোহিতের অসমাপ্ত কাজ শেষ করাই লক্ষ্য শুভমনের, ক্রমতালিকা নিয়ে ভাবেন না এক দিনের ক্রিকেটের এক নম্বর ব্যাটার। ২০০২ সালের বিশ্বজয়ী ব্রাজ়িল দলের সঙ্গে আপনার দলের পার্থক্য কোথায়? আনচেলোত্তি বলেছেন, ‘‘আগে কী হয়েছে বলতে পারব না। আমি শুধু ২০২৬ সালের কথা বলতে পারি। আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। যেগুলো সমাধান করতে পারিনি। ফুটবল বদলে গিয়েছে। অন্য দলগুলো অনেক উন্নতি করেছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘২০০২ সালে ব্রাজিল যে প্রতিভা দেখিয়েছিল, সেটা আসাধারণ ছিল। ফুটবল অনেক বদলে গিয়েছে। খেলাটা এখন অনেক বেশি দলগত হয়েছে।’’



