RK NEWZ বাংলা চলচ্চিত্রের তারকা অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সামনে এল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘জাদুকর সত্যচরণ’-এর লুক। সায়ন্তন ঘোষালের পরিচালনায় ‘জাদুকর সত্যচরণ’-এ একেবারে ভিন্ন অবতারে দেখা যাবে অভিনেতাকে। স্টারমার্ক সিনেমাস এন্টারটেনমেন্টের প্রযোজনায় তৈরি এই ছবির নামেই যেমন রয়েছে জাদুর ইঙ্গিত, তেমনই গল্পের পরতে পরতে থাকবে রহস্য। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র সত্যচরণ একজন খ্যাতনামা ম্যাজিশিয়ান। তবে তাঁর পরিচয় যতটা সহজ বলে মনে হয়, গল্প যত এগোবে সেই ধারণাই তত বদলাতে পারে। তাঁর অতীত, উদ্দেশ্য এবং এক অদ্ভুত রহস্যময় জগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক—সবকিছুই আপাতত নির্মাতাদের গোপনীয়তার আড়ালে। ফলে ‘জাদুকর সত্যচরণ’কে শুধুমাত্র কোনও জাদুকরের জীবনকাহিনি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ম্যাজিকের কৌশলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্যই হয়ে উঠবে গল্পের অন্যতম চালিকাশক্তি। কাহিনির পটভূমি বেনারস। তবে বর্তমান সময়ের শহর নয়, গল্প এগোবে ২০০৫-০৬ সালের সময়কে ঘিরে। সেই সময়ের বেনারসের গলি, পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং শহরের নিজস্ব রহস্যময় আবহকে গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হবে ছবির দুনিয়া। বাস্তবের সঙ্গে কল্পনা, দৃশ্যমানের সঙ্গে অদৃশ্য—এই দুইয়ের সীমারেখা ছবিতে বারবার বদলে যেতে পারে। সত্যচরণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র চন্দন। এই চরিত্রে অভিনয় করছেন সব্যসাচী চৌধুরী। ছবির লেখার দায়িত্বও রয়েছে তাঁর হাতে। চন্দনের সঙ্গে সত্যচরণের সম্পর্ক কী, আর মূল রহস্যে তাঁর ভূমিকা কতটা গভীর, তা এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পাশাপাশি কাহিনিতে রয়েছে কালভৈরব এবং কঙ্কাবতী। কঙ্কাবতী গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহিলা চরিত্র। এই চার চরিত্রকে ঘিরেই ধীরে ধীরে খুলবে রহস্যের দরজা। অভিনয় তালিকাতেও রয়েছে একাধিক পরিচিত মুখ। প্রসেনজিৎ ও সব্যসাচীর সঙ্গে দেখা যাবে ইশা সাহা, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অনিরুদ্ধ গুপ্ত-সহ আরও অনেককে। শুটিং শুরু অক্টোবর ২০২৬ থেকে। বেনারসেই হবে মূল শুটিং। সব পরিকল্পনা ঠিকঠাক এগোলে ২০২৭ সালের ক্রিসমাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে ‘জাদুকর সত্যচরণ’। প্রসেনজিতের নতুন ছবি শুধু একটি নতুন চরিত্রের খবর নয়, বাংলা সিনেমায় ম্যাজিক ও রহস্যের এক নতুন জগতের দরজা খোলারও ইঙ্গিত।
কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে আছি, নতুন আর কী করব, ভাবতে থাকি! তবে এখনও একটা চরিত্র বাকি: প্রসেনজিৎ
নিজেকে ভাঙাচোরারও তো একটা শেষ আছে! চরিত্র বাছাইয়ের কথা উঠতেই বলে ওঠেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এখন বেশ অনেক বছর হল, টালিগঞ্জের ফিল্মপাড়ায় তিনি ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বলেই পরিচিত। তারকা তো বটেই। তবে বহু তারকার মধ্যে নিজের জায়গা আলাদা ভাবে ধরে রাখতে বোধহয় আর সচেতন চেষ্টার প্রয়োজন হয় না তাঁর। সদ্য ৬৪-তে পা রাখা এই অভিনেতাকে বড়পর্দায় দেখতে ইচ্ছুকের ভিড় যে কত হয়, তা নিয়ে নতুন করে বলার আর কী বা থাকে! কিন্তু তিনি নিজেকে আর কোন কোন রূপে দেখতে চান? চরিত্র বাছাইয়ের সময়ে সে সব তো নিশ্চয়ই ভাবতে হয়। দর্শক তাঁকে আর কোন ভাবে দেখবে, তার জন্য নতুন কী করণীয়— নিরন্তর সে ভাবনা চলে। নতুন চরিত্র করার ইচ্ছা এত শত ছবি করার পরেও বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং নতুনের সন্ধান নিত্যই চলে মনের মধ্যে। নিজেকে অভিনেতা হিসাবে ভাঙাগড়ায় বিশ্বাস রাখেন, বরাবর বলে এসেছেন প্রসেনজিৎ। তার চেষ্টাও করেন নিরন্তর। একই বছরে কয়েক মাসের ব্যবধানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে রকস্টার এবং ডাক্তার রূপে, দু’টি ছবিতে। তা কি সহজ, না কঠিন? সহজ কাজ করতে প্রসেনজিৎ পছন্দ করেন না, অন্তত তাঁর মুখের ভাবনার রেখা সে কথাই বলে। গত দশ-বারো বছর ধরে চলা এই লড়াইটা তাঁর একান্ত নিজের। যে কারণে একটা জিনিস ঠিক করে নিয়েছেন যে, বছরে দু’টো ছবি করতে হবে শুধু বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে। যেমন ‘কাকাবাবু’ হতে পারে। আর একটা-দুটো ছবি করবেন, যাতে ভাঙাচোরা করা যায় নিজেকে। একটু ‘অন্য প্রসেনজিৎ’-কে দেখা যাবে। প্রসেনজিৎ এমন মনে করেন না যে, কোনও চরিত্রই আর করার বাকি নেই। আর যে সব রোম্যান্টিক চরিত্রের জন্য বিখ্যাত তিনি, তাতে আর দেখা যাবে না? দেখা যাবে না আর, এমনটা বলছেন না ঠিক। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, আগের মতো নয়, নতুন কিছু হতে হবে। যা করেছেন, বার বার আর তা করতে চান না প্রসেনজিৎ।
নিরিবিলি ঘরটিতে প্রশ্ন পড়তেই শান্ত মানুষটি যেন আরও খানিকটা চুপচাপ। সামনের টেবিলে রাখা কফির কাপে চুমুক দেন। খানিক ভাবেন। তার পর প্রসেনজিৎ বলেন, ‘‘সেটাই চিন্তার। এত চরিত্র করে ফেলেছি। এখন ভাবতে হয়, নতুন আর কী করব! খুবই কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে। সহজে আর এ রকম চরিত্র আসছে না, যা আগে করিনি। ভাঙাচোরারও তো একটা সীমা আছে। আর আলাদা কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না। কারণ, সবটাই যদি অন্য প্রসেনজিৎ করতে যাই, তা হলে আমার চলবে কী করে? এখন আর এত রকমের চরিত্র বেছে বেছে করার মতো আসছে না। যা-ই আসছে, আমি প্রায় তার কাছাকাছি করে ফেলেছি গত কয়েক বছরে। আমার কাছে কেউই খুব সাধারণ চরিত্র নিয়ে আসেন না। যাতে নতুন কিছু করার আছে, তেমনই জিনিস নিয়ে আসেন। গডফাদারে মার্লন ব্র্যান্ডোর চরিত্রটা করার ইচ্ছা নিশ্চয়ই আছে!’’ কিছু বৈগ্রহিক চরিত্র ‘দ্য গডফাদার’এ। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবি ‘ডাক্তার কাকু’-র মুখ্য চরিত্রে অভিনেতা। ‘দৃষ্টিকোণ’ খুব বেশি দিন আগের ছবি নয়। ‘অমরসঙ্গী’-র মতো প্রেমের ছবি করার কথা রোজ রোজ ভাবেন না আর। যা করা হয়নি, তা করে দেখতে চান প্রসেনজিৎ। ইদানীং বেশি ভাবছেন আরও অনেক দর্শকের কাছে তাঁদের ইন্ডাস্ট্রির তৈরি ছবি পৌঁছোবে কী করে, সেই বিষয়ে।




