RK NEWZ হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী হাই স্কুলে ‘সারথী’ সাইকেল বিলির সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মধুসূদন স্কুল-সহ রাজলক্ষী বালিকা বিদ্যালয়, লিলুয়া শিক্ষা নিকেতনের ছাত্রছাত্রীর সাইকেল তুলে দিয়েছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বসে খেয়েছিলেন মিড ডে মিলও। মিড ডে মিলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্কুলের প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই বুধবার ব্যাঁটরা ও দুই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য রুই মাছ ও রসগোল্লা পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মধুসূদন স্কুলের ৬ জন মিড ডে মিলের মহিলা কর্মীদের পুজোর উপহারও পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের শাড়ি ও ৫০০ টাকা করে পাঠিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ৮৫০পিস রুই মাছ পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে রসগোল্লা। মাছ রান্না করা হয় মধুসূদন পাল চৌধুরী স্কুলেই। সেখানে ডেকে নেওয়া হয় রাজলক্ষী বালিকা বিদ্যালয়, লিলুয়া শিক্ষা নিকেতনের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। পরদিনই বুধবার ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরি স্কুলের মিড ডে মিলের ঘরে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো রুই মাছের কালিয়া রান্না হচ্ছে। মি ডে মিলের পাতে ভাত, তরকারি মাছের কালিয়ার সঙ্গে পড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো রসগোল্লাও। তিন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে বসে খেয়েছেন। ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানালেন, ‘‘বুধবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী খুশি হয়ে তিনটি স্কুলের জন্য মাছ ও রসগোল্লা পাঠাচ্ছেন। একটু বেলার দিকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে রুই মাছ ও মিষ্টি এসে পৌঁছয় স্কুলে। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা তাঁর দপ্তরে পাঠিয়েছি।”
পড়ুয়াদের হাতে ‘সারথি’। মধ্যাহ্নভোজন হাওড়ার স্কুলে বসেই। ১৪০ বছরের এই স্কুলে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরি হাইস্কুল থেকে রাজ্যের মধ্যে প্রথম ছাত্রদের মধ্যে ‘সারথি’ সাইকেল প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু কমলা রঙের সাইকেল প্রদান নয়, এদিন এই স্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে স্কুলের মিড ডে মিলের ঘরে বসে দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজও মুখ্যমন্ত্রীর। বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই বিগত তৃণমূল সরকারের ছাত্রদের সবুজ সাথীর সাইকেলের নাম পরিবর্তন করে সারথি করে। সাইকেলের রঙ বদলে সবুজ থেকে কমলা করা হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্র সকলের মধ্যেই উৎসাহ। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া ও পুলিশ কমিশনার অখিলেশ কুমার চুতুর্বেদী। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত চলা প্রায় ১২০০ ছাত্রের এই স্কুলে প্যান্ডেল হওয়ার পাশাপাশি একটি ঘরে প্রচুর সারথী সাইকেল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তী বললেন, ”হাওড়া জেলায় আমাদের স্কুলের পরিকাঠামো ভালো হওয়ায় এখান থেকেই সারথী সাইকেল প্রদানের সিদ্ধান্তের কথা মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের স্কুলে আশ্রমের আদলে একটি সুন্দর মিড ডে মিল খাওয়ানোর ঘর তৈরি করা হয়েছে। প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যায়ে একসঙ্গে ৫০ জন খাওয়ার একটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এই ঘরের পরিকাঠামো দেখেও মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ হয়েছে। তাই তিনি মঙ্গলবার দুপুরে এই মিড ডে মিলের ঘরে এসে ছাত্রদের সঙ্গে খাওয়ার পরিকল্পনা করেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রী আসার জন্য সোমবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি।’’ মিড ডে মিলের ঘরকে সাজিয়ে তোলা হয়। প্রসঙ্গত, এই মিড ডে মিলের ঘরে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেকদিন প্রায় ৪০০ জন ছাত্র বসে ও দাঁড়িয়ে খেতে পারে।




