RK NEWZ ছক্কা মেরে হাফসেঞ্চুরি, তারপর চার মেরে মাইলফলক স্পর্শ কোহলির। দরকার ছিল মাত্র ৫৯ রান। বিরাট কোহলি মাত্র ৪৭ বলে সেটা করে ওয়ানডেতে ১৫০০০ রানের মাইলফলক ছুঁলেন কোহলি। হাফসেঞ্চুরি করলেন ছক্কা হাঁকিয়ে। শচীন তেণ্ডুলকরের পর ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ১৫ হাজার রানের গণ্ডি পেরলেন। এরপর ফের সেঞ্চুরি। যা কোহলির ৮৬তম সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির সংখ্যা ৫৫।
কেরলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডের আগে কোহলি ১৪৯৪১ রান দাঁড়িয়ে ছিলেন। এবার ৩১৫ ম্যাচে, ৩০৩ ইনিংসে রেকর্ড বইয়ে নাম তুললেন। যেখানে শচীন ১৫০০০ রান করেছিলেন ৩৭৭ ম্যাচে। এর আগে কোহলি ২০২৩ সালে ২৬৭ ইনিংসে ১৩০০০ ওয়ানডে রান করে দ্রুততম খেলোয়াড় হয়েছিলেন। এবার ফের দ্রুততম হিসেবে শচীনকে টপকে গেলেন। শচীনের থেকে অনেক কম ইনিংস খেলে। অর্থাৎ ওয়ানডেতে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ১৫০০০ রানের নজির গড়লেন। হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। কোহলিও হাসিমুখে অভিবাদন গ্রহণ করেন। তবে ৪৬৩ ম্যাচে ১৮৪২৬ রান নিয়ে সবার উপরে শচীন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে ১৫ হাজার রান পেরনো এবং সেঞ্চুরির সংখ্যা বাড়িয়ে নিলেন। লিস্ট এ ক্রিকেটে শচীনের সেঞ্চুরি সংখ্যা ছুঁয়ে ফেললেন বিরাট। শচীনের লিস্ট এ সেঞ্চুরির সংখ্যা ৬০। বিরাটেরও তাই হল। এছাড়া ঘরের মাঠে এই মুহূর্তে বিরাটের সেঞ্চুরির সংখ্যা হল ৪২। শচীনও ঘরের মাঠে করেছেন ৪২ সেঞ্চুরি। সেটাও ছুঁয়ে ফেলেন কিং কোহলি। শেষমেশ অপরাজিত থাকেন ১৩৯ রানে। ১১০ রান করে শচীনের আরও এক রেকর্ড ভেঙে দিলেন বিরাট। ঘরের মাঠে ওয়ানডে-তে শচীনের মোট রান ৬ হাজার ৯৭৬। সেটাও ভেঙে দিলেন বিরাট। এবার প্রতীক্ষা কোহলির ১০০ সেঞ্চুরির। বিশ্বকাপ ধরলে সেটা হয়ে যাবেই বলে আশাবাদী ভক্তরা। নিঃসন্দেহে আধুনিক এক দিনের ক্রিকেটে তিনি সেরা। তাঁর ধারেকাছে কেউ নেই। আরও এক বার চোখে আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি।
তিরুঅনন্তপুরমে আরও একটি শতরানে আরও এক বার ভারতকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন। পাশে পেলেন শুভমন গিলকে। অধিনায়কের ব্যাট থেকেও এল শতরান। দু’জনের ব্যাটে প্রথম এক দিনের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে ৮ উইকেটে হেলায় হারাল ভারত। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর বলেছিলেন, এই সিরিজ় থেকেই আগামী বছরের এক দিনের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে চান তাঁরা। সেই শুরুটা ভাল হল। অন্তত ভারতের টপ অর্ডার বুঝিয়ে দিল, বিশ্বকাপের জন্য তৈরি। প্রথমে ব্যাট করে জাস্টিন গ্রিভসের শতরানে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। সেই রান তাড়া করতে ৪১.৩ ওভার লাগল ভারতের। শুভমন ১০৮ বলে ১১০ ও কোহলি ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংস খেললেন। রোহিত শর্মার ব্যাট থেকে এল ৩২ রান। শেষ বার এই মাঠে ভারত যে দিন খেলতে নেমেছিল, সেই ম্যাচেও শতরান করেছিলেন শুভমন ও কোহলি। আরও এক বার সেই ছবি দেখা গেল। তিরুঅনন্তপুরমে তিন ম্যাচে ৩৩৮ রান করেছেন কোহলি। দু’টি শতরান। ভারতের মাটিতে এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর সর্বাধিক অপরাজিত ১৬৬ রানও এসেছিল এই মাঠে। দক্ষিণের এই মাঠে এক বারও আউট হননি ভারতীয় ব্যাটার। এক দিনের ক্রিকেটে খেলার ধরন কিছুটা বদলেছেন কোহলি। এখন শুধু সিঙ্গলস, ডাবলসের উপর নির্ভর করেন না। শুরু থেকেই বড় শট খেলার চেষ্টা করেন। শনিবারও সেটা দেখা গেল। ১০টি চার ও ৯টি বিশাল ছক্কা মারলেন। ফলে তাঁর স্ট্রাইক রেট অনেকটাই বেড়েছে। ঠিক যেন টি-টোয়েন্টি খেলছেন। তার ফলও পেয়েছেন কোহলি। এক দিনের ক্রিকেটে শেষ ১১ ইনিংসে ৮৯৮ রান করেছেন তিনি। চারটি শতরান ও পাঁচটি অর্ধশতরান করেছেন। এর পরেও কি তাঁকে নিয়ে সন্দেহ করা যায়? কোহলি আরও এক বার দেখালেন, কেন তাঁর উপর ভরসা করে গোটা ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২৯৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাল করেন শুভমন ও রোহিত। দ্রুত রান করছিলেন দুই ব্যাটার। পরের বছর এক দিনের বিশ্বকাপে রোহিত খেলবেন কি না, তা নিয়েও গত কয়েক মাসে অনেক আলোচনা হয়েছে। ফলে রোহিতও চাইছিলেন বড় রান করতে। শুরুটা সে ভাবেই করেছিলেন। কিন্তু ৩২ রানের মাথায় ধৈর্য হারিয়ে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হন রোহিত। দু’টি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন। তার পরেই শুরু হল শুভমন-কোহলি শো। এই মাঠে যেখানে ছেড়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকেই শুরু করলেন। দৌড়ে দ্রুত রান নিলেন। খারাপ বল পেলে ছাড়লেন না। তাঁদের দেখে মনে হচ্ছিল, পাড়ার কোনও দলের বিরুদ্ধে খেলছেন। না ছিল বোলারদের কোনও পরিকল্পনা। ফিল্ডিংয়ের মানও তথৈবচ। শুভমন ও কোহলির একটি করে ক্যাচ পড়ল। তার খেসারত দিতে হল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথমে শতরান পূর্ণ করেন শুভমন। এক দিনের ক্রিকেটে এটি তাঁর ১০ নম্বর শতরান। অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে রানের গড় বেড়েছে। বোঝা যাচ্ছে, দায়িত্ব নিয়ে খেলতে ভালবাসেন তিনি। ১১০ রানের মাথায় রস্টন চেজ়ের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন শুভমন। তবে সাজঘরে ফেরার আগে দলের জয় নিশ্চিত করে যান। কোহলি অবশ্য দলকে না জিতিয়ে মাঠ ছাড়েননি। শুভমন ফেরার পর রান তোলার গতি আরও বাড়ালেন তিনি। ছক্কা মেরে অর্ধশতরান করেছিলেন। ছক্কা মেরেই করলেন শতরান। কয়েক বছর আগে কোহলির কাছে এই শট দেখা যেত না। বিশেষ করে ৯৪ রানের মাথায়। কিন্তু এখন দেখা যায়। নিজের খেলায় এই বদলই করেছেন। শেষ পর্যন্ত ৪১.৪ ওভারে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন কোহলি। মাত্র ৮৮ বলে ১৩৯ রান করলেন তিনি। ১৩ রানে অপরাজিত থাকলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে এক দিনের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ইনিংসের সাক্ষী থাকলেন তিনি। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ও ব্যাট ভাল করে। জন ক্য়াম্পবেল ও গ্রিভস ভাল শুরু দেন দলকে। ওপেনিং জুটিতে ১৩৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। ৬২ রানের মাথায় ক্যাম্পবেলকে আউট করেন তিনি। গ্রিভস শতরান করেন। ১০১ রানের মাথায় তাঁকেও ফেরান কুলদীপ। মাঝের ওভারে পর পর উইকেট পড়ে। নইলে যেখানে একটা সময় মনে হচ্ছিল ৩২০-৩২৫ রান হবে, সেখানে ২৯৫ রানে শেষ হয় ইনিংস। ভারতের বোলারদের মধ্যে নজর কাড়লেন কুলদীপ। ৪০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেন তিনি। ২ উইকেট প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের। নীতীশ রেড্ডি নিলেন ১ উইকেট। তবে এই ম্যাচে জসপ্রীত বুমরাহ বা মহম্মদ সিরাজ খেলেননি। ফলে ভারতের পেস আক্রমণ তুলনামূলক ভাবে অনভিজ্ঞ ছিল। সেই অভাব ঢেকে দিলেন শুভমন, কোহলি। সিরিজ়ে ১-০ এগিয়ে গেল ভারত।




