RK NEWZ যুবভারতীর সবুজ গালিচায় সাম্বার ছন্দে পা মেলাতে তৈরি ব্রাজিল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহাদের মতো তারকাদের ভারত সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আবহ। অতিথিদের আপ্যায়নে যাতে একটুও খামতি না থাকে, সেই প্রস্তুতিও তুঙ্গে। নবরূপে সেজে উঠছে যুবভারতী। চলছে সংস্কারের কাজ। শহরে ছেয়ে গিয়েছে হোর্ডিং। পাশাপাশি ‘সেলেকাও’দের রাজকীয় খাদ্যতালিকাও নজর কেড়েছে। ভারতীয় ফুটবল দল নিজেদের ইতিহাসে এত বড় ম্যাচ খেলেনি আজ পর্যন্ত। আপাতত যা খবর, ১ অক্টোবর কলকাতা আসবেন পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা। পরিকল্পনা হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে ভিনিসিয়াস-নুনেজদের সরাসরি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। পরের দিন দুপুরে হোটেল থেকেই সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাদের। সেদিন বিকেলে যুবভারতীতে অনুশীলন করার কথা রয়েছে ব্রাজিল দলের। ২৩ সেপ্টেম্বর মোহনবাগানকে কলকাতা লিগ জয়ের ট্রফি তুলে দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেছিলেন, “ব্রাজিল দলকে আমরা বিশেষ আপ্যায়ন করব। ম্যাচের আগের দিন স্টেট ডিনারের আয়োজন থাকবে। স্টেট রিসেপশনও হবে। ম্যাচের দিনও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।” তবে রিসেপশনের সময় এখনও জানা যায়নি। বেঙ্গালুরুতে ভারত মুখোমুখি হয়েছিল সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা পানামার। কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে যে ম্যাচ ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। তার রেশ কাটার আগেই এবার ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে কোচ খালিদ জামিলের দল। যে ম্যাচ খেলার জন্য ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, এনড্রিক, এস্তেভাও, ব্রুনো গুইমারেজ, মার্কুইনোসের মতো মহাতারকাদের নিয়ে আসছে ব্রাজিল। এমন ম্যাচকে নিয়ে যুবভারতী যেমন সেজে উঠছে। ইতিমধ্যেই রঙের পোঁচ পড়েছে স্টেডিয়ামের দেওয়ালে। প্রথমবার স্টেডিয়ামের প্রত্যেক আসনে থাকছে নির্দিষ্ট নম্বর। অর্থাৎ, আগের মতো শুধু কোনও একটা জোনের নয়, এই দুই ম্যাচে দর্শকরা কাটতে পারবেন নির্দিষ্ট আসনের টিকিট। দর্শকদের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা উপহার দিতে নতুন করে সাজানো হয়েছে র্যাম্প, শৌচাগার। গ্যালারির লবিতে থাকছে ফুড স্টলও। সেজে উঠছে তিলোত্তমাও। শহরের নানান জায়গায় ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে ম্যাচের হোর্ডিং দেখা গিয়েছে। ৩ অক্টোবর ম্যাচ। জানা গিয়েছে, ম্যাচ খেলে সেদিন রাতেই ভিনিসিয়াস, রাফিনহারা ক্লাবের ম্যাচ খেলতে চলে যাবেন। পরের দিন, অর্থাৎ সোমবার গোটা দল ফিরবে। প্রসঙ্গত, ব্রাজিল দলের খাদ্যাভ্যাস এবং ফিটনেস নিয়ে সতর্কতার কথা সর্বজনবিদিত। তাই কলকাতা সফরেও খাবারের দায়িত্বে থাকছেন দলের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ শেফেরা। খেলোয়াড়দের দৈনন্দিন চাহিদা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে পাঁচ দফার খাদ্যতালিকা। সকালের শুরুতেই প্রোটিন জাতীয় খাবারে জোর দেওয়া হয়েছে। তেল ছাড়া ডিমের নানা পদ, চিজ অমলেট, স্মোকড টার্কি এবং বিশেষ ভাবে তৈরি মুরগির পদ থাকছে প্রাতরাশে। সঙ্গে গাজরের কেক, ওয়াফেল, বিভিন্ন ধরনের কফি, হারবাল চা এবং তাজা ফলের রস। দুপুরের পাতে থাকতে পারে টাটকা স্যালাডের সঙ্গে থাকছে বেকড পর্ক হ্যাম, গ্রিলড চিকেন ব্রেস্ট এবং কাঁটাবিহীন রেড স্ন্যাপার। সঙ্গে ভাত, পাস্তা এবং ব্রাজিলের জনপ্রিয় খাবার ‘ফারোফা’। শেষ পাতে ব্রাজিলীয় মিষ্টি ‘ডুলস দে লেশে’। এর পর অনুশীলনের ফাঁকে ‘ট্রেনিং স্ন্যাক্স’। কর্ন কেক, হালকা স্যান্ডউইচ এবং নানা ধরনের ফল। আর ‘ঘরে’র স্বাদ ফিরিয়ে আনতে থাকছে ব্রাজিলের প্রিয় ক্যান্ডি ‘ব্যানানিহা’ এবং মিষ্টি ‘প্যারোকুইনহা’। রাতের খাবারেও বৈচিত্র কম নয়। রোস্টেড চিকেন থাই, গ্রিলড পর্ক এবং তেরিয়াকি সসে নরওয়ের স্যামন। সঙ্গে ভাত, সবজি ও পাস্তা। ডেজার্টে অ্যাপেল ক্রাম্বল। রাতে দেরিতে খিদে পেলেও চিন্তা নেই। থাকছে পঞ্চম দফার ব্যবস্থা। হালকা পাউরুটি, ওটস, ড্রাই ফ্রুটস, দই, অরেঞ্জ কেক এবং ওয়াফেল। সবমিলিয়ে, বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের বরণ করে নিতে প্রায় প্রস্তুত ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতা।




