RK NEWZ টোকিও অলিম্পিক ভারোত্তোলনে রুপো দিয়েছিল চানুকে। সেই জাপান, আবারও খালি হাতে ফেরালো না তাঁকে। বারো বছর পর, এক যুগ পর, এশিয়ান গেমসে পদক জিতলেন চানু। পেলেন রুপো। খুব স্বাভাবিক ভাবে এত দিনের অধরা মাধুরী স্পর্শ করতে পেরে বিমোহিত চানু। গেমসে রুপোজয়ের পর বলছিলেন, “এত দিন ধরে যে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখতাম, তা এতদিন পর পূর্ণ হল। বারো বছর ধরে এশিয়ান গেমসে পদক তাড়া করছিলাম আমি। খুব হালকা লাগছে এখন। পুরো চাপটাই সরে গিয়েছে। আমার স্বপ্ন ছিল, এশিয়ান গেমসে পদক জেতা। আজ মনে হচ্ছে, জীবনটা সম্পূর্ণ হল।” জাপান দেশটা তাঁর কাছে প্রভুত পয়া, সেটাও পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন চানু। বলেছেন, “টোকিও অলিম্পিকে আমি রুপো জিতেছিলাম। আবার জাপান এশিয়াডেও পদক জিতলাম। অলিম্পিকে পদক জয়ের পর থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, আমাকে এশিয়াডে পদক জিততে হবে।” সঙ্গে চানুর সংযোজন, “একটা সময় পর্যন্ত প্রবল সংশয়ে ভুগতাম এশিয়ান গেমস এলে। নিজেকে প্রশ্ন করতাম, এশিয়ান গেমসে কেন এমন হয় আমার? কেন পদক জিততে পারি না? কিন্তু এবার সব কিছু অন্য রকম ছিল। নিজের সেরাটা দিয়েছি আমি। সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি। আমি ঠিক করেই এসেছিলাম, যা-ই হয়ে যাক, এশিয়াড থেকে এবার পদক নিয়েই ফিরব।”বত্রিশ বছর বয়সী মণিপুরি ভারোত্তোলকের মতে, এশিয়ান গেমসে পদক জয় অলিম্পিকের সঙ্গে সম-মর্যাদার। কারণ, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভারোত্তলকরা এশিয়ারই। চানু ঠিক করে নিয়েছিলেন, সেরা পারফর্ম করে পদক জিতবেন। যে কারণে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১০ কেজির বেশি ওজন তোলেন তিনি। বলছিলেন, “আমি চেয়েছিলাম, একশো দশ কেজির সীমানা পেরোতে। কারণ, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগী (শেষ পর্যন্ত যিনি ব্রোঞ্জ জেতেন) কত তুলবে, জানতাম না। বুঝে গিয়েছিলাম, সোনা জেতা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই রুপোকে টার্গেট করি। আমি চেয়েছিলাম, শুধু নিজের সেরা পারফরম্যান্স বার করে আনতে। কম ওজন তুলে, পদক জিততে চাইনি আমি।” টোকিওর পর নাগোয়া। জাপান ফের পদক দিল মীরাবাই চানুকে।



