মোহনবাগান: ৩ (সাহাল ২, সায়ন ১)
মহামেডান: ২ (লালরেমসাঙ্গা, মহিতোষ)
RK NEWZ কলকাতা লিগ। ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল পাঁচ দল। তিন প্রধানের সঙ্গে যে দৌড়ে প্রবলভাবে ছিল ভবানীপুর এবং ইউনাইটেড স্পোর্টসও। তবে সকলের নজর ছিল বারাসত স্টেডিয়ামে মোহনবাগান-মহামেডান ম্যাচের দিকে। কারণ এই ম্যাচের উপর নির্ভর করছিল যাবতীয় হিসাব-নিকাশ। লাল কার্ড, পেনাল্টি, পালটা গোল – কী না ছিল এই ম্যাচে! তবে পিছিয়ে পড়েও শেষ হাসি হাসল ১০ জন হয়ে যাওয়া মোহনবাগান। মহামেডানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ৮ বছর পর কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হল সবুজ-মেরুন। মিনিটেই গোলের সুযোগ এসেছিল সাহালের সামনে। তবে মহামেডানের গোলরক্ষক বিপদ সামলে দেন। দু’মিনিট পর ফের সুযোগ। কিয়ান নাসিরি বল নিয়ে আক্রমণাত্মক থার্ডে উঠে সুন্দর ক্রস বাড়ান। বল পেয়ে শট নেন সাহাল। কিন্তু তাতে জোর ছিল না। সুযোগ নষ্ট হয়। ১৬ মিনিটে আবারও সাহাল। বাঁ-দিক থেকে আসা ক্রসে শুধু পা ছোঁয়ালেই গোল হয়ে যেত। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থতা! ১৯ মিনিটে প্রেসিং ফুটবল করে উপরে ওঠার চেষ্টা করে মহামেডান। ২৬ মিনিটে শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙে সবুজ-মেরুন। লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের মাপা ক্রস। দুরন্ত হেডে গোল সাহালের। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের ছবি বদলে যায়। ৪২ মিনিটে পালটা আক্রমণ থেকে সমতা ফেরায় মহামেডান। থাংখিমাকে আটকাতে মোহনবাগানের একাধিক ডিফেন্ডার এগিয়ে আসেন। সেই সুযোগে ডান দিকে থাকা লালরেমসাঙ্গাকে বল বাড়িয়ে দেন থাংখিমা। পিছন থেকে দৌড়ে এলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। ডান পায়ের জোরালো শটে দীপ্রভাতকে পরাস্ত করেন লালরেমসাঙ্গা। ১-১ স্কোর লাইনে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দীপক টাংরিকে তুলে অভিষেক সিংকে নামান মোহনবাগান কোচ। ৫৪ মিনিটে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ মোহনবাগানের। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে কিয়ান নাসিরির সহজেই তাঁর হেড গোলে রাখতে পারতেন।। কিন্তু তিনি বল অন্য দিকে পাঠিয়ে দেন। ৫৯ মিনিটে লালরেমসাঙ্গা বল নিয়ে মোহনবাগানের বক্সে ঢুকে পড়েন। দীপ্রভাতকে ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁকে ফেলে দেন বাগান গোলরক্ষক। পেনাল্টি দিতে ভুল করেননি রেফারি। সঙ্গে দীপ্রভাতকে দেখান সরাসরি লাল কার্ড। গোলদুর্গ সামলাতে নামেন জাহিদ। ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মহামেডানকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মহিতোষ রায়। ম্যাচ তখন মহামেডানের দিকে হেলে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হাল ছাড়েনি ১০ জনের মোহনবাগান। ৭০ মিনিটে সাহালের গোলে সমতায় ফেরে মোহনবাগান। আর তিন মিনিট পরেই উলটে যায় ম্যাচের রং। ৭৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোলে ৩-২ করে মোহনবাগান। একের পর এক নাটক পেরিয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে মরশুমের প্রথম ট্রফি এল মোহনবাগানে। মোহনবাগান জেতায় এদিন লিগের বাকি ম্যাচের ফলাফলের দিকে চোখ রাখার কোনও প্রয়োজন পড়ল না। প্রসঙ্গত, কোল ইন্ডিয়াকে ৭ গোলে হারিয়েও লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া হল না ইস্টবেঙ্গলের। অন্যদিকে, ভবানীপুর-ইউনাইটেড স্পোর্টস ম্যাচ গোলশূন্য।




