RK NEWZ ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবির সচিব এবং যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন হওয়ার কথা। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে ক্যুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে কারচুপি করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাবকে সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভার নথি পাঠানো নিয়ে ময়দান থানায় অভিযোগ জমা পড়ল। সিএবির কয়েক জন কর্তা এবং একটি ক্যুরিয়র সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সদস্য গৌতম দে। সিএবির আসন্ন নির্বাচনে এই সংস্থার ভোট আছে। সূত্রের খবর, পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে দিয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। সেখানেই সংস্থার সচিব এবং যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন হওয়ার কথা। একই সঙ্গে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একজন প্রতিনিধিও নির্বাচিত হবেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত নথি পাঠানোর যে ক্যুরিয়ার রেকর্ড, সেখানে কারচুপি ও জালিয়াতি করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, অভিযোগে বলা হয়েছে, সিএবির পাঁচটি অনুমোদিত ক্লাবকে নাকি তাদের নির্বাচনের কাগজপত্র নথিভুক্ত ঠিকানায় না পাঠিয়ে সিএবি পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে যে, এই পাঁচটি ক্লাবে নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে ওই ক্যুরিয়র সংস্থার কনসাইনমেন্ট নম্বরের কোনও ‘ট্র্যাকিং হিস্ট্রি’ নেই। শুধু তাই নয়, পাঁচটি পৃথক বুকিং রসিদের বদলে একটিমাত্র রসিদ নাকি তৈরি করা হয়েছিল। গৌতমের বক্তব্য, ‘‘এটা থেকে বোঝা যাচ্ছে, কনসাইনমেন্টগুলি ভুয়ো এবং ডেলিভারি রেকর্ডগুলি জাল। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরে কিছু নথি নাকি একই কনসাইনমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে আবার পাঠানো হয়েছে।’’ ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ছাড়াও ওয়াইএমসিএ, ফ্রেন্ডস স্পোর্টিংও রয়েছে এই তালিকায়। জানা গেল, স্টার স্পোর্টিং ক্লাব নাকি সংশ্লিষ্ট ক্যুরিয়র সংস্থার দফতরে গিয়ে নির্বাচনের নথি নিয়ে এসেছে। সূত্রের খবর, যে ক্যুরিয়র সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেটি ডিটিডিসি। ঘটনাচক্রে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। গৌতমের দাবি, এজিএম-এ অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই সিএবি ও ডিটিডিসি কর্মীদের যৌথ ষড়যন্ত্রে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে, সঠিক ব্যক্তিদের কাছেই নথি পাঠানো হয়েছে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করার, কুরিয়ার রেকর্ড ও ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করার দাবি জানিয়েছেন গৌতম।
সৌরভ এই মুহূর্তে শহরে নেই। সিএবি সচিব বাবলু কোলে বললেন, ‘‘আমাদের কাছে যে ঠিকানা নথিভুক্ত আছে, সেখানেই সবকিছু পাঠানো হয়েছে। আমাদের কাছে তার প্রমাণও আছে। এ বার কোন ক্লাবের কে চিঠি রিসিভ করল, সেটা তো সিএবির পক্ষে জানা সম্ভব নয়।’’ ট্র্যাকিং হিস্ট্রি না থাকা নিয়ে সিএবি সচিব বললেন, ‘‘একটা চিঠি পাঠানোর পর সারাক্ষণ তা ট্র্যাক করা কি কারও পক্ষে সম্ভব?’’ পাঁচটির বদলে একটিই রসিদ তৈরি করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা নিয়ে তিনি বললেন, ‘‘যিনি বলছেন, মনে হয় না ঠিক বলছেন। এরকম কিছু হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’’ সবশেষে সচিবের প্রশ্ন, ‘‘যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি তো ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সচিব বা সভাপতি নন। তিনি কে? তিনি তো একজন সদস্যমাত্র।’’



