টলিউডের নতুন সমীকরণ? সুদিন ফিরছে? নেপথ্যে বক্স অফিসের হিসেব? সুদৃঢ় মেলবন্ধন। সিনেমা, ইন্ডাস্ট্রির সমীকরণ নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে টলিউড মহাতারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ এক ফ্রেমে। উত্তমকুমার মিলিয়ে দিলেন?
প্রসেনজিৎ : সুদিন আমাদের আছেই। একে অপরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব এটাই আমাদের রীতি। আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলি না। কিন্তু এখন সেটাকে অন্যরকমভাবে পরিবেশন করা হয়। সিনেমার ক্ষেত্রটা আনন্দের জায়গা। সেটা সেরকম ভাবেই যেন রাখা হয়। শুধু আমরা কেন? যিশু, আবির, অঙ্কুশ। অন্যদিকে মিঠুনদা, রঞ্জিতদা, দীপকদা, আমার বাবা– সবাই ছিলেন।
উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে আপনি আগলে রেখেছিলেন।
প্রসেনজিৎ : বাবাকে আমি আগলাইনি। আমার বন্ধুরাই পুরো দেখভাল করছিল। শুধু আমার বন্ধুরাই নয়, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী থেকে সবাই বর্ষীয়ান অভিনেতাদের অসম্ভব সম্মান দিয়েছেন। বাবার সঙ্গে এখন সম্পর্ক পুরোটাই ভালো।
২০২৬-এর প্রসেনজিৎ আটের দশকের প্রসেনজিৎ। তফাৎ?
প্রসেনজিৎ : আটের দশকের আমার ছবির গানগুলো এখনও তুমুল জনপ্রিয়। বাইশ-তেইশ বছরের ছেলেমেয়েরা আমার ওই সময়ের গানে রিলস বানাচ্ছে। মাঝে মাঝে আমার চোখে জল এসে যায়। আমাদের আটের দশকের ম্যানারিজম নিয়ে অনেক মজা করা হত। কিন্তু জেন জি-রা আমাদের ছুড়ে ফেলেনি। এটা আমাদের কাছে পাওনা। ২০২৬-এ এসে আটের দশকের প্রসেনজিৎকে বলব, ‘তোমরা বেঁচে গেছ, কারণ তখন সোশাল মিডিয়া ছিল না। সোশাল মিডিয়ায় তোমরা নিজেদের এক্সপোজ করোনি।’
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ! রাজনীতির জল্পনা?
প্রসেনজিৎ : আমি নিজেই গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অরাজনৈতিক সাক্ষাৎ করেছি। মহানায়কের জন্মশতবর্ষ নিয়ে কথা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনারা যেটা করতে চান আমরা পাশে আছি। আর অন্য কোনও অ্যাজেন্ডা ছিল না। সরকার বা মুখ্যমন্ত্রী কিছু মানুষকে জানেন যারা পরম্পরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সেই জায়গা থেকে যে যে দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হচ্ছে আমরা চেষ্টা করছি। অভিনেতা, টেকনিশিয়ান, প্রযোজক সবার মধ্যে মেলবন্ধন রাখাটাই উদ্দেশ্য। একত্রিত হয়ে কাজ করাটাই মূল লক্ষ্য।
পাভেলের সঙ্গে প্রথম কাজ ‘ডাক্তার কাকু’। মানুষের প্রতি বিশ্বাস?
প্রসেনজিৎ : এই বিশ্বাস করতেই হবে। বিশ্বাস মূল ভিত্তি। সৃজিত মুখোপাধ্যায় যখন নতুন ছিল তখনও আমি কাজ করেছি। নতুন প্রজন্মের ওপর বিশ্বাস রেখে নিজেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে ফেলেছি বলে এখনও আমি টিকে আছি। এই ছবিটা আমরা শুরু করেছিলাম প্যান্ডেমিকের আগে। আমি ভালো চরিত্র খুঁজে বেড়াই। খুব কম ধরনের চরিত্র আছে যেগুলো আমার কাছে আসেনি। স্ক্রিপ্ট শুনে মনে হয়েছিল এই চরিত্র আমার করা হয়নি। বাঙালিয়ানার ছোঁয়া আছে। পাভেলের লেখার মধ্যে একটা আধুনিকতার ছোঁয়া আছে। বাবা-ছেলের গল্প। এমন ধরনের চরিত্র আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দুটো মানুষের বিশ্বাসের ওপর ছবিটা দাঁড়িয়ে আছে। তাই আমি হ্যাঁ বলেছিলাম।
আপনাকে টলিউডের অভিভাবক বলা হয়?
প্রসেনজিৎ : এই বিষয়টা আমার মনে কোনও প্রভাব ফেলে না। কাজের জায়গা হোক বা পারিবারিক ক্ষেত্রে, সবাইকে খুশি করা যায় না। পঁয়তাল্লিশ বছরের কেরিয়ারে এটা আমি বুঝেছি। আমার বয়স বেড়েছে, পরিণত হয়েছি। তাই ওইগুলো ধরলে আমি কোনও পজিটিভ কাজ করতে পারব না। আমি সোশাল মিডিয়া দেখি না। ভালো কিছু করতে ও নেগেটিভ জিনিস এড়িয়ে, পজিটিভিটি ছড়িয়ে দেওয়াতে বিশ্বাসী। সকলকে নিয়ে কাজ করতেই পছন্দ করি।
সোশাল মিডিয়া এখন প্রচারের একটা বড় অংশ?
প্রসেনজিৎ : সোশাল মিডিয়াটা আমার টিম দেখে। আমি নিয়মিত দেখি না। সোশাল মিডিয়ার এই বাড়বাড়ন্ত গত কয়েক বছর। আগে কি সোশাল মিডিয়া ছিল? এখনও আমি শহরতলিতে গেলে এক লক্ষ, দেড় লক্ষ লোক আসে। এমন মানুষ আসেন যাঁরা সোশাল মিডিয়া সম্পর্কে অবগত নন। অনেক বয়স্ক মানুষও আসেন। তাঁরা ছুটে আসেন কেন? থেকে যায় শুধু সিনেমাটা। আমি সিনেমাতেই বিশ্বাসী। সোশাল মিডিয়া নিয়ে বেশি ভাবিত নই।



