RK NEWZ ২০১০-১১ মরশুম থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন। অর্থাৎ মহম্মদ শামির ক্রিকেট কেরিয়ার ১৫-১৬ বছর। আর সেখানে বৈভব সূর্যবংশীর বয়স মাত্র ১৫। অর্থাৎ শামির কেরিয়ারের সমান বয়স। অথচ সেই বৈভবই কি না শামির সঙ্গে খুনসুটি করে! আবার ঈশান কিষানকেও মোক্ষম জবাব দিল ‘বেবি বস’। ডিআরএসের সব কৃতিত্ব বৈভব নিয়ে গেল বলে অভিযোগ জানায় ঈশান। তার পালটা দিতে ছাড়ল না ১৫ বছর বয়সি ব্যাটার। সদ্য দলীপ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পূর্বাঞ্চল। অধিনায়ক ছিলেন ঈশান, সহ-অধিনায়ক বৈভব। দু’টো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলেছেন শামি। তবে আরেকটা বিষয়ও সবার নজরে পড়েছে। ম্যাচের মাঝে প্রায়ই ৩৬ বছর বয়সি শামির সঙ্গে মশকরা করছিল বৈভব। আবার সেমিতে ‘বেবি বসে’র অধীনে খেলতেও হয়েছে তারকা পেসারকে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে শামি বলেন, “আমার খুব মজা লেগেছে। ও আমার সঙ্গে মশকরা করছিল। আমিও বলি, আমার কেরিয়ার তোমার বয়সের সমান। কিন্তু ওকে থামানোই যায় না। সেটা একদিক থেকে ভালো। মন খুলে কথা বলা, ভালো সতীর্থ হয়ে ওঠা ওকে ভবিষ্যতে সাহায্য করবে। বৈভব তাড়াতাড়ি শিখে নিতে পারে। আজকাল ছেলেরা কমবয়সেই পরিপক্ব হয়ে যায়।” আরও একটি বিষয় নিয়ে চর্চা চলছে। সেটার নেপথ্যে একটা রিভিউ। আসলে ফাইনালে বৈভব বলার পর একটি ডিআরএস নেন অধিনায়ক ঈশান। সেটা সফলও হয়। তাতে নেটিজেনরা বৈভবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ম্যাচের পর বৈভবের সঙ্গে আড্ডায় ঈশান বলেন, “ও সব রিভিউর কৃতিত্ব নিয়ে যায়। আমি রিভিউ নিতামই। কিন্তু ঠিক তখনই আমার পাশে এসে রিভিউ নিতে বলে। তারপর তো নেটিজেনরা বৈভবকে মাতামাতি শুরু করে। যেন বৈভবই সব করেছে।” সঙ্গে সঙ্গে বৈভব বলে, “আর আপনি যখন মাঠের বাইরে যান, তখন কে রিভিউ নেয়? সেটা তো বলে দিন।” আসলে সেমিফাইনালে অনেকক্ষণ খেলতে পারেননি ঈশান। সেই সময় নেতৃত্ব দেন বৈভব। আর সেই ম্যাচে ডিআরএস নিয়ে সফলও হয়।
প্রায় দেড় দশক পর দলীপ ট্রফি জয় পূর্বাঞ্চলের। দলীপ জয় ঈশান কিষানদের কাছে যেমন স্পেশাল, তেমনই আরও একজনের কাছে এটা আরও বেশি স্পেশাল। মহম্মদ শামি। বয়স ছত্রিশ পেরিয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন। দেশের অন্যতম সেরা পেসার বলা হয় তাঁকে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে তাঁকে। ভারতীয় জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। কিন্তু তাতেও পারফরম্যান্সের ‘খিদে’ এতটুকু কমেনি সামির। গতবার ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় সব ম্যাচ খেলেছেন। বাংলার হয়ে প্রচুর উইকেট নিয়েছেন। এবারের দলীপ ফাইনাল শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ছিল ভারতীয় পেসারের। সেই ম্যাচে তাঁর টিম ট্রফি জিতল, সেটাও ১৪ বছর পর। স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি তৃপ্ত শামি।
দলীপ জিতে ম্যাচ শেষ শামি বললেন, “আমার একশোতম ম্যাচ ছিল। আমরা দলীপ ট্রফি জিতলাম। অবশ্যই স্পেশাল অনুভূতি। অনেক বছর পর পূর্বাঞ্চল আবার এই ট্রফি জিতল। দুর্দান্ত লাগছে। সবচেয়ে বড় কথা কী জানেন, এই টিমের সবাই পারফর্ম করেছে। ট্রফি জেতার পর প্রাণপাত করেছে। হৃদয় দিয়ে খেলেছে। চেন্নাইয়ের পরিবেশ সহজ ছিল না। প্রচুর গরম ছিল। এরকম পরিবেশে কর্তৃত্ব করে ট্রফি জেতা খুব স্পেশাল। যদি আমার কথা বলেন, প্রথম ম্যাচ খেলছি কিংবা একশোতম ম্যাচ খেলছি, সেটা ব্যাপার নয়। আসল হল, চেষ্টা আর মানসিকতা একইরকম থাকছে কি না।” কিন্তু এত বছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার ঘরোয়া ক্রিকেটে এসে মানিয়ে নিতে কোনও অসুবিধে হয় না? শামির কথায়, “যখন আপনি জার্সি পরে মাঠে নেমে পড়েন, তখন অন্য কিছু আর মাথায় থাকে না। তখন আপনি কোন পর্যায়ের ক্রিকেট খেলছেন, সেটা আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। দলের জন্য খেললে, জার্সির জন্য খেললে, লড়াই করার খিদে এমনিতেই চলে আসে। যেখানেই সুযোগ পাব, আমাকে সেটা কাজে লাগাতে চাই। আর আমাকে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। দলের জন্য আমাকে পারফর্ম করতে হবে। সেটা যে পর্যায় খেলি না কেন।”
দলীপে প্রথম পর্বের ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে খেলেছিলেন। ফাইনাল চেন্নাইয়ে। বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাইয়ের দূরত্ব ঘণ্টা তিনেকের হলে কী হবে, দুই শহরের আবহাওয়ার পার্থক্য বিশাল। বেঙ্গালুরু পরিবেশ কিছুটা হলেও বোলার-বন্ধু ছিল। চেন্নাইয়ে আবার পুরো উলটো। শামি বলেন, “এ রকম পরিবেশে খুব বেশি সুইং হয় না। বাউন্সও কম ছিল। বেঙ্গালুরুতে বোলারদের জন্য পরিস্থিতি অনেক বেশি সহায়ক ছিল। চেন্নাইয়ে এখানে আমার একটাই প্ল্যান ছিল। লাইন ও লেংথ ঠিক রাখা। আর তারপর রিভার্স সুইং কাজে লাগানো। যখন পরিস্থিতি আপনার পক্ষে থাকে, তখন পরিকল্পনা কাজে লাগানো সহজ। আসল পরীক্ষা তখনই, যখন পরিবেশ আপনার বিরুদ্ধে। সেখানেই দক্ষতার আসল পরীক্ষা হয়।” ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাওয়ার পরেও জাতীয় দলের দরজা খুলছে না। শামি হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না। বললেন, “আমার কাজ শুধু কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।”
নভেম্বরে নিউজিল্যান্ড যাবে টিম ইন্ডিয়া। সেখানে দুই দেশের মধ্যে হবে তিন ফরম্যাটের সিরিজ। তার অনেক আগেই বৈভব সূর্যবংশীদের নিয়ে উন্মাদনা কিউয়িদের দেশে। ভারতের ম্যাচ দেখতে টিকিটের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা দর্শকাসন খুলে দেওয়া হচ্ছে। অন্য স্টেডিয়ামেও বাড়ছে টিকিটের চাহিদা।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট জানিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির ইতিমধ্যেই ৭৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। চতুর্থ টি-টোয়েন্টি হবে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে। সেখানেই রয়েছে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। টিকিটের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইডেন পার্কের ছ’নম্বর টিয়ার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ওই দর্শকাসন খুলছে। এর আগে ভারতের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচেই শেষবার ওই টিয়ার খুলেছিল। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল সেটি। তবে এবার শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্যই ওই টিয়ার ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট।
ভারত সফর নিয়ে উত্তেজিত নিউজিল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও। এমনকী ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন সাদা বলের সিরিজ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে খেলার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্যান্টনার বলেছেন, “সামনে ভারতের বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চারটি অ্যাওয়ে টেস্ট। এর থেকে ভালো মুহূর্ত আর হয় না। আমি উত্তেজিত। সব ম্যাচেই অংশ নিতে চাই।”
বিগ ব্যাশের প্রস্তাবটি যে আর্থিক ভাবে যথেষ্ট আকর্ষণীয় ছিল, তা স্বীকার করেছেন স্যান্টনার। কিন্তু দেশের হয়ে খেলার গুরুত্ব তাঁর কাছে বেশি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চার টেস্টের প্রতিটিতে খেলার সুযোগ হয়তো তাঁর নাও হতে পারে। তবু সামনে থাকা মরশুমের কোনও মুহূর্তই হাতছাড়া করতে চান না তারকা স্পিনার। ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরু হওয়ার এখনও সময় রয়েছে। কিন্তু তার আগেই ইডেন পার্কের গ্যালারিতে জায়গা পাওয়া নিয়ে যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই আবহে নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন স্যান্টনার।



