RK NEWZ বিদায় বার্তা! আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তি ফুটবলার আলবিদা জানালেন। জাদুকরের শো শেষ হয়ে গেলে কী পড়ে থাকে? হলভর্তি রংচঙে কাগজ, হাততালির গুঞ্জনের জলছাপ আর বিস্ময়। তা থেকেই যায়। সোমবাসরীয় সন্ধে যখন রাতের দিকে গড়াচ্ছে, তখনই ভেসে এল খবরটা। আর জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন না তিনি। আর নীল-সাদা জার্সি পরবেন না লিওনেল মেসি! অমনি এক সাধারণ ফুটবলপ্রেমীর বুকের ভিতরেও যেন অগ্নিশলাকা জ্বেলে দিল কেউ। ক্লাবের হয়ে অবশ্য খেলবেন। কিন্তু দেশের হয়ে নামবেন না আর কখনও। ভাবতে গেলে অপ্রত্যাশিত কিছু কি? আমরা কি জানতাম না এমন কিছুই হয়তো হতে চলেছে? কিন্তু সম্ভাবনা আর ঘটনা- দুইয়ের অভিঘাত এক হতে পারে না। হচ্ছে না তাই। ‘হরিপদ কেরানি’র মতো করে পিএফ-গ্র্যাচুইটির নিশ্চিত জীবন চান না চ্যাম্পিয়নরা। তাঁরা চান এমন এক ‘টাস্ক’, যেখানে নিজের হাড়-মজ্জা-রক্ত ঝরিয়ে দিতে হবে। আগুনের উপরে হাঁটা কিংবা আকাশ ছোঁয়ার উপমাও দেওয়া যেত। আসলে লিওনেল মেসির অবসর এক সাধারণ ফুটবলপ্রেমীর বুকের ভিতরেও যেন অগ্নিশলাকা জ্বেলে দেয়। নানা কথার ফুলঝুরি জ্বলে ওঠে। স্মৃতিতে ভেসে আসে অসামান্য সব গোল… করা কিংবা করানো! তবে তার সঙ্গেই মনে পড়ে, বিশ্বজয়ী হওয়ার পরে বিশ্বকাপের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকার সেই মুহূর্ত। কিংবা এই তো ক’দিন আগে দেখা বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর কান্নায় ভেঙেচুরে যাওয়া একটা মুখ। মেসি মানে মুহূর্তের কোলাজ। জাদুকরের শো শেষ হওয়ার কথাটা বলা হয়তো ঠিক নয়। শো চলবে। তবে নীল-সাদা জার্সির মাহাত্ম্য ফুরিয়ে গেলে কতটুকু আর পড়ে থাকবে? মেসির কি এরপর মাঠে নামতে গেলে মনে পড়বে শুরুর দিনগুলোর কথা? বয়স তখন মাত্র ১৩। আর্জেন্টিনা ছেড়েছেন। ততদিনে সকলেই বুঝতে পেরেছেন ঠিকমতো প্রশিক্ষণ পেলে এই ছেলে অনেক দূর যাবে। কিন্তু এত প্রতিভা সত্ত্বেও তাঁর শারীরিক বৃদ্ধি ততটা হচ্ছিল না। আর তাই নিয়মিত বৃদ্ধির হরমোন ইনজেক্ট করাতে হচ্ছিল শরীরে। এত কষ্টের পরও মেসি সব ভুলে যেতেন মাঠে নেমে। পায়ে বল মানেই যেন এক আশ্চর্য ভ্রমণ। একজন প্রকৃত পারফর্মার এই আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখতে চান না কোনওদিনই। মেসিও রাখেননি। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার চাপ সেই আনন্দের সমান্তরালে বয়ে যেত। অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপে দেশকে কাপ এনে দিয়ে হয়ে ওঠেন জাতীয় তারকা। সেই শুরু। সেই থেকেই প্রত্যাশার পারদ তাঁকে ঘিরে আকাশ ছুঁয়েছে। বিশ্বকাপ জিতিয়েও রেহাই মেলেনি। এবারও শুরু থেকেই যেন তাঁর একার কাঁধে জাতীয় দলের পতাকা। স্রেফ ক্লাবের হয়ে খেলায় ততদূর চাপ থাকবে না এই বয়সে, এমন রত্নখচিত মুকুট মাথায়। বরং নিজেকে আরও বেশি বালক হিসেবেই দেখতে পাবেন তিনি। একেবারে বাল্যকালের মতো পায়ে বল নিয়ে ছুটে যাওয়ার সেই আনন্দভুবনে এবার ছুটে বেড়ান আপনি, মেসি। ফুটবলের রাজপুত্রের সেই ভালোবাসার ছুট দেখতেও মুখিয়ে থাকব আমরা, যাদের কাছে মেসি মানেই ম্যাজিক, মেসি মানেই মূর্চ্ছনা, মেসি মানেই মায়া।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় ঘোষণা করলেন লিওনেল মেসি। সোশাল মিডিয়ায় বিদায় বার্তা জানিয়েছেন আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তি ফুটবলার। নীল-সাদা জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচে ১২৫টি গোল করেছেন। ২০২২-এ বিশ্বকাপ জেতেন। এর আগে ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকা ফাইনাল হারার পর অবসর গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তারপর ফিরে এসে ফাইনালিসিমা, দু’বার কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জেতেন। ২০২৬-র বিশ্বকাপ ফাইনালে হারতে হয়েছে। তারপর মেসির বাবা প্রয়াত হন। সোশাল মিডিয়ায় তিনটি হাতে লেখা কাগজ আপলোড করেছেন মেসি। সেই লেখাই ক্যাপশনে দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘ বার্তায় লেখা, ‘খুব কষ্টে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। কিন্তু বুঝতে পারছি, সময়টা এসে গিয়েছে। আমি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়েছি। আমি সবসময় এই জার্সিটার জন্য লড়াই করেছি। ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে ও আর্জেন্টাইন হিসেবে আপনাদের গর্বিত করতে চেয়েছি। সময় ফুরিয়ে আসছে। আমার আর দেওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া কিছু অসাধারণ ফুটবলার উঠে আসছে, যারা এই দলে থাকার যোগ্য।’ সেই সঙ্গে ইন্টার মায়ামি মহাতারকা এটাও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের দু’দিন পর অর্থাৎ ২১ জুলাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ৩৯ বছর বয়সি ফুটবলারের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার যে শেষের পথে তা বিশ্বকাপের সময়ই আন্দাজ করা গিয়েছিল। ফাইনাল হারের পর অঝোরে কেঁদেছিলেন। এরপর প্রকাশ্যে আসে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির অসুস্থতার খবর। ৭ আগস্ট প্রয়াত হন হোর্হে। তারপর আবেগপ্রবণ হয়ে লিও পোস্ট করেছিলেন, ‘তুমি থাকতে পারলে না। চেয়েছিলাম বিশ্বকাপ জিতে তোমার কাছে যেতে। নতুন ট্রফি দেখাতে চেয়েছিলাম। পারিনি। আমার পা আর চলছিল না। শারীরিক অবস্থার বিরুদ্ধে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি।’ তখনই যেন ইঙ্গিত ছিল মেসির বিদায়ের। অবশেষে সেই আশঙ্কা সত্যি হল। গত কয়েক বছরে মেসিকে কেন্দ্র করেই আর্জেন্টিনা ফুটবল দল তৈরি হয়েছিল। ২০০৫ সালে প্রথম আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপান। প্রথম ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন। সেখান থেকে ২১ বছর অবসর ঘোষণা। মেসির আন্তর্জাতিক বিদায়ে একটা যুগের পরিসমাপ্তি।
আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তি। গত ২১ বছর ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফুটবল বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু আর সেই জাদু দেখা যাবে না। সে কথা ভেবে চোখে জল ফুটবলভক্তদের। কেউ কাঁদছেন, কেউ ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। আর্জেন্টিনা দলের সতীর্থরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছেন। প্রাক্তন সতীর্থ ডি মারিয়া-জাভিও বিদায়বার্তা জানিয়েছেন। সোশাল মিডিয়ায় তিনটি হাতে লেখা কাগজ আপলোড করেছেন মেসি। সেখানেই ‘বুকে কষ্ট নিয়ে’ বিদায়ের কথা জানিয়েছেন। তার কমেন্টে একদা সতীর্থ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের সেরা করার জন্য ধন্যবাদ। তুমি তো অন্য দলকেও বেছে নিতে পারতে। কিন্তু তুমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছ। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ অধিনায়ক। তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।’ উল্লেখ্য, মেসি স্পেনের হয়েও ফুটবল খেলতে পারতেন। আর কোপা হোক বা বিশ্বকাপ, মেসির স্বপ্নপূরণে নেপথ্য নায়ক ছিলেন ডি মারিয়া। মেসির সতীর্থ রড্রিগো ডি পল লিখেছেন, ‘তুমি কখনও যুদ্ধ থেকে পালাওনি। তোমার নেতৃত্বের জন্য আমরা এত ভালো খেলতাম। তোমাকে শুধু ধন্যবাদ বলতে চাই। তুমি নিজেও জানো না, কত মানুষের মুখে তুমি হাসি ফুটিয়েছ। তুমি চিরকালীন।’ ফিফা থেকেও ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘গ্রাসিয়াস’। মনখারাপ ডেভিড বেকহ্যামের। বার্সেলোনায় প্রাক্তন সতীর্থ ও পরে কোচ জাভি লিখেছেন, ‘অনেক অভিনন্দন। তুমি আর্জেন্টিনার হয়ে যা যা অর্জন করতে চেয়েছিলে, তার সব করেছ। অনেক ভালোবাসা রইল তোমার জন্য।’ চোখে জল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মেসি-ভক্তের। তাঁরা লিখছেন, ‘ফুটবল আর আগের মতো থাকবে না।’ অনেকে অনুযোগের সুরে লিখেছেন, ‘এটা কেন করলে লিও।’ ২০০৫ সালে প্রথম আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপান। প্রথম ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন। সেখান থেকে ২১ বছর অবসর ঘোষণা। মেসির আন্তর্জাতিক বিদায়ে একটা যুগের পরিসমাপ্তি। বিদায় বার্তায় মেসি লিখেছেন, ‘খুব কষ্টে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। কিন্তু বুঝতে পারছি, সময়টা এসে গিয়েছে। আমি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়েছি। আমি সবসময় এই জার্সিটার জন্য লড়াই করেছি। ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে ও আর্জেন্টাইন হিসেবে আপনাদের গর্বিত করতে চেয়েছি। সময় ফুরিয়ে আসছে। আমার আর দেওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া কিছু অসাধারণ ফুটবলার উঠে আসছে, যারা এই দলে থাকার যোগ্য।’




