Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

নেপালে নিখোঁজ ২৭৫ ভারতীয়!‌ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে

RK NEWZ বিপর্যয়ের পর তিন দিন অতিক্রান্ত। মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে নেপালে। শনিবার রাত পর্যন্ত ৬৬৯ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও খোঁজ মিলছে না অন্তত ২,৩৬২ জনের। নেপালে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। গুরুতর এই পরিস্থিতির মাঝেই শনিবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক রিপোর্ট সামনে এসেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপালের বিপর্যস্ত এলাকা থেকে ১০৮ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যদিও এখনও নিখোঁজ ২৭৫ জন। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। যেখানে লেখা হয়েছে, বিপর্যয়ের ৩দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও নেপালে নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৫ জন ভারতীয়। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে ১০৮ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আরও ৫০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিব্বত সীমান্ত দিয়ে চিন থেকে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন ৫৯৮ জন ভারতীয়। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এখনও চিনে আটকে রয়েছেন প্রায় ৯০০ জন ভারতীয়। বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাস সরাসরি এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং দ্রুত তাঁদের ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি খোঁজ মেলেনি ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূতের। তাদের খোঁজে নেপাল সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ভারতীয় দূতাবাস। এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে নেপাল বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এখনও পর্যন্ত সেখানে মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ছ’শোর বেশি মানুষের। নিখোঁজ ২০০০-এর বেশি মানুষ। এই অবস্থায় শনিবার নেপালের তরফে উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞ দলগুলিকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। এরপর ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সহায়তাকারী দলগুলি আসতে শুরু করেছে। উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য শুক্রবারই ভারত থেকে ১১ সদস্যের এক বিশেষজ্ঞ দল নুয়াকোটে পাঠানো হয়। শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছে তারা। ওই দলে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার অভিযানে পারদর্শীদের পাশাপাশি রয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরাও। ভারত থেকে আরও বেশ কয়েকটি দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক শনিবার জানিয়েছে, এ দিন থেকে যে দলটি কাজ শুরু করেছে তারা সুড়ঙ্গ খননে অভিজ্ঞ আরও একটি দল পাঠানোর জন্য বলেছে। সেইমতো আরও একটি দল নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পাশাপাশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দলও শনিবার কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। যাঁদের দেহ উদ্ধার হয়েছে, তাঁদের ডিএনএ-র নমুনা পরীক্ষা করবে ওই দল। হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে এ রাজ্যেরও ৩৯ জন আটকে পড়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবারই জানান, তাঁদের মধ্যে দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা গিয়েছে। তাঁরা বসিরহাটের বাসিন্দা। বাকি ৩৭ জনের সঙ্গে শুক্রবার রাত পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়নি। শনিবার জানা যায়, বসিরহাটের ওই দম্পতি অনুকূল পোদ্দার এবং রেবা পোদ্দার নেপাল থেকে বিহার হয়ে রওনা দিয়েছেন এ রাজ্যের উদ্দেশে। বিহারের রক্সৌল থেকে মিথিলা এক্সপ্রেসে করে হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তাঁরা। রবিবার ভোরে হাওড়ায় পৌঁছোনোর কথা। কলকাতার এক ভ্রমণ সংস্থা জানাচ্ছে, দম্পতির সঙ্গে নেপাল থেকে বিহার হয়ে ফিরছেন আরও ১০ জন। তাঁদের মধ্যে ওই ভ্রমণ সংস্থার দুই কর্মীও রয়েছেন। সময় থাকতে থাকতে চালক বাস ঘুরিয়ে নেওয়ায় এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচেছেন বসিরহাটের ওই দম্পতি। বিপর্যয়ের ঠিক আগে অনুকূলদের বাস তখন তিব্বত সীমান্তের অভিবাসনকেন্দ্র থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরে। অনুকূল জানান, ওই সময়ে বাসচালক আচমকা গাড়ি থামিয়ে দেন। জানান, হড়পা বান দেখা দিয়েছে। বাস আর এগোতে রাজি হননি তিনি। গাড়ি ঘুরিয়ে নেন কাঠমান্ডুর দিকে। বাসটি যে জায়গায় দাঁড়িয়েছিল, কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই জায়গাটি ভেসে যায় বানের তোড়ে। বিপর্যয়ে নেপালে আটকে পড়াদের বেশির ভাগই পর্যটক। গিয়েছিলেন কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের জন্য। তিব্বত সীমান্তের কাছে গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যায় নদীর জল ও কাদামাটির প্রবল স্রোতে। তার পর থেকে উদ্ধারকাজ চলছে। রাসুয়া জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ হচ্ছিল। হড়পা বানে সেই প্রকল্প এখন ‘সলিল সমাধি’। শনিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ওই এলাকা থেকে এ দিন চার জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে। ওই চার জনের পরিচয়ও জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ওই চার জন হলেন রিপু কুমার, চানেশ্বর নারজ়ারি, কৃপা শঙ্কর এবং মহম্মদ মিনহাজুদ্দিন। তাঁরা কোথায় থাকেন, তা এখনও জানা যায়নি। প্রতিবেশীর বিপদ মুহূর্তে শুরু থেকেই পাশে থেকেছে নয়াদিল্লি। পাঠিয়েছে ত্রাণসামগ্রী। নেপালের বিপর্যস্ত এলাকায় এখনও পর্যন্ত ৫৭.৬ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। এই দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নেপাল সরকার। দিল্লি যে ভাবে কাঠমান্ডুর পাশে দাঁড়িয়েছে, তা নরেন্দ্র মোদীর ‘উদারতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তারা। শনিবার বিকেশ পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles