RK NEWZ পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত জাতীয় ক্রীড়াদিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, লিয়োনেল মেসি-কাণ্ডে প্রতারিত সমর্থকদের টাকা ফেরাতে সাহায্য করবেন। তিনি কলকাতার কোন প্রধানের সমর্থক, সেটাও জানিয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতায় এসেছিলেন লিয়োনেল মেসি। তবে বিশৃঙ্খলার জেরে সেই অনুষ্ঠানে মেসিকে ভাল করে দেখতেই পাননি সমর্থকেরা। তাঁরা বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভও দেখান এবং টিকিটের দাম ফেরত চান। সেই টাকা এখনও তাঁরা ফেরত পাননি। শনিবার জাতীয় ক্রীড়া দিবসের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, প্রতারিতেরা যাতে সেই টাকা ফেরত পান তার জন্য সাহায্য করবে রাজ্য। পাশাপাশি, তিনি কলকাতার দুই ফুটবল দলের মধ্যে কার সমর্থক সেটাও জানিয়েছেন। ডিসেম্বরের সেই অনুষ্ঠানে মেসি যুবভারতীতে হাজির থাকার সময় মাঠে প্রচুর লোক ঢুকে পড়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ভিড়ের জেরে মেসি এবং তাঁর দুই সঙ্গী লুই লুয়ারেস ও রদ্রিগো দি পল ঢাকা পড়ে যান। দর্শকাসন থেকে মেসিকে দেখাই যায়নি। এত ভিড় দেখে মেসিও নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। সেই ঘটনার পর অরূপ ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। আয়োজক শতদ্রু গ্রেফতার হলেও এখন তিনি জামিনে মুক্ত।
ওই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেছেন, “আমাদের রাজ্যে মেসির মতো খেলায় কেলেঙ্কারি হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা মেসির সমর্থক। তারা ছ’হাজার, চার হাজার, আট হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে প্রতারিত হয়েছে। ডেলিভারি বয়ের মতো ছেলেরাও সারা বছরের জমানো টাকা খরচ করে গিয়েছিল মেসিকে দেখতে। আমাদের ইচ্ছা আছে, ৩৩ হাজার প্রতারিত সমর্থকদের টাকা যাতে ফেরত দিতে পারি বা ফেরত করাতে পারি, সেই প্রক্রিয়াও ভেতরে ভেতরে চালাচ্ছি। আশা করি সেটা করতে পারব।” এ দিনের অনুষ্ঠানে ১৪৭ জন ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা এবং আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি ২৬ লক্ষ টাকা পেয়েছেন শুটার অভিনব সাউ। তিনি জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনা এবং শুটিংয়ের মিক্সড ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। এ ছাড়া অ্যাথলেটিক্সে তাহুরা খাতুন ১২.৫০ লক্ষ, জিমন্যাস্টিক্সে প্রণতি দাসেরা ১০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। অনেককে চাকরিও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “আজ যাঁদের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, ১১ বছর ধরে তা মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে পড়েছিল। সরকার বদলের পর আমরা সেই চাকরি দিলাম।” কেন বাংলা থেকে পর্যাপ্ত ক্রীড়াবিদ উঠে আসছে না তা নিয়ে আফসোস করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “অলিম্পিক্স, এশিয়ান গেমস বা কমনওয়েলথ গেমসে বাংলার প্রতিনিধি কার্যত শূন্য। পাশের রাজ্য ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। বাংলায় তা হলে কী নেই? আসলে বাংলা পিছিয়ে পড়েছে অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা এবং সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছে, আট মাসের বাজেটে ক্রীড়া দফতরের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও জিম-সহ আধুনিক মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। প্রথম ধাপে হবে ১০০টি স্টেডিয়াম। এ ছাড়া জীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা অরবিন্দ স্টেডিয়াম এবং অচল সাব-ডিভিশনাল ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে সচল করা হবে। জাতীয় স্তরের ক্লাবগুলিকে ১ কোটি টাকা করে সাহায্য দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে কিছু দিন পরেই বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া, পদক জিতলে বড় অঙ্কের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের শুরু থেকেই আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের বরাদ্দ আনতে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং প্রধান সচিব অবনীন্দ্র সিনা সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন। প্রাথমিক ভাবে ১০০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লি থেকে যাতে আরও ১০০০ কোটি টাকা আনা যায়, সেই দায়িত্ব তিনি নেবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, ময়দানের বড় ক্লাবগুলিকে নিয়ে বৈঠক করবেন। তার পরেই হাসতে হাসতে তাঁর মন্তব্য, “আমার বাড়িতে দু’রকমই রয়েছে। আমি মোহনবাগান, আমার মা ইস্টবেঙ্গল।” এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের মধ্যে বুলা চৌধুরী, জ্যোতির্ময়ী শিকদার, সোমা বিশ্বাস, মহম্মদ আলি কামার, দিব্যেন্দু বড়ুয়া, এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে হাজির ছিলেন।




