Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভোটেকোশী ফুঁসছে!‌ ফের বান আসতে পারে? নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬০০ পেরোল! কাদামাটির স্তূপ থেকে উদ্ধার আরও দেহ

RK NEWZ জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে পুলিশ এবং নেপালি সেনাবাহিনী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় চলছে প্রাণের খোঁজ। যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নেপালের হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ৬০০ পেরিয়ে গেল। কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত নেপালের পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৬১৬। এখনও অনেকে নিখোঁজ। ফলে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভোটেকোশী নদীতে এখনও বানের আশঙ্কা রয়েছে। নেপালের পুলিশ শনিবার সকাল ৬টায় যে তথ্য দিয়েছে, তাতে চিতোয়ান জেলা থেকে ২৩৩টি, নওয়ালপারসি পূর্ব থেকে ১৫৮টি, গোর্খা থেকে ৪৮টি, নওয়ালপারসি পশ্চিম থেকে ৪৭টি, ধাদিং থেকে ৪৫টি, নুয়াকোট থেকে ৪১টি, তানাহুন থেকে ৩১টি এবং রাসুয়া থেকে ১৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে পুলিশ এবং নেপালি সেনাবাহিনী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় চলছে প্রাণের খোঁজ। যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। হড়পা বানের পর সীমান্তবর্তী কিছু কিছু জায়গার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে কাঠমান্ডুর। সেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া পৌঁছোনোর আর উপায় নেই। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে ফেলার কাজও একই সঙ্গে করছেন নেপাল কর্তৃপক্ষ। কারণ, ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদী এখনও ফুঁসছে। কাদামাটির স্রোত বইছে নদীতে। শনিবার সকাল পর্যন্ত খবর, নতুন করে আর জল বাড়েনি। তবে ফের বানের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, হড়পা বানের পর চিন সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় জলের গতিপথ বন্ধ হয়ে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়ে গিয়েছে। তা প্রায় ভরে উঠেছে। সেখানে জল আরও বাড়লে হ্রদ উপচে পড়ে ফের স্রোত ছুটে যেতে পারে লোকালয়ের দিকে। রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে বান আসে। হিমালয়ে হিমবাহ ফেটে কাদামাটি আর জলের স্রোত ধেয়ে এসেছিল লোকালয়ে। গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে সেই প্রবল স্রোত। কোথাও কোথাও স্রোত উঠে গিয়েছিল তিনতলা বাড়ির সমান। জল নেমে যাওয়ার পর শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ভারত শুরু থেকেই নেপালের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল। ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দলও পাঠাবে নয়াদিল্লি। নেপালে এখনও ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ। তাঁদের অধিকাংশ পর্যটক, কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিলেন।

হড়পা বান বিপর্যয়ে বিদেশি সাহায্য নেবে না বলে জানিয়েছিল নেপাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপের সামনে তাদের নতিস্বীকার করতে হয়েছে। নেপাল রাজি হওয়ার পরেই সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারত। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল জানিয়েছেন, নেপালের অনুরোধেই ভারত পদক্ষেপ করছে। কী ভাবে উদ্ধারকাজে সাহায্য করা হবে, সেই পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি। রণধীর তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘‘নেপালের অনুরোধে আমরা সেখানে একটা উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তার জন্য আগে নেপালে যাবে একটি পরিস্থিতি-পর্যবেক্ষণকারী(রেকি) দল। তারা গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। কী কী সরঞ্জাম দরকার হবে, খতিয়ে দেখা হবে।’’ ওই দলটির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভারতের মূল উদ্ধারকারী দল রওনা দেবে নেপালের উদ্দেশে। নেপালে একটি মেডিক্যাল টিমও পাঠাচ্ছে ভারত। রণধীর জানান, নেপালে সেতু (বেইলি ব্রিজ) তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত, যাতে বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিচ্ছিন্ন জায়গাগুলির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।

গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে আচমকা হড়পা বান আসে। কাদামাটি ও নদীর জলের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাড়ি, মানুষ খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৭৯। তবে বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। নেপালে এখনও ৩২০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের অধিকাংশই পর্যটক, গিয়েছিলেন কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে। অন্য অনেক দেশের নাগরিকেরই কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকে। নেপাল প্রথমে জানিয়েছিল, উদ্ধারকাজে তারা কোনও বিদেশি সাহায্য নেবে না। তাদের সেনাবাহিনী এবং পুলিশ-প্রশাসনের উপরেই ভরসা রাখছিল বলেন্দ্র শাহের সরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবারই বলেন্দ্রকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভারত ত্রাণসামগ্রীও পাঠিয়েছিল বায়ুসেনার বিমানে। কিন্তু উদ্ধারকারী দল পাঠাতে দেয়নি নেপাল। অবশেষে শুক্রবার আন্তর্জাতিক চাপের কাছে তাদের নতিস্বীকার করতে হয়েছে। যে সমস্ত দেশের নাগরিক নেপালে নিখোঁজ, সেই সব দেশ উদ্ধারকাজে হাত লাগানোর জন্য কাঠমান্ডুকে বার বার অনুরোধ করছিল। শেষপর্যন্ত তাদের রাজি হতে হয়েছে। ভারত ছাড়াও নেপালকে উদ্ধারকাজে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিল চিন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ব্রিটেন, আমেরিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles