Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মোদির জনপ্রিয়তা বনাম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেন জি

RK NEWZ এখন ভোট হলে কত আসন পাবে এনডিএ? কী বলছে দেশ? সোশাল মিডিয়ায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ঢালাও প্রচার চললেও বাস্তবে দেশের মন কিন্তু এখনও ঝুঁকে মোদি শাসনের দিকেই। মোদির জনপ্রিয়তায় খামতি নেই, এখন ভোট হলে কত আসন পাবে এনডিএ? নিট থেকে ই-২০, কৃষক থেকে পড়ুয়া, গত কয়েকমাসে দেশজুড়ে বিদ্রোহ ও আন্দোলনে জর্জরিত হয়েছে মোদি সরকার। সোশাল মিডিয়ায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ঢালাও প্রচার চললেও বাস্তবে দেশের মন কিন্তু এখনও ঝুঁকে মোদি শাসনের দিকেই। সম্প্রতি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র ‘মুড অফ দ্য নেশন’ (MOTN Survey 2026)-এ প্রকাশ্যে এল সেই তথ্য। যেখানে দাবি করা হয়েছে, এখনই দেশে লোকসভা নির্বাচন হলে ৩২৬টি আসন জিতে ফের ক্ষমতায় আসবে এনডিএ। এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির গ্রহণযোগ্যতাই সবচেয়ে বেশি। সি ভোটার দ্বারা পরিচালিত ‘মুড অফ দ্য নেশন’-এর আগস্ট ২০২৬-এর যে রিপোর্ট সামনে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, এখনই যদি দেশে লোকসভা ভোট হয় তবে বিজেপি পাবে ২৬১টি আসন। ৬ মাস আগে এই সংস্থার যে রিপোর্ট সামনে এসেছিল সেখানে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল ২৮৭। অর্থাৎ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (ম্যাজিক ফিগার ২৭২) ক্ষমতাসীন ছিল বিজেপি। তবে এবার সেই সংখ্যাটা কিছুটা কম হলেও এনডিএ শরিকদের সাহায্যে ক্ষমতায় আসতে বিজেপির কোনও বাধা থাকবে না। এই সমীক্ষায় কংগ্রেসের পরিসংখ্যানও বেশ আশাব্যঞ্জক। রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনই ভোট হলে কংগ্রেস ১০৬টি আসন জিতবে। গত জানুয়ারি মাসের রিপোর্টে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ছিল ৮০টি। অর্থাৎ আসন বাড়তে চলেছে হাত শিবিরের।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনই ভোট হলে কংগ্রেস ১০৬টি আসন জিতবে। গত জানুয়ারি মাসের রিপোর্টে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ছিল ৮০টি। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে ৪০০ পারের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। রিপোর্টে স্পষ্ট, যে গত দু’বছরে গেরুয়া শিবিরের জনপ্রিতায় কিছুটা ভাটা পড়লেও এনডিএ-র প্রতি ভোটারদের আস্থা অটুট রয়েছে। তবে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে জেন-জি শাসকদলের মাথাব্যথা হয়ে উঠতে চলেছে। যদিও, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তায় বিশেষ ভাটা পড়েনি। ৪৮.৭ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিকেই চান। এর পাশাপাশি তালিকায় যথাক্রমে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (২৭.১%), টিভিকে প্রধান থলপতি বিজয় (৯.২%), তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (২%), সপার অখিলেশ যাদব (১.৭%), সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (১.৩%) এবং আপের আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল (১.২%)। প্রতি বছর ২ বার ‘দ্য মুড অফ দ্য নেশন’-এর রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের দ্বিতীয় সংস্করণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল ১ জুলাই থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে। ২৫,১৮৪ জনের থেকে তথ্য নেয় সমীক্ষক সংস্থা।

অপরদিকে, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর থেকে ভারতে শুরু হয় তরুণদের বিক্ষোভ। গোটা দেশের চর্চায় উঠে আসে জেন জি। বিজেপির সহ-সভাপতি রাম মাধব দাবি করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জেন জি রয়েছে এদেশেই। এবং বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপিতেও দেশের নব্য প্রজন্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ব্যাপক।
মাধবকে বলেন, আমি বিজেপি থেকে এসেছি। আমাদের ‘ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা’ নামে একটি যুব শাখা রয়েছে। আমাদের দলে বিপুল সংখ্যক তরুণ অনুসারী রয়েছেন যাঁরা সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাশে আছেন। এছাড়া আরএসএস, যা দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী যুব সংগঠন, সেখানেও জেন জি-র সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ‘অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ’ (এবিভিপি)-তেও ওঁদের উপস্থিতি অত্যন্ত ব্যাপক।” জেন জি বলতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারী তরুণদেরই বোঝায় না, বরং এর পরিধি আরও বিস্তৃত। ভারত এমন একটি দেশ যেখানে বিপুল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। আমাদের তরুণদের নিয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। ভারতের যে কোনও তরুণ গোষ্ঠী— তাঁদের কোনও উদ্বেগ বা সমস্যা থাকলে—তা সরকারের কাছে তুলে ধরতে পারে। বর্তমান সরকার সবসময়ই তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। আর গত মাসে দিল্লিতে ঠিক সেটাই ঘটেছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে এভাবে নানা ভাগে বিভক্ত করা বন্ধ হোক। বর্তমানে প্রচলিত হওয়া নতুন সব পরিভাষা—যেমন জেন জি, জেন আলফা বা মিলেনিয়াল— এ বিষয়ে কিছুটা সতর্ক হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে কত ভাগে বিভক্ত করতে চাওয়া? শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি থেকে একচুল নড়েনি জেন জি। অথচ পুরো আন্দোলনটাই ছিল মোটের উপর শান্তিপূর্ণ। পরে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরে আন্দোলন শেষ হয়। কিন্তু সেই সময় থেকেই জেন জি-কে চর্চার শেষ নেই দেশে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles